Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Nabya Rasayani Bidya"

See other formats


চা শু 
সরি র 


২ ৮৭ ৭) - -সাহিত্য-পরিষদ্-গ্রস্থাবলী নং ১৯ 


বাশ হজ 





টা, হা 
রঙ ু শর 


৭ আপি সইত ৬ 


রসা নী বিদ্য] 


রা হর 


লা, রা ৪৯ মী টি 
ও তাহার ৭2. - চু 


উৎপন্তি রহ রা 


এজ; ১... ++ 
*তাল+৩% 


০৪৮9 
কী 


রে 
শপ মর শা এ তি রি 
০০০ 


সঃ 


টে 
১১ 


ওরে বাছা! মাত-কোষে রতনের রাজি, 
এ ভিখা বী-৪শা। তবে কেন তোর আজি? 
শ্রীমধুহুদন। 


বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ কর্তৃক. 
প্রকাশিত | 


কলিকা ত1 :--৬৪ নং কলেন্স ছ্ীট দিটি বুক মোসাইটাতে প্রাপ্তবা । 


ঠ ৪ 
|) 
৮. ১৯০৬ 


[01700900১১7 0. 98170228000 1060651 00761701081] 
31081) 17100110£ ৬/021৭- 
€০416%4//7 


স্ুচীপত্র 


প্রথম অধ্যায়।, 

ফ্লজিষ্টনবাদ ও নৃতন বাধুর আবিষ্কার ১০ ১ 
দ্বিতীয় অধ্যায় । 

লাবোয়াসিয়ে ও অশ্নজান রঃ ১০০ ৯০৮ ১০-২৬ 


ততীয় অধ্যায় । 
কণাদমুনি জন ডালটন ও পরমাণুবাদ *** ₹* ১৭৪১ 
চতুর্থ অধ্যায় । 
জোসেক্ষ ব্রাক গক্ষার ভি ৪4 ০০৯ ৪২---৪৮ 
| পঞ্চম অধ্যায় | 


ইউরোপে বিজ্ঞান্চর্চ 
রয়াল ইন্ট্টিটী উশন-_ইছাব উৎপত্তি ও কার্ধ্যকারিত।--নবা রসার়নী 


বিদ্যার এক অধ্যায় (“প্রবাণী' হইতে উদ্ধাত।) -** ৪৯-_৫৯ 
ষষ্ঠ অধ্যায় । 
নবযতর রসায়নী বিদ্যা (শ্রীবধূকুষণ দত্ত লিখিত) »** ৬৯ -৭১ 
সপ্তম অধ্যায়। 


জানাোল্লাতি ও ভারতের অধঃপতন ৬৪ ন্‌ ণ২--৮৯ 


পা 


''অশুদ্ধি সংশোধন 


অশুদ্ধ 
আব্ক্ষার 
কপিল 
[নকল 


রশ্ির সহিত 


ফল 
পষ্ঠে 


শুদ্ধ । 


প্রকাশ 
কপিশ 
নির্ভল 
রশ্মি হইতে 
সফল 
পৃষ্ঠায় 


ভূমিকা । 


অধিক দিনের নয়-_পাচ নাত বগসর পুর্বের কথ! বপিতেছি, লেখ- 
কের মনে এই সংস্কার ছিল যে যখন ইংবান্ী আমাদের রাজভাষা 
এবং শিক্ষেত ব্যক্ত মাত্রেরই এই ভাষা অধ্যয়ন করিতে হয় তখন 
মাতৃ ভাষায় বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ নল প্রণয়নের প্রয়োজন কি? বিশেষতঃ 
পারিভাষিক শব্দ সকল নংকলন করা বড়ই ছুফর ধ্যাপার। এই সকল 
শন্দ যে কেবল দুরূহ তাহ! নয়, অনেক স্থলে হূর্বোধ ও শ্রতিকটু। 
বাস্তবিক যাহার। বিজ্ঞান শান্সজ আলোচনা ও অধ্যয়ন কহেন তাহার। 
জানেন ষে ইংরাজীতে এই বিষস্্ক গ্রন্থ পাঠ করা কত স্ুথকরু। বাঙ্গাল। 
ভায়ায় কোন বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ ব। প্রবন্ধ পড়িতে গেলে তাহার ইংরাজী 
পরিচ্ছদ, অবয়ব ও স্বরূপ মানস নেত্রের সম্মথে অগ্রে উপস্থিত হয়। 
এমন কি মাঝে মাঝে ই"রাজী কোন্‌ কথার কি পরিভাঁষ। ব্যবহার 
হইয়াছে তাহ] (নির্ণয় করিবার জন্য থম্কিয়! দ্াড়াইতে হয়। সকল 
হানে সম্যক্রূপে ভাব পরিগ্র্ও হইয়। উঠ না। এই সকল কারণে 
অগ্রসর হওয়1 দায়। আমার বেশ মনে আছে যখন আমি সর্বপ্রথম 
রূদায়নশান্ব পড়িতে আরম্ভ করি মাইনর ও ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষার নির্দিষ্ট 
একখানি বাঙ্গাল “সরল”' রসায়নে ০9০17 ৫10%199 (921)07010 
8010 &%৪) কার্বন ডাইঅকৃমাইড এই শব্দের অনুরূপ পরিভাষ। 
“ছ্যান্লিকাঙ্গার” আমায় বিভীষিক! প্রদর্শন করিয়াছিল। মনে করুন 
বক্তৃতা দিবার সময়ু--**]7 5০৬9197 110019 18 087)01)10 2১০1] 
£%ও 425301৪4” তাহার স্থলে “সর্জিকাক্ষার বারিতে দ্ব্যান্ত্িকাঙ্গার 
বায়ু দ্রশীভূত আছে" বাবহার কর গেপ। তবেই তখিপদ। প্রায় 
আট বৎসর হইল শ্রদ্ধের্র অধ্যাপক শুযুক্ত রামেন্দ্র হুন্বর ক্রিবেদী 


(9০ ) 


সাহিত্য পরিষদে “রাসায়নিক পরিভাষা” নামক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। 
তাহার সমালোচনায় অকৃসাইড অব ক্লোগিণ (০1969 ০0101070715 ), 
এব্ন অনুরূপ ““দগ্ধহরিণ”' শব্দ ব্যবহার হইয়াছে দেখিয়া! বলিয়াছিলাম 
যে অনেক বিলাত ফেরত পাঠকের 1075 ৮০1501॥এর কথা মনে 
পড়িয়া! মুখে লাল! সঞ্চ'র হইবে। 


যা হউক শ্ীত্র সমালোচন] ও ব্যঙ্গ করা বড়ই সহজ। একটু 
প্রনিধান করিয়া দেখ। যাউক। এখন শিক্ষিত অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের 
পরীক্ষার্থী বা পরীক্ষোন্ীর্দ বাক্তিমাত্রেই অ'জ কাল কিছু না কিছু 
বিজ্ঞান চচ্চ। কঁরয়। থাকেন। কিন্তু তাহারা সংখ্যায় বা কয়জন : 
প্রতি সর এফ,এ ও বি,এ পরীক্ষার্গার সংখা। দেখিয়া আম্রা ভয় পাই । 
কিন্তু ভেবে দেখুন আট কোনি বাঙ্গালীর মধ্যে ৪1৫ হাজার ছাত্র সমুন্দ্র 
শিশির বিন্দু তুপ্য। অন্যদিক হইতে একটা উদ্দাহরণ লওয়! যাক। 
শ্বদেশীয় ঃহোদয়গণ পরিচালিত কয়েকথানি ইংরাজী সংবাদ পত্র আছে 
তাহার পাশাপাশি কয়েকখানি বাঙ্গাল। সংবাদপত্রও এদেশে চলিতেছে । 
গড়পড় 1 ধরিলে বোধ করি এমন দড়াইবে যে ইংরা্তভী সংবাদ পত্র 
অপেক্ষা বাঙ্গাল] খবরের কাগজের পাঠক সংখা। অন্যুন খিশগুণ। 
হঈতে পাবে যে দুই একখানি সংবাদ পত্রে সকল সময়ে সুরুচিপুর্ণ 
পাঠোপযোগা, প্রবন্ধ থাকে না। কিন্তু স্পর্ধার সহিত একথা বল! 
যাইতে পারে ইহাদের মধ্যে অধকাংশ ক্ষেত্রে কেবল বঙ্গদেশ বা 
ভারতবর্ষের নয়, সমস্ত জগতের রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি। 
লৌকিক ব্যবহার প্রভৃতি নানাবিষয়ক জ্ঞানগর্ভ অবশ্য জ্ঞাতব্যবিষয় 
প্রকাশিত ও আলোচিত হয় । শ্রদ্ধেয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় 
সম্প্রতি একটী সারগর্ভ প্রবন্ধে বেশ বলিয়াছেন যে আমাদের দ্রমাত্মক 
সংঙ্ষার জন্মিয়াছে যে “শিক্ষা সম্বন্ধে এই বুঝি যে “কোন মতে সাড়ে 


(৬০ ) 


নয়টা দশটার মধ্যে তাড়াতাড়ি অন্ন গিলিয়! বিদ্য। শিক্ষার হরিণ্বাড়ীর 
মধ্যে হাঞ্জির দেওয়1।” এখন সংবাদ পত্রগুশি জন সাধারণের মধো 
[শক্ষা বিল্তারের একটা প্রধান সহার়ও অবলম্বন হুইয়! উঠিয়াছে। 
অনেকেই জানেন মহামতি কব্ডন একবার পালেমেন্ট মহাসভায় 
বলিক্নাছিলেন যে সমগ্র গ্রীক ইতিহাস অর্থাৎ হেরোডোটাস (13810- 
19/৪5 ), থিউসিডাইডিন (1)00৮1099 ) ইত্যাদি পড়িয়া যাহা! ন।| 
শিখা যায় একথানি টাইম্ন (111)63 ) পত্রিক1! পাঠ করিলে তাহ! 
অপেক্ষ। বেশী জ্ঞানলাভ হুয়। দেশের ছুর্গতি ও ছুরবস্থার ব্ষিয় এখন 
চিন্তাশীল ব্যক্তি মাত্রেই আলোচন। করিয়া! থাকেন, তাছারা বিলক্ষণ 
খুঝিয়াছেন যে যতর্দিন একদিকে মুষ্টিমেয় শিক্ষিত সম্প,দায় এবং 
অন্ঠদিকে কোটী কোটা নরনারী অজ্ঞান অন্ধকারে নিমগ্ন থাকিবে তত 
দিন আমাদের উন্নতির পথে অগ্রসর হইবার আশ খুব কম। ষাহার! 
ইংবাজীভাষ| অবলম্বন করিয়া বিজ্ঞান শিখিতেছেন তাহার অগাধ 
জলরাশির মধ্যে শিশির বিন্দুর ন্তায় প্রতী মান হইয়া থাকেন । মহ" 
মতি বাকল ইংলগু ও জন্মানদশের শিক্ষাবিস্তার তুলনা করিতে 
1গুয়। দেখাইফাছেন যে জন্মান দেশে সব্ববিদ্যায় অসামান্ত প্রতিভ'শাপী 
“লাক জন্ম গ্রহণ করিয়াছেন অনচ রাঞ্নৈতিক উন্নতি বিষয়ে ইংলগু 
অপেক্ষ। পশ্চাৎপদ | ইহার কারণ এই যে জন্মান দেশীহ্ন পঞ্ডিতগণ 
চিন্তালাগরে নিমগ্ন হইয়া এমন এক 'পণ্ডিতী” ভাষ:র 
স্থষ্ট্রি করিয়াছেন যে তাঃ1 কেবল সঙ্কীর্ণ গ্গণ্ভীর” মধ্যে সীমাবদ্ধ $ 
সে সমস্ত উচ্চভাব সমাজের নিম্নতর স্তরে অনুপ্রবিষ্ট হইতে পারে না। 
ইভার ফল এই হইগাছে যে সুষ্টিমেক শিক্ষিত সম্প,দায়ও জন সাধারণের 
মধ্যে একরূপ একটী অনতিক্রম্য প্র'চীর স্থাপিত হইয়াছে । 
কিন্তু ইংলগ্ডে বহুকাল হইতে বিজ্ঞান বিষয়ক সাধারণের বোধগম্য 


(109 ) 


অনেক সরল পুস্তক প্রকাশিত হওয়ায় জন সাধারণের মধ্যে তাহার 
ভাব ও স্থৃপ্মমন্্র প্রবেশ করিতে পারিয়াছে | এই প্রকার শ্রেণীগত 
পার্থকা আমাদের দেশ অতাধিক প্রবল । আমারও একটা কথা, 
আমরা! এত ক্ষণ ইংরাজী শিক্ষাপ্রাপ্ন ও লরেট অন্র্দলের কথা বলি- 
লাম। ইহার মাঝামাঝ একদল পড়িঘা রৃহিলেন। অর্থাৎ যাহার 
কেবলমাত্র সংস্.তশান্ত্রের অধ্যয়ন ও ব্য'খানে তী। ইস্হারা কলাপ 
ও পাণিনি ; কালিদাস, মাঘ ও ভারবী : জটিল শ্যাশাস্ত, এততিন্ন কেদে, 
"বদাস্তও দর্শন লইয়াই বান্ত। মোটানউ বলিতে গেলে তাহার! 
১৫০০ হইতে ছুই ভাজার বৎসর পূর্বের ভারতে বার করেন। ইহ. 
দিগকে আমর! অবশ্য হার শিক্ষিতসম্প্রদায়ের মধো গণনা কঠিতে 

ভিত হই ;কিস্তু আবার উত্ভারাঁই সনাজে “পণ্ডিত” উপাধিধারী 
একং ইহােব আধিপত্য জনসাধারণের উপর বব্রটাশশাসন অপেক্ষা 
অর্দিক বিস্তৃত ও কঠোব। এই শশ্রশ্গাকে একেবারে বাদ দিলে 
চনতব না। ইহাদের একঘেছে সেকেলে শিক্ষার $ন্থ 
সম।জে বে কুফল ও অনিষ্ট স'ধন হইয়াছে তাঙা সপুম অধ্যায়ে আলে" 
চ্ভহইয়াছে। কেহ কেহ বপিবেন যে ইংরাজী শিক্ষাবিল্তারের সঙ্গে 
সঙ্গে এই শ্রেণী লোপ গ্রাপ্ত হইতেছে । কিন্ত তালা ঠিক নয়। 
গবণ্মেণ্ট হইততে “উপাধি” প্রদানের ফে পরীক্ষা গৃহীত হয় তাহার 
“আদ্য' “মধ্য” ও “উপাধি” এই তিন বিভাগে কেবল বঙ্গদেশে 
প্রতিবৎমন্র শন্যন ৪৫০০ পরীক্ষার্থী উপন্থিত হইয়া থাকেন। সমগ্র 
টোলের ছার সংখা! ইহাপেক্ষা অনেক 'আপদক ! অতএব দেণা যই- 
/তছে বাঙ্গাল ভাষায় বিজ্ঞানের গ্রপ্ধ সকল প্রচারিত হষ্টতৈে আরম্ত 
হকলে এমত সহত্র সহত্র ইংরাজী অনভিজ গাঠক পাঠিকাগণের হাতে 
'পৌঁছিবে যাহা ইংরাজী ভাষান্ন লিখিত গ্রন্থের পক্ষে কাচ সম্ভব নয় । 


(1৩ ) 


অবশ্ত যাহার] বিজ্ঞান চর্চায় জীবন অতিবাহিত করিয়া মৌলিকতত্‌ 
নির্ণয় ও গবেষণায় সর্বধদ। ব্যাপূত থাকিবেন তাহাদের কথ। স্বনত্ত্র। 
তাহার] ইংরাজী কেন জর্মন ও ফরাঁসীভাষায় রচিত গ্রন্থাবলী৪ পাঠ 
করিতে বাধ্য হন। 


আমাদের বলার উদ্দেখা এই যে যাহারা “শিক্ষিত” বলিয়া! অভি- 
হিত তাহাদের বিজ্ঞানের মূল তাতৎপর্য্য গুলি জান নিতান্ত গ্রয়োজন 
ঠ দাড়াইয়াছে অর্থাৎ আধুনিক উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিমাত্রেরঈ বিজ্ঞান 
শান্ত স্বন্কীয় সাধারণ বিষয় গুল মোটামুটি জানা বিশেষ আবশ্যক । 
কুষ ও জ্রাপান দেশীয় বৈজ্ঞানিকগণ নিজ নিজ ভাষাকে এত দরিদ্র « 
হেয় জ্ঞান করিতেন পে ১৫। ২০ বৎসর পূর্বে তাার। জর্মমন, ফরাদী 
বা ইংরালী ভাষায় গ্রন্থ প্রচার করিতেন। কিন্তু এখন তাহার বেশ 
বন্ঝতে পারিয়্াছেন ষে ম'তিভ'ষ'য় গ্রন্থ প্রচার না হইলে গদেশের 
প্রকৃত মঙ্গল সাধিত হয় না। আমিজানি প্রায় ২* বৎমন পুব্বে অর্থাৎ 
যখন অ'মি এডিনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যরন করিতাম আমার হই জন 
বন্ধ, যাহার! এখন রাপায়নিক অগতে সুপরিচিত, বাধ্য হইয়! রুষভাষা 
শিক্ষা করেন কারণ হুপ্রমিদ্ধ রসায়নবেত্ত। মেগেলেফ, ( 110001661 £ 
01306618101 19 17১6£10010 [,0৬৮) জন্মীনভাষ। পরিত্যাগ করিম 
নিজ অর্থাৎ কুষভাষার় পুস্তক লিখিতে আরম্ভ করেন। জম্প্রন্তি 
দেখিতেছি জাপান দেশীয় বৈদ্ঞানিকগণও এই পথ অবলম্কন করিতে- 
ছেন। আমাদেরও চুপ করিয়া থাক] উচিত নন্ন। “সাহিভ্য পরিষৎ?' 
এবিষয়ে বিশেষ বত্ববান হইয়াছেন। শ্রদ্ধেয় শ্রীদক্ত রাচেন্দ্রনুন্দর 
ঠিবেদী মহাশয় ঝাঁসাক্নিক ও অন্তান্ত পরিভাষ! প্রণয়ণ করিয়া এবিষয়ে 
যথেষ্ট উপকার করিয়াছেন । অধ্যাপক ঘোগেশ্চন্দ্র রাঁয়ও এ বিষয়ে শ্রম 
স্বীকার করিতে ক্রটী করেন নাট! শ্রধু্ত জগদানন্ব রায় উর 


(1409 ) 


পত্রকায় যে সকল সুন্দর প্রবন্ধ লিখিতেছেন তাহ! দ্বার] প্রমাণ 
হইতেছে ষে একটু যত্ব করিলে পরিভাষার জন্য কাজ আটকায় না * 

হিন্দুজাতি রসায়নশান্ত্রে কতদুব পারদার্শতা ও বুৎপত্িলাত 
কর্রয়াছিলেন এই প্রশ্নের মামাংসাম্র প্রবৃত্ত হুইয়! আজ ১৭ বৎসর 
যাবৎ অনেক প্রাচীন বৈদ্াযাক ও তান্ত্রিকগ্রন্থ অভিনিবেশ পূর্বক পাঠ 
করতে ইয়াছে। ইঙ্বাতে জান। গিয়াছে যে বহুকাল হইতে এদেশে অনেক 
গুল পারিভাষিক শব্দ প্রচলিত আছে। কিন্তু সেগুলি আমরা এক 
প্রকার ভুলিয়া গিয়া নুতন শব্ধ সংকলন করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছি। 
বাছাতে আফুব্বেদ ও তন্ত্রোক্ত শব্দ গুলির পুনরুদ্ধার হইয়া] প্রচ'রিত 
হয় এমত চেষ্টা কর! কর্তব্য। সময়ে সময়ে পুর্ব-প্রচপিত শব গুলির 
এমন অপব্যবহার হইয়াছে ষে তজ্জন্ঠ ক্ষে/ভ উপস্থিত হয়। ৪৭ পৃষ্ঠার 
'পরিক্ত বারি” শীর্ষক প্রস্তাব পড়িলেই ইহা জদঙ্গম হইবে 
সন্দেহ নাই! পাঠকগণ মনে ব্বাথিবেন রসায়ন-শান্ত্রের উৎপত্তিও 
আলোচনা করাই এই গ্রন্থের উদ্দোগ্য তবে প্রসঙ্গত্রমে এই শাস্ত্ের 
ভিত্তিম্বরূপ কতকগুলি মুল তাতৎপধ্য সাধারণকে বশদ্রূপে বুঝাইবার 
চেষ্টা কর! হইরাছে। জটিল বচন ব হৃুত্রগুপি একবারে বর্জন 
কল। গিছে। রগসায়নশান্ত্রের ইতিহাদ আলোচনা করিলে স্পট 
প্রতীয়মান হঠ্ঘ যে প্রাচীন গ্রীক, আরব্য ও হিন্দুদিগের মধ্যে যে সমস্ত 
ভাৰ প্রচলিত ছিল তাহার! পরস্পর বিরোধী নয়। বরং অন্তনিছ্িত 
স্ত্রগুপি প্রায়ই এক রকম। এই সকল মতের পামঞ্জল্য বিধান 
করিবার চেষ্টাকরা হইয়াছে । বাঙ্গাল ভাষায় "রুসায়ন? শব 
আরবরা “কিনিয়া” এবং ইংরাজী “কেমি রহ: পৰিবন্তে 


* ঝাশীস্থ নাকী প্রচারিণী দ্1! ও এই বিষয়ে ব্রতী হইর়1 প্রশংসাহ” কাধ্য 
করিতেছেন। 


(1৩০ ) 


বাবহত ১ইয়। আসিতেছে কিন্তু এই শব্দটা স্থনিবাচিত ও সমাক 
মনোনীত বোধ ভয় না। বশহার। আযুণব্বদ শার্ছে বাহপন্ন তাহাদের 
নিকট ইহ। ভিন্নার্থ বোধক। দ্য ভেষজ শ্ত্স্থ বাক্তির পক্ষে ওজস্কর 
ও রোগীর রোগ নাশক ভা'হ!ই বুষ্য বা রসায়ন বলিয়া! শাস্ত্রে উক্ত 
হইযাছে। যথ'-_ভ্রিফলা রসায়ন, লৌভ রসায়ন ইতাদি। বে 
বিদ্যাবলে বসান প্রস্তর কবণেব ভ্ঞ'নলাভভ ভন গ্রকারান্তবে সেই 
বিদদাকেও রসায়ন নল হইতেছে । কিস্তু তন্্রশান্সে এই বিদ্যাকে 
শবুসসিদ্ধি' নাম দেওয়া তইয়াছে এবং যাহার! এই নিদায় পারদশী 
তাহারা “রসসিচ্ধ' বা “বসসিদ্ধি প্রদায়ক” নামে অভিষিত।1 রুদ্র- 
যামলান্তর্গত “ধা ভপক্রয়)” নামক তনন্ত্র এই বিদা] রসায়নীবিদাা নামে 
উল্ভ। ভইয়াছে । আমরা তাভাই গাহণ করিলাম । 

প্রেসিডেন্দট কলেজের রাসায়নিক বিভাগের প্রধণন সহকারী 
যুক্ত গে'পীড়ষণ সেন এই গ্রন্থ সন্গলন বিষয়ে যথেষ্ট শ্রন স্বীকার 
করিয়াছেন । এই জন্ত ভাহার নিকট বিশেষ কতজ্ও র'হলাম । 
অন্যতম সঙগকারী শ্রীমান বিধুভুষণ দন্ত “নব্যতর রসায়নীবিদ।” 
শীর্ষক অপ্যায় লিখিয়াছেন সুতরাং ইভ তাশ্ারই নামে প্রচারিত 


* চত্বস্ত--চিকিৎসা-স্তান ১ম অধথায়। 
শা্গথির বলিলেন-_রসায়নঞ্চতজঙ্জেরং খজ্জরাবাধিনাশনম্‌ | 
1 যশ: -সপ্তবিশভি স*্খ্যকা রদনিদ্ধি প্রদায়ক।ঃ । -_- ইতি রসরওঙ সমুচ্চর 


0111510১011 1010111117010)1511)75 270 £৭১ ৭৮ ১১ পৃহ ভ্রষ্থব্য । 


প্রথম অধ্যায় । 


ফজিষ্টনবাদ ও নৃতন বায়ুর আবিষধা্ঈ২ 


আমরা ষে কয় জন বৈজ্ঞানিকের আবিষ্ষারকাহিনী বলিতে 
প্রবৃত্ত হইলাম "তাহাদিগকে নব্য রসায়নী বিদ্যার তৃৃষ্টিকর্ত। 
বলিলেও অতুক্তি হয় না। ইহাদের মধ্যে জোসেফ গ্রীষ্টলির নাম 
সব্বাগ্রে উল্লেখ যোগ্য । 

জোসেফ প্রীষ্টলি দরিদ্রের সম্তান। শৈশবে তাহার উপযুক্তরূপ 
শিক্ষালাভ ঘটে নাই ॥ কিন্তু বাল্যকাল হইতেই তিনি পাঠে বিশেষ 
মনোযোগী ছিলেন । প্রথমাবস্থায় তিনি ধশ্খ্যাজক ছিলেন। কিন্তু 
তোত্ল| বলিয়া শ্রোতৃবর্গ তাহার উপদ্দেশে বিম্পেষ আকৃষ্ট 
হইতেন না| জীবনযাত্র। নির্বাহ অবশেষে তাহাকে গণিতশাস্ত 
এবং ল্যাসিন ও গ্রীক ভাষার অধ্যাপন। কার্ষ্যে ব্রতী হইতে হয়। অবসর 
মত তিনি পদার্ধঘবিদ্য। ও রসায়ন শাস্ত্র সম্বন্ধীয় নান! প্রকার গবেষণায় 
ব্যাপৃূত থাকিতেন। ক্রমে অনেক প্রকার “বান্ধু” গ্রাস) তাহার দ্বার! 
আবিষ্কৃত হয়। পরে যে ছাস্যোঙ্গীপক বাধুর কথা উল্লিখিত হইবে 
উহ! এঁ সকল বায়ুর অন্যতম । * 


নব্য রসায়নী বিদা। 


অনুমান ১৭৬৪ খ্রীষ্টাব্দে চৌত্রিশ বৎসর বয়সে প্রীষ্ঘলি রসায়ন জগতে 
যে যুগান্তর উপস্থিত করেন, তাহা সম্যক রূপে হদয়ঙ্গম করিতে গেলে 
সে সময়ে দন প্রক্রিয়া! সন্বন্ধে জন সাধারণের কিরূপ ধারণ। ছিল তাহ 
অগ্রে জানা আবশ্যক । “শুফ কাষ্ঠ অগ্নি সংযোগে প্রজ্জলিত হয়, কিস্তু 
প্রস্তর প্রজ্জলিত হয় না কেন?” প্রাচীন পণ্ডিতগণ এ বিষয়ে অনেক 
আলোচন! করিয়াছিলেন। ষ্টাল প্রমুখ পিতগণ বলিতেন যে কাষ্ঠে 
এক প্রকার হুক্ষ্স পদার্থ অলক্ষিতভাবে "মাছে, এ নিমিত্তই কাঠ দহন- 
শীল। অঙ্গার, গন্ধক, তৈলাদি দাহ বস্ততে ৪ এই সক্ষম পদার্থ বন্ত'মান 
আছে এবং ইহার ভোঁতিক (77129119] ) অস্তিত্বে তাভার। 
বিশ্বাস করিতেন। এই সুক্ষ পদাথকেই কাহার ফ্লুজিষ্টন (07010219607) 
নামে অভিহিত করিয়াছিলেন । তাহাদের তে দাহ্বস্ত মাত্রই 
যৌগিক পদার্থ এবং ফ্লজিষ্টন প্রত্যেকেরই অন্যতম উপাদান। দাহা 
বস্ত সমূছে পরস্পর যে পার্থক্যের উপলব্ধি তয় তাহা? কেবল 
ফ্লজিষ্টনের পরিমাণের তারতম্য বশতঃ এসং অন্যতর উপাদানের ধর্্ভেদে 


ঘটি থাকে। 


দহনকালে যে বস্তু দ্চ হইতেছে, তাহর ফ্লছিষ্টন বহির্গত হইয়। যায় 
এবং এই নিমিত্তই উত্তাপ, মালোক ও অগ্রিশিথা পরিলক্ষিত হয়। 
এই ফ্লুজিষ্টনই সর্বপ্রকার রাসায়নিক পরিবর্তনের মূলে বর্তমান। 
একট! উদ্দাহরণ লওয়1 যাক। যথাঃ__দস্ত! উত্তাপ প্রয়োগে প্রজ্জলিত 
হইয়! এক প্রকার শ্বেত ভন্মে পরিণত হয়। 


যেমন কাষ্ঠ দগ্ধ হইয়া গেলে দগ্চাবশেষ থাকে সেইরূপ ধাতু ও অগ্নিদগ্ধ. 
₹ইলে “থাতুভম্ম”” অবশিষ্ট থাকে | এই ধাতুভন্ম অতাস্ত 
লঘু। আফুর্ষেদে ব্যবহৃত “মারিত” বা “পুটিত” লৌহ এত লঘু যে 
'ফ্ুৎকার প্রায়োগে উড়িয়! যায় । এমন রি জলের উপর নিক্ষেপ করিলে 


ও তখছার উৎপতি। ও 


উহা! ভাসিতে থাকে ।* এই কারণে লোকের ধারণ! ছিল যে ধাতু 
মাত্রেই যৌগিক পদার্থ এবং লঘুতর ধাতুভম্মই ইহার অন্যতম উপা- 
পান। সাধারণতঃ এই মত যুক্তিমৃক্ত বলিয়া বোধ হইলেও ইহ! যে 
ভ্রমসঙ্কুল তাহ! পরে প্রতিপন্ন কর! যাইবে । 

হিন্দু দার্শনিকগণ অনাপ্রকারে এই সমস্যার পুরণ করিতেন। 
তাহাদের মতে কাঠাদি পদার্থ সমূহ পঞ্চভূতাত্মক ৷ ইহাদিগের বায়- 
বীম্ঘ উপাদানগুলি অগ্নি সংযোগে চলিয়া যায়, কেবল “ক্ষিতি,র অংশ 
টুকু অবশিষ্ট থাকে | ইহাই ভম্ম। স্ুৃতরাং যে পরিমাণ কাষ্ঠ ব৷ 
ধাতু ভম্মীভূত হয়, ভন্মাবশি্ পদার্থ তদপেক্ষা অনেক লঘু হইয়! 
থাকে 7 

ইঈয়ুরোপীয় রাসায়নিক পণ্ডিতগণ বলিতেন যে ধাতৃভস্ম এবং 
“ফ্লুজিষ্টন” এই, ছুই যৌগিক পদার্থের সংযোগে ধাতু উৎপন্ন হয়। 
উত্তাপ প্রয়োগে এই ফ্লজি্টন দূরীভূত হইলে কেবল ভকম্ম পাঁড়িয়। 
থাকে। 

আরব দেশীয় রাসায়নিক পগ্ডিতগণের মতে পদার্থ মাত্রই লবণ 
গন্ধক এবং পারদ সংযোগে উৎপন্ন |] গন্ধক থাকে বলিয়াই পদার্থ 


ত স্প ০০০ স্পশীশ শা শ ০৮ শািশ শপশিশ শি শা শশী সপ শপ শপ শ্ স শ্স্ত্ 


*ম্বতং লোহং তু দদক্টং রেখাপূর্ণাভিধানতঃ 
হংসবৎ তীষ্াতে বারিণুত্তমং পরিকীত্তিতম্‌। 


1 বৈশেধিক দর্শনমতে তৈলাদি দাহা পদার্থে "ম্েহ” বর্তমান আছে? ইহাই 
খ্গ্নি প্রজ্ছলনের কারণ । 


7 এই শবত্রয় দ্রব্যের গুণজ্ঞাপক বুঝিতে হইবে, অর্থাৎ 


লবণ ০৮ অদাহাভাগ (ভল্ম ), 
গান্ধাক দাহা ৬ 
পারদ মু তেজঃ, জ্যোতি ইত্যাদি। 


ধাতু যাত্রেই পারদের অংশ আছে বলিয়1 ধাতুর গুণবিশিষ্ট ( ধাতুর “নারণ'' ও, 
“গুন রতিত কষ্ধণ' দ্রষ্টব্য). * 


৪ নব্য রসাঁয়নী বিদা 


সমূহ অগ্নিতাপে দগ্ধ হয়। এবং পারদের জন্যই পদার্থ বিশেষে ধাতব- 
গুণ বর্তমান আছে। আবার লবণ বর্তমান থাকার জন্তই ধাতু নিচয়. 
দ্রবীভূত হুইতে পারে। 

এই আরবীয় সিদ্ধান্তের সহিত হিন্দুদ্দিগের পঞ্চভূতবাদের অনেক 
সাদৃশ্য আছে। এমন কি অনেকে অন্বমান করেন বে আরবগণ এ 
বিষয়ে কিনুরিগের নিকট খর । &াঁলে? ক্লজিষ্টন বাদ আবার আর- 


বীয় “লবণ-গন্ধক-পারদ'” বাদের রূপান্তর বিশেষ। 
যাহা হউক যুরোপে ফ্লজিষ্টনবাদ কিছু কালের জন্য আ'দৃত 


হইয়। ছিল, কিন্তু প্রীষ্টলি, ক্যাবেখিস, লাবোয়াসিয়ে প্রভৃতি 
পণ্ডিতগণের পরীক্ষা দ্বারা অগিরে উহা ভ্রমসন্ক,ল বলিয়া! গ্রাতিপন্ন 
হইয়াছিল । এই বিষয় বিস্ততরূপে বল! যাইতেছে | 

বহুকাল হইতে তান্ত্িক মতে “পারদভশ্ম” ওষধ রূপে ব্যবজত হইয়া 
আসিতেছে । পারদতম্ম তিন প্রকার হইতে পারে বলিয়া তদ্গে উক্ত 
আছে, বগা--শ্বেতভন্ব) কৃষ্চভল্ম ও লোহিত ভন্ম। প্রস্তত করিবার 
প্রণালী ভেদে এই লোহিতভল্ম আবার ছুই শেণীতে বিশক্ত--যথা 
হিঙ্গল ও রসসিন্দুর বা মকরধ্বজ। এই দ্রই শ্রেণীর লোহিত ভঙ্ম 
ভিন্ন আর এক প্রকার লোছিতবর্ণ ভন্ম আছে | তাছা আমাদের দেশে 
ঝড় প্রচলিত ছিলনা, কিন্তু স্থল বিশেষে তাহার উল্লেখ পাওয়া] যায়। 
এই লোহিত ভন্থ প্রস্তুত করিবার জন্ঠ লবণ গন্ধক না স্মটিকারি প্রভৃতি 
কোন পদার্থের প্রয়োজন নাই। পারদকে অগ্রি সম্তগু করিলে তাহার 
উপরি ভাগে সরের ন্যায় “পারদ মল” জমিতে থাকে (১১ পৃঃ দ্রষ্টবা)। 
বিশেষ পরীক্ষা করিলে দেখা যার যে এই “সর” রক্তবণ 


ক্্রায়তন দানার সমষ্টি মাত্র । 
কিন্তু কেবল উত্তাপ প্রয়়োগেই ঘষে পারদ এই প্রকার ভন্মে পরিণত, 


হয় তাখা! নহে । বাহির হইতে বাকু প্রবেশের প্রশন্ত পথ ধাক। 


ও তাহার উৎপত্তি | € 


খসরশাক। তাহার নিমিত্ত উত্তাপ যন্ত্রের গঠন বিশিষ্ট প্রকারে হওয়। 
ডাই । তাহা না হইলে উত্তাপ সংযোগে পারদ কেবল উদ্ধগামী 
হইবে (উবিয়া যাইবে); এই কারণে রসার্বে এবন্ত্রবিদা। 
মহাবল।”৮ উক্ত হইয়াছে এবং ঝ্সসিদ্ধিপ্রদাক়কগণ ওঁধধ 
বাতিরেকে৪ পারদ ভন্দীকরণ সম্বন্ধে বিম্ময় ও প্রশংসা প্রকাশ 
করিয়াছেন ।* তরল ও চপল পারুদের সহিত অন্ত কোন 
বস্ত সংযুক্ত না করিয়া ও উহার কঠিন (৯০114) লোহিত বর্ণ ভন্মে 
পরিণতি মতাস্ক বিন্য়কর ব্যাপার বলিয়! পরিগণিত। এই লোহিত 
শস্মকে প্রচীন আরবীয় রানায়নিকগণ 17767601109 (16108005 
1১০ ৯ বা প্রকৃত পারদভন্ম নামে অভিভিত করিতেন।  গুণিঞ্লি 
এই পোহিতভশ্ম লা ন!নাবিধ পরীক্ষা করেন। একদ। 
আতপকাচঁ দ্বারা! কুর্ধ্যধশ্ি কেন্ত্রীভূত করিয়া এই লোঠিত 
উত্তপ্ত করিতেছিলেন, তাহাতে এক প্রকার “বাম, (গাল) নির্গত 
হইতে শ্গাগিল। ত্রীষ্টলি এই নুতন বসুর একটা অভিনব গুণ দেখিয়। 
খিশ্মিত হইলেন যে ইহাতে দাহা পদার্থ সকল অতি সহজে অভুঃজ্জল 
'দাপ্তি লহ কারে দগ্ধ হইতে লাগিল । 

পাবদের পরিবণ্ভ দি পীদক গলান বায় এবং ক্রম গত লৌহদণ্ড 
দ্বাব] মনন করা বায় তাহ! হইলেও এক প্রকার লোহিত বর্ণ ভন্ম উং- 
পন্ন হয়, তাহ।ই তান্ত্িক শান্তি 'নাগসিন্দুর' চলিত ভ্ঃষায় হহাকে 
মেটে সিঁদুর বলে ॥ 


চর রাগ 





* জারণে পারণে চৈব রসরাজ স] রঞ্জনে 
যন্মমেব পরং কন্ম বন্ত্রবিদ্য 1 মহারল। 
ওষধিরছিতশ্চায়ং হঠাৎ হস্ত্রেন বধ্যতে 
'তল্নাৎ যগ্ত্রবঙ্গং চৈকং বিলজ্ঘাং বিজানতা ৷ -রসার্ণব। 
1 আতস কাচ (1347016 £1555 ) সাহাহ্যে, যথেষ্ট উত্তাপ প্রাপ্ত হওয়] যাইতে 
পারে। কথিত আছে ধে 'সরাকুন্ব অবরোধের সময় আকিমিডিস্‌ হার 
বার] রোমীয় বিদ্ধ পৌঁত কম্পেন।, 


৬ নব্য রসায়নী বিদা। 


প্রীষ্টলি নাগসিন্দুর হইতেও পুর্কোল্লিথিভ বায়ূ প্রস্তত করিতে 
সমর্থ হইয়াছিলেন। তিনিপার্দ ও সীসকভম্ম হইতে ষে 
বায়বীয় পদ্রার্থ বাহির করিলেন তাহা লইয়া নান! 
প্রকার পরীক্ষা করিয়া দেখিলেন যে এই “বাসুতে'” 
বন্তিক1ও কাষ্ঠীদি পদার্থ সমূহ বিশেষ উজ্জল ভাবে জলিতে 
থাকে এবং উহার দ্বাব! শ্বাসপ্রক্রিয়া অতি স্ুনররূপে 
নিম্পন্ন হইতে পারে । শ্রীষ্টলি আরও দেখিতে পাইলেন যে 
উন্দুর বদ্ধ বাযুতে যতক্ষণ জীবিত থাকিতে পারে সাধারণ বায়ুর 
পরিবর্তে ধদি এই নুততন বাধু বাবহাঁর করিতে পায় তবে 


পূর্বাপেক্ষা অধিক সময় জীবিত থাকিতে পারে। 
থে প্রকার প্রাচীন ধরণের যন্ত্রের সাহায্যে প্রীষ্টলি নুতন নূন বায়ু 


আবিষ্কার ও সংগ্রহ করিয়াছিলেন তাহার প্রতিকৃতি দেওয়া হইল । 





ও তাহার উৎপত্তি । ৭ 


ক একটি বোতল। ইহার মধো জোহচুর্ণ ও গন্ধকদ্রোবক সংখোগে 
উৎপর উদ্‌জান বায়ু সংগৃহীত হইতেছে । জলপুর্ণ একটা পিপার মধ্যে 
সচ্ছিদ্রকাষ্ঠফলকফের উপর কতকগুলি স্তস্তাকৃতি জলপূর্ণ কাচপাত্র 
উপুড় করিয়া রাখা হইয়াছে । এইগুলি ক্রমশঃ নানাবিধ বাসুতে পূর্ণ 
হইতেছে । খ, স্তস্তাক্কৃতি কাচপাত্রে পারদ বা জলের উপর 
সংগৃহীত “বায়ু” আবদ্ধ করিয়! রাখ! হুইয়াছে। 





পরীষ্টলি কর্তৃক ব্যবহৃত নানাবিধ যকঘন্ত্র ও কাচকুপা। 


প্রীষ্টলি অনেক প্রকার নুতন বায়ু আবিষ্কার করিয়। বিজ্ঞানভাণ্ড- 
রের শ্রীবৃদ্ধি সাধন কক্েন এই জন্ত তিনি বায়বীয় রসায়ন শান্তর 
আদিগুরু ব। জন্মদাতা নামে অভিহিত ভইয়াছেন। যে সময় 
প্রীষ্টলি এই সমস্ত গবেষণায় ব্যাপৃত ছিলেন ঠিক সেই সময়ে ন্থইডেনের 


৮ নবা রসায়নী বিদা! 


রাজধানী ষ্টকহছলম নগরে এক দরিদ্র যুবক কোন ওষধালয়ের একটা 
নিভৃত প্রান্তে বসিয়া স্বীয় গ্রতিভাবলে উদ্ভাবিত প্রণালীমতে নানা- 
বিধ পরীক্ষা করিতে করিতে অগ্নজান বায়ু ম্বতন্ত্র ভাবে আবিষ্কার 
করেন। একটী কাচের কুপীতে সোরা রাখিয়। ৰালুক। যন্ত্রের উপর 
পচগ্ড উত্তাপ দেওয়া হইতেছে-_অন্লজান বায়ু নির্গত হইয়া ক “ফুকনির”, 
(91900৩7) মন্ধা প্রবেশ করিতেছে এবং উহ] ক্রমশঃ স্বীত হইতেছে। 
এই প্রকারে “বায়ু” সংগ্রহ করিতে পারা যায় কটে_ বিত্ত উহ! *শ্ত 
উপায় নয়-কারণ এস্থলে “বাবুর” জহিত সাধারণ বাতাস মিশ্রিত ভইয়া 
থাকে । যে সময়ের কথা বলা হইতেছে সে সময়ে ইংলও ও সুইডেনের 





মধ্যে যাতায়াতের সুবিধা ছিঙ্গন] স্থতরাং ওীষ্টলি ও উক্ত স্থইডেনবাসী 

| শীলে (5৫9616) সমসামস্সিক হইলেও কেহ কাহারও পরীক্ষার বিষয় 
পরিজ্ঞাত ছিলেন না 1 

প্রীষ্টলি এই আবিষ্কার করিলেন বটে কিন্ত তিনি ইহার নিগুঢ় 

মর্ম সমা/ক গ্রহণ করিতে সক্ষম হন নাই। বংশপরম্পরাগত সংস্কার 

গুলি মানব হাদয়ে এমন দঁঢ়রূপে বদ্ধমূল থাকে যে নুতন আলোক 

পাইলেও আমরা তাহার সাহায্যে সহসা পথ দেখিতে পাই না। 


ও তাহার উৎপত্তি । ৪ 


আমাদের দেশে জাতিভেদ প্রথ! বহুকাল হইতে জমাজের জ্বরে স্তার 
এমন প্রবেশ করিয়াছে যে শিক্ষিত হইয়াও আমরা তাগার গ্রভাব 
এড়াইতে পারিন1। চাউল জল দিয়! কিচু কাল সিদ্ধ 
করিলে ভাত হর। এই গ্রক্তিয়া হিন্দুই হউক বা মুনলমাঁনই হউক, 
ব্রাঙ্গণ হউক ব1 চগণ্ডাল ₹উক যেই করিবে তাহার দ্বার। সম্পন্ন হইতে 
পারে! কিন্তু শুদ্রের “হাতে” ত্রাঙ্গণ ভোজন করিবেন ন1। বদি 
বুঝিতাম শুপ্রের দ্বার! অন্ন পাক হইলে উহ] ভালরাপ প্রস্তত হয় না,বা 
তাহার মধ্যে কোন প্রকার বিষাক্ত পদার্থ গ্রহ্ষ্ট হয় তাহ! হইলে 
কোন আপত্তি ছিল না। বিস্তৃতাহাই কি? যদি কোন "উচ্চ- 
বর্ণকে' জিজ্ঞাস! করেন বে “হীনবর্ণের” প্রস্তুত জন্নব্যপ্ন ভোজনে কি 
দোষ তাহ! হইলে তাহার কে'ন যুক্তিযক্ত উত্তর পাইবেন না। 
'থাইতে নাই” এই পর্যান্ত- যিনি বড় শান্ত্রজ্ঞ তিনি হয় তমনু- 
সংহিত। হইতে ছুই একটা শ্লোক জাবুত্তি করিবেন। 

প্রীষ্টলিও প্রচলিত মতের বাঁহরে যাইতে সাহশী হন নাই। পর 
অধ্যায়ে দেখ! যাইবে যে তাহার আহিষ্কারের গুকৃত মশ্খ গ্রহণ করিতে 
কেবল ফরাসী দেশে একজন বৈজ্ঞানিক সমর্থ হইয়াছিলেন। 


দ্বিতীয় অধ্যায় । 


লাবোয়াসিয়ে ও অশ্জান। 


প্রীষ্টলির নান! বিষস্ষিণী প্রতিভা কেবল রাসায়নিক রহস্য উদঘ1- 
টনে নিয়োজিত থাকিত না। ধর্ম সম্বন্ধীয় কটতক ও ব্যাকরণ শাস্ত্র 
আলোচনা তাহার বড় প্রিয় ছিল। একা গ্রচিত্ততার অভাবে তিনি 
নব্য রসায়নশান্তরের প্ররুত সৃষ্টি কর্তী হইতে পারেন নাই । প্রপিদ্ধ প্ডিত 
লাবোয়!সিয়ে সে গৌরবের অধিকারী । 

পূর্বে আমর] ধাতুভন্মের কথ! উল্লেখ করিয়াছি । লাবোয়া- 
লিয়ে বঙ্গভম্ম লইয়! বু পরীক্ষা করেন। কি উপারে বঙ্গ (রাং) 
ভন্মে পরিণত হর ও কেন হয় এই বিষয় অনুসন্ধানে তিনি 
ব্যাপৃত থাকেন। 

প্রাচীন ধিন্দু ও গ্রীক দার্শনিকগণ পদার্থবিদ]াৎটিত অনেক 
আলোচন। করিয়াছিলেন সত্য; কিন্তু তাহার! প্রায়ই কার্যত ঃ পরীক্ষা 
ন। করিয়। ফেবল অনুমানের উপর বেশী নির্ভর করিতেন । আমাদের 
দেশের নৈয়াস্্িকগণ ইহার প্রকষ্ট দৃষ্টাস্ত | প্রাচীন জ্ঞানিগণ এবিষয়ে 
কেবল মানসিক চিস্ত! ও কুটতক করিতেন মাত্র স্থতরাং তাদের 
বাদান্ছবাদ বিশেষ কোন কলোপদায়ক হয় নাই। 

বঙ্গভন্মও তস্ত্রোন্ত ওষধে প্রযোজ্য । ইহারও প্রস্তত করিবার 
প্রণালী সীসকতন্মের অনুরূপ । সাধারণতঃ বোধ হয় যে বঙ্গভম্ম বঙ্গাপেক্ষা 
'লঘু। লাবোয়াসিয়ে কিন্ত দেখিলেন £য, যে ওল্জনের বঙ্গ মারিত হয়, 


ও তার উৎপত্তি । ১১ 


সমগ্র ভন্ম তদপেক্ষা গুরু । ম্তরাং ষারণকালে বঙ্গ হইতে কোন 
উপাদান দৃবীভূত না হইয়া বরং বাহির হইতে অন্য কোন নুতন 
পদার্থ বঙ্গের সহিত আয়া যুক্ত হইয়। থাকে । (২-_৩ পৃষ্ঠা ফ্লুজিষ্টন 
বাদ দেখুন।) 

কিছু দিন পরে লাবোয়াসিয়ে পারদ তম্ম লইয়। গ্রীষ্টলির পরীক্ষার 
সত্যহ। অবধারণ কর্রলেন। তিনিও দেখিলেন যে লোহিতবর্ণ পারুদ 
তন্ম ভইতে এক প্রকার বায়ু নির্গত হয়, তাহাতে নির্ববাণপ্রায় শুফ কাষ্ঠ, 
বন্তিক। প্রভৃতি দ্রব্য পুনরুদ্দীপ্ত হইয়া অতি উজ্জ্বলরূ“প দগ্ধ হুয়। 
লাবোয়াসিয় অসাধাবণ প্রতিভা 'সম্পন্ন লোক ছিলেন! বঙ্গমারণ' 
গ্রক্রিয়। হইতে তিনি ষে সিদ্ধান্তে উপনীত হুইয়াছিলেন তাহ! উপ- 
রোক্ত পরীক্ষ। দ্বারা দৃঢ়মূল হইল। ইহার পর তিনি আর একটা পরীক্ষা 
করেন। একটী বকঘন্ত্রে কিছু পারদন্তস্ত করিয়! বকযস্ত্রের গলদেশ' 


অপর একটা পাত্র- 
স্থিত পারদে ডুবাই- 
লেন। তৎপরে এক 
পক্ষ কাল বক যন্্স্থ 
পারদে উত্তাপ প্রয়োগ 
করিতেন লাগিলেন । 
ক্রমশঃ দেধিলেন যে 
পারদের উপর এক 
প্রকার রক্তবর্ণ স্তর 
পড়িতেছে। তিনি 





ক, বকযন্ত্র ; খ, বাঘুপূর্ণ ঘণ্টাকৃতি পাত্র ঃ গ, পারদের 
জাধর । 


আরগ দেখিলেন যে অপর পাত্রস্থিত পারদও ক্রমশঃ খ পাত্রের, 
ভিতর উঠিতেছে | ইহার কাণ্ণ এই যে বকযস্ত্রের মধাস্থিত ব:যুর 


২ ্ নব্য রসায়নী বিদ্যা 


কিয়দংশ যখন পারদসংযোগে অপসারিত হইল তখন আত্যন্ত- 
রিক বায়ুর চাপ অপেক্ষাকৃত কমির। গেল) ন্তরাং বাহিরের 
বাষুর চাপ (8/77)08[)1)9710 [7655119 ) বশত পারদ ক্রমশঃ থ 
পাত্রের ভিতর উঠিতে লাগিল। পল্লিগ্রামের অনেক বালকই 
পেঁপের ভাটা দিয়! গেজুর রস টানিয। খায়। ভিতরের বাতাস টানিয়! 
লইলেই রস ক্রমশঃ নলের ভিতর উঠিতে থাকে । 


লাবোয়াসিয়ে এই পরীক্ষ। দ্বার? প্রতিপন্ন কখিলেন যে ল'ধারণ 
বায়ুতে এমন এক উপাদান আছে বাহ। উত্তাপ প্রয়ে!গে পারদের সহিত 
সংযুক্ত »য়। অর্থাৎ এই লোহিত রণ ভন্ম একটী যৌগিক পদাথ। 
এই যৌগ্েক পদার্থ পুনর্বার তীব্রতররূপে উত্তপ্ত হইলে বিশ্লিষ্ট হয়। 
এবং উপরিউক্ত বায়বীয় উপাদান বিগত হইয়া কেবল পারদ পড়িয়। 
থাকে । লাবোরাসিয়ে আরও বুঝিলেন "ব বঙ্গ বখন মারিত হব তখনও 
বায়ু হইতে এই উপাদান পৃথক হইয়। বঙ্গের সহিত মিলিত হয়। অপর 
পক্ষে মারণ প্রক্তিয়ার শেষে বাষুর যে অন্ততর উপাদান অবশিষ্ট থাকে 
তাহ।দ্বারা আর দহন ক্রিয়া সম্পগ হয় না। 


এই পরীক্ষা! দ্বার। আৰও সপ্রমাণ হুইল যে মরুৎ বা বায়ু একটা 
মুল পদার্থ নহে, পরস্ত উহাতে অন্ততঃ ছুইটী বায়বীয় পদার্থ বিদ্যমান 
আছে। নাঝোক়াসিয়ের এই অপুর্ব আবিষ্কার রসায়ণ জগতে 
সুগান্তর উপস্থিত করিল। ইহা দ্বঃর৷ আরবীয় ও ট্রাল প্রমুখ 
রসায়ণশান্্রবিদগণের মতগুলি বিধ্বস্ত হইল | ফ্লুজিষ্টনবাদিগণ 
তুমুল আন্দোলন করিলেও অবশেষে লাবোয়াসিয়ের মতই বলবৎ 
রছিল। বামুর এই নবাবিদ্কত উপাদান, যা ধাতু ও অন্তান্ত 
পাহ প্রদার্থের সহিত সংযুক্ত হয়, তাহার নাম হুইল অন্নজান ব 
অকৃসিজেন (955 £90 )। 


ও তাহার উৎপত্তি ৩. 


অন্নজান আবিষ্কার সম্বন্ধে নানা বাদানুবাদ চলিয়া! আসিতেছে । 
কেহ কেহ বলেন যে এই প্রসঙ্গে প্রীষ্টলির নামই বিশেষ উন্লেখযোগ্য 
স্ুইভেন দেশে শীলে (3০০619) নামক পণ্ডিত প্রীষ্টলির কিছু 
দন পূর্বে এই নুতন বাধু আবিষ্কার করিয়াছিলেন ইহ! প্রতিপন্ন 
হইয্াছে। কিন্তু প্রীষ্টুলি বা শীলে কেহই ইহার প্রকৃত গুণ ব| তত্ব 
অবধারণ করিতে পারেন নাই। লাবোয়াসিয়ে কেবল ইহার 
প্রকৃত মন্দ প্রকাশ করিয়া নব্যরসায়ন শাস্ত্রের জন্মদান করেন। ইনিই 
প্রথমে পরিমাণমূলক (:00:/10501৮0) রসায়নশান্ত্ের প্রচলন 
করেন। 

পাঠকগণ এখন বুঝতে পারিবেন বে লৌহাদি পুটপাক করিতে 
হইলে সরা ঢাক! না দিয়! আল গ] রাখিলে শীঘ্রই ধাতু ভন্মাকারে পরি- 
ণত হয়| পরাক্ষ। দ্বার গ্রতপন্ন হইয়াছে ষে প্রতি ৭ ভাগ ওজনের 
লৌহ ৩ ভাগ ওজনের অয্রজানের সহিত মিলিত হুইয়। ১০ ভাগ ওজনের 
মণ্ডরে পরিণত হুয়। রসার্ণৰ তন্ত্রে পুটপাকের এই ব্যবস্থা দৃষ্ট' 
হয় যথাঃ 


শ্রীভৈরব উবাচঃ-_- 
স্থবালিকায়াং নিধায়ো দ্ধং স্থালীমন্যাং দৃঢ়াৎ কুরু 
সপ্ধিং বিলেপয়েৎ যত্রান্মূদ! বস্ত্রেন চৈব হি। * 


যদি সরা! আবদ্ধ রাখ! যায় অর্থাৎ খোল! বা আল্গা না থাকে তাহা 
হইলে লৌহ কণিক1গুলি অতি অল্প পরিমাণে বাধুর সংস্পর্শে আসিতে 
পারে; জতরাং এই গ্রক্রিয়! পুন্ঃপুনঃ সম্পীদন ন1 করিলে লৌহ, 
সম্পূর্ণরূপে ভন্মে পরিণত হয় না। অন্জানের নহিত লৌহের 

ংযোৌগই লৌহের মারণ--এই মূল তাৎপধ্য সম্যকরূপে হৃদয়ঙম 
হইলে এত শ্রমসাধ্য শত ব1 সহশ্র পুটের ব্যবস্থার প্রয়োজন হইত না. 


১9 নব্য রসায়নী বিদা। 


বাঁ ইহার শ্বপক্ষে ওকালতি করিবারও আবশ্যক ছিলন]। শান্্রকার 
বলিতেছেন, যথা-- 


“কিঞ্চ পুটবাছুলাং গুণাধিকায় | 
শতাদস্ত সহত্রন্ত পুটে। দেয়ো। রসায়নে 1% 


আবার প্রক্ষিন। পার্থক হইবে বলিয়! পুজাদিরও ব্যবস্থ! দৃষ্ট হয়। এইত 
(গল পুটপাকের কণা। লাবোর়াসিয়ে সীদা ও রাঙ কাচপাত্রের 
ভিতর পুরিয়া পাত্রের মুখ উত্তাপ দ্বার] দ্রবীভূত করিয়! অর্থাৎ গালাইয়। 
একেবারে বন্ধ করির!| ফেলেন এবং নিম্ন হইতে উত্তাপ প্রদান করেন। 
তিনি দেখিলেন ইহাতে ওজনের ভ্রাস বুদ্ধ (কমতি বা বাড়তি ) 
হইল না; কিন্তু যেমন পাত্রের মুখ ভাঙ্গিয়া খুলিয়! ফেলিলেন অমনি 
বাহিরের বায়ু প্রবেশ করিয়া ধাতুর সহিত মিলিত হইয়া ওজন বুদ্ধি 
করিয়। দ্িল। এস্থলে ইভাও স্মরণ রাখ! উচিত যে এই' সময়ের প্রায় 
দেড় শত বৎসর পূর্বে অর্থাৎ ১৬৩*খুঃ অন্দে জা রে (021) 1৮য)নামক 
ফরাসী দেশীয় পণ্ডিত বুঝিয়াছিলেন যে রাও ও সীন। বাধুর সংস্পশে গলা- 
ইলে ক্রমশঃ ওজনে বাড়ে এবং তাহার কারণ এই দর্শাইয়াছিলেন ষে 
যেমন বালুকারাশির উপর জল ঢালিয়া দিলে বালুকণাগুলি জল 
টানিয়া লয়, তেমন ধাতুভন্মও বাঘুকপার সহিত সংলগ্ন হইয়া 
যায়। পাঠকগিণ বুঝিবেন যে ইহাতে সতোর কিঞ্চিৎ আভাষ আছে 
মাত্র। প্রর্কত ব্যাখ্যার জন্য আমর] মহাম্নভব লাবোয়াসিয়ের নিকটই 
খণী। 

ধাতু ভন্ম হইবার সময় যে ওজনে বাড়ে বিখ্যাত রবার্ট বয়েল 
'€780091% 730319 ) এরও এরপ ধারণ। ছিল। ১৬৭৫ খুঃ অবে তিনি 
এই মত প্রকাশ করেন যে উত্তাপ পাইলে ধাতুর পরমাণুগুলি অগ্নি 
পরমাণুর সহিত মিলিত হয় । আগ বা' তেজ পঞ্চ ভূতের অন্যতম, 


ও তাহার উৎপত্তি। ১৫ 


অর্থাৎ মৌলিক পদার্থ বিশেষ । এক পদার্থ অন্য পদার্থের সহিত মিলিত 
হইলে যে মিশ্র পদার্থের ওজন বাড়িবে ইহার বিচিত্র কি? জগতে 
ঘত কিছু সত্য বা তত্ব আবিষার হইয়াছে তাহ! ব্যক্তি বিশেষের 
দ্বারা হয় নাই । কত মেধাবী ও চিন্তাশীল বাক্তি নানাবিধ বিষয়ে 
ধ্যান ধারণ! করিয়! গিয়াছেন । পরে যিনি যতটুকু আলো! পাইয়াছেন 
তাহার সাঞছায্যে পথ দেখিয়। অগ্রসর হইঘাছেন। এই প্রকারে 
ক্রমবিকাশ দ্বার জগতে সকল বিষয়ের উন্নতি সাধিত 
হইয়াছে। 


সাধারণতঃ যাহাকে আমারা “বাতাস” বলি তাহা অন্নান 
(০9৮5£00 ) ও যবক্ষারজান (€0160%6)) এই ছুই বায়বীর 
পদার্থের (গ্যাসের ) সংমিশ্রণ মাত্র । যষথন যশদ, সীসক 
প্রভৃতি ধাতু* গলিত ( তরল ) অবস্থায় ক্রমাগত লৌহ দণ্ড দ্বার! 
মথিত হয় তখন তাহারা এই অন্নজ্ানের সাঁহত মিলিত হইয়া ধাতু 
ভশম্মে পরিণত হয়, এবং ষখন অবরুদ্ধ বায়ুর মধ্যে পারদ ও অন্তথান্ত 
ধাতু উত্তপ্ত হয় ( ১১ পৃষ্ঠা দেখুন) তখন যে “বায়ু” অবশিষ থাকে 
তাহাকে যবক্ষারজান ব! নাইট্রোজেন কহে। 


পারদ, রঙ্গ ঘশদ প্রভৃতি ধাতু পুর্বোক্ত প্রকারে “দগ্ধ' হলে কঠিন 


ক এতস্তির বাতাসে সর্বদ। জলীয় বাম্প ও অস্নাঙ্গারক বায়ু (কার্বনিক এসিড 
গ্যাস ) এবং সামান্য পন্িমাণে আগঁণ (9101, ) নিয়ন (1607) জিনন (30179) ) 
00010) (জীপটন ) আছে। শ্রীযুক্ত অক্ষয়কুমার দত্ত মহাশয় হবক্ষারজান 
নাম প্রথমে বাবার করেন ॥। ইহা! অন্যার্থ বোধক | সোরার (77106) কোন 
সংস্কৃত নাম পাওয়া যার না। 41215101501 1317700 01617775007” 560০015৫ 
৫. 0 182 ভ্ষ্টব্য । সুতরাং নাইট্বোজেনের নুতন লংজ্ঞা দান করা ছরহ। 
অতএব আমর হবক্ষারঞ্গান কথাটাই বাবহান করিলাম । | এ 


১৬ নব্য রসায়নী বিদা। 


পদার্থ (0110 [70000 ) উৎপন্ন হয়। কিন্ত যদি অঙ্গার কিনব! গন্ধক 
দগ্ধ করা যায় তাহ! হইলে বায়বীয় (6296018) পদার্থের স্থষ্টি হয়; 
অঙ্গার ওগন্ধকের দহনে উৎপন্ন উভয় বায়ু জঙগে দ্রবীভূত হয় এবং এই 
লের অমন আস্বাদ ঘটে এই কারণে বাতাঙ্নের এই উপাদানকে লাবোর়া- 
সিয়ে অশ্লজান নামে অভিহিত করিয়াছিলেন । পরে দেখা! যাইবে সোডি- 
য়ম (5০0৫10118) ) পোটাসয়ম (19088551910) প্রভৃতি ধাতু অননজানের 
সহিত সংযুক্ত হইলে যে পদার্থ উৎপন্ন হয় তাহার আস্বাদ অঙ্স ভওয়! 
দুরে থাকুক বরং ক্ষারের মত। ন্তরাং বাতাসের এই 
উপাদানের “অক্লজান” নামকরণ ঠিক হয় নাই। 


বায়ুর শ্বরূপ সম্বন্ধে আপাতন্তঃ এই পধ্যন্ত বপিয় লৌহ রঙ্গ 
প্রভৃতি ধাতু সম্বন্ধে আলে'চন! করা যাক। পুর্বে বল! গিয়াছে. 
বহুকাল ইইতে একটা অমুপক ধারণ চলিয়া আসিতেছে 
যে ধাতু যৌগিক পদার্থ অর্থাৎ “বায়ু, ক্ষতি”  ইত্যাধণি -ভূত 
সমবায়ে উৎপন্ন । প্রায় ছুই শত বৎসর হইল রদার়নবেত্তাগণ 
দেখিয়াছিলেন যে লৌহ গন্ধকদ্রাবকের মধ্যে নির্ষপ্ত হইলে 
উভয়ের সংযোগে একপ্রকার বায়ু (নর্গত হয়। এই কারণে ধাতু সম্বন্ধে 
উক্ত ধারণ। আরও বদ্ধমূল হয়। অর্থাৎ লৌহ পঞ্চভূতসনষ্টি এবং 
তাহারই একটা ভূত উক্ত প্রক্রিয়া দ্বার! লৌহ হইতে বাযুরূপে পরি- 
ত্যক্ত হয়। গন্ধকদ্রাবক পরিবর্তে লবণদ্রাবকও ব্যবহৃত হইতে 
পারে। এই বায়ু কোন উপবুক্ত পাত্রে সংগ্রহ করিয়া তাহাতে অগ্নি 
প্রধান করিলে দেখা যার যে ইহা জঞ্তে থাকে। এই কারণে 
উক্ত বাধুকে “দাহ্য বায়ু” (10080000071 817) নাম দেওয়! 
হইয়াছিল। বর্তমানে উহার নাম উদজান বা হাইঙ্োজেন 
। (11901706017 )। 


ও তাহা উৎপতি। ১৭ 


নিঙ্গে উপরোক্ত দাহা বাধ অতি সহজে প্রস্তুত করিবার একটা 
ঘদ্রর চির দওয়া হইল। 





একটী কাচের (বোতল লইয়া! ছইটাী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রবিশিষ্ট 
একটী ছিপি (কর্ক) দিয়া উহার মুখ. বন্ধ করুন। এ ছিপির 
একটী ছিদ্রের মধ্যে লম্বব সরু একটী ক্চের নল 
বোতলের তল.দশ পর্ষ'স্ত এবং দ্বিতীয় ছিব্রের ভিতর অপর 
একটী নল এক দিকে বোতলের মুখ পর্য্যন্ত এবং অন্ত দ্রিকে 
পার্খের চিত্রানুরূপ বক্রভাঘে একটা জল পুর্ণ পাত্রের ভিতর 
প্রবিষ্ট হওয়া আবশ্যক । এখন বোতলের মধ্যে ত্র ক্ষুদ্র লৌহ বা দস্তা 
থও দ্বিতে হইবে। তার পর ফানেলের ( 9009] ) এর ভিতন্ব 

ধর 


১৮ নবা রসারনী বিদা। 


দিয় বোতলের মধ্যে কিঞ্চিৎ জল মিশ্রিত গন্ধকদ্রাবক ঢাজিকেই দেখা 
ষাইবে যে তাহা হইতে এক প্রকার বায়বীয় পদার্থ উৎপন্ন হইতেছে? 
বোতলের গান্র স্পর্শ করিলে পুর্ব্বাপেক্ষা অনেক উষ্ণ বোধ হইবে । 
অর্থৎ বোতলের ভিতর দস্তা বা লৌহের সহিত গন্ধকদ্র(বকের এক 
প্রকার রাসায়নিক ক্রিয়। আরস্ত হইয়াছে । এদ্দিকে বক্ত নলের মুখ 
দিয়া পাত্রস্কিত জলের ভিতর হুইতে এক প্রকার প্বাযু”” বহির্গত 
হইতেছে! যে বায়ু প্রথম প্রথম বাহির হইয়! আসিবে, তাহ! বিশুদ্ধ 
নয়। উদ্ধার পহিত সাধারথ বাতাস মিশ্রিত থাকে৷ 
বক্ত নলের মুখ হইতে প্র অবিশ্তদ্ধ বায়ু বাহির হুইয়! 
বাতাসে মিলিক়া অদৃশ্য কইয়া যাইবে । কিছুক্ষণ অপেক্ষা 
ফরিলেই সমুদয় মিশ্র বাছু বাহির হইবে ও তখন বোতল 
হইতে যে বাষু বাহির হইতে থাকিবে তাহ! বিশুদ্ধ দাহ্য 
বায়ু, তাহাতে বাতাসের সংস্পর্শ ও থাকিবে লা। এখন একটা 
স্স্তাকার জলপূর্ণ কাচপাত্র উপুড় করিয়া বক্তরনলের মুখের উপর 
ধরিগে বিগ্ুদ্ধ দ্বাহ্য বায়ু জল ভেদ করিয়া উপরে উঠিতে 
থাকিবে ও আরক্ষণেই স্তম্ভাকার পাত্রটি এই বায় ত পূর্ণ হইবে। তখন 
&ঁ বাধুপূর্ণ পাত্র জল হইতে বাহির করিয়! অপ্মি সংযোগ করিলেই উক্ত 
বাষু জলিতে থাকিবে । ইহ দ্বার। সপ্রমাণ হইল বে দত্ত! ও গন্ধক- 
দ্রাবকের বাষ্ীয়নিক সংযোগে এক প্রকার “দাহ্য” বায়ু উৎপন্ন হভই- 
যাছে। যদি অগ্নি সংযোগের সময় কোনরূপ শব্দ বা আওয়াজ শেন! 
যায় তাহা হইলেই বুঝিতে হইবে বে সাধারণ বঝাু ্রাছ্য বাধুর সহিত 
এখনও মিশ্রিত আছে; সুতরাং আর একটু অপেক্ষা করিয়া 
পূর্বোক্ত প্রক্রিয়! মতে “দাহ্য বাসু' সংগ্রহ পূর্বক পুনর্ধার পরীক্ষ। 


করা উচিত। 


ও তাহার উৎপত্তি । ১৯ 


প্রীষ্টপি এই পময়ে কয়েকটা পরীক্ষ। করেন তাহার কিঞ্চিৎ জাভাস 
দেওয়া হইতেছে । তিনি একটা পাত্র কিম্দংশ জলে পূর্ণ 
করিদ্া তাহার উপর একটী হাল্কা মুচি (০:801019) ভাসাইয়। 
দ্বিলেন। এবং মুচির মধ্যে কিঞৎ মেটেসিদূর রাখিক্ক। 
দ্রিলেন। পরে একটা স্তস্তাকৃতি কাচপাত্র (একমুখ বন্ধ অপর 
মুখ খোলা) পূর্বোক্ত দান্য বায়ুতে পূর্ণ করিয়া জলের উপর স্থাপন করি- 
লেন। অর্থাৎ মুচিস্তিত মেটে সি'দুর দাহাবাযুর মধ্যে জ্বর উপর 
ভামসিতে লাগিল। পারশেষে আতস কাচের দ্বার সুর্যার'শ্ম 
ঘনীভূত করিয় উনার উপর নিপাতিত করিলেন। তিনি 
বিস্ময় সহকারে দেখিতে লাগিলেন যে মেটে সি'দূর উদ্বপ্ত হইয়] পুন- 
গলায় সীসকাকারে (ধাতুরূপে ) পরিণত এবং দাহ্য বাযুগ ভ্রমণ অদৃশ্য 
হইতে লাগিল। এদিকে স্তঙ্ঞ/কৃতি পাত্রের ভিতর জল উাখত ভইয়। 
ক্তম*ঃ পাত্রটা জলে পুর্ণ হইয়া গেল। স্থতরাংউক্ত দাহ্য বধু যে 
ধাতু 5ইতেই পরিত্যক্ত হয় এবং মারিত ধাতু বা ধাতুভম্মের 
সহিত উহা পুনর্ষিজিত হইলে ধাতু পুনজ্জবিত হয় প্রাচীন 
পাঁওতদিগের এই অমুলক ধারণা উপরোক্ত পরীক্গার ফলস্বরূপ 
আরও বলবতী হইয়া উঠিল। অর্থাৎ দাহ্য বায়ু যে ধাতুর 
একটী উপাদান বা! অংশবিশেষ লে বিষয়ে তাহাদের [বশ্বাস 
আরও বদ্ধমূল হইল । ঙ 
পাঠকগণ এখন বেশ বুঝিতে পারিবেন যে একেতো। বছু'দনের 
স্যার সহজে অপনীত হয় না। তার পরজাবার প্রমাণ হইল 
যে দবাহ্যবাযু ধাতুর একট উপাদান, সুতরাং ধাতু যে মৌলিক পদার্থ 
নর সে বিষয়ে তখন আর কোন সন্দেহ রহিল না। প্রীষ্টলি পূর্ববমত 
আর একটা পরীক্ষা করিয়াছিলেন । এবার মেটেসি'দুরের পরিবর্তে 


২, নব্য রসায়নী বিদ্যা 


পূর্বোক্ত রক্তবর্ণ পারদভশ্ম লইফা জলের পরিরর্ভে পারদের উপর 
দাহ্যবাধুর মধ্যে স্থাপন করিয়। পূর্ধমত উত্তপ্ত করেন। পরে দেখিতে 
পান যে পাত্রের গাত্রে কিছু কিছু জলকণা আবিভূত হইযলাছে কিন্ত 
তিনি ইহার কারণ নির্ণয় করিতে সমর্থ হইলেন না । যখন মানুষ একটা 
ভ্রমে অন্ধ হর, তথন স্পষ্ট জ্িনিষও দেখিতে পায় না। 

প্রীষ্টলিও সেইরূপ পুর্দ প্রচলিত মতের বশবর্তী হুহয়া৷ এই জল- 
বিন্দুর উৎপত্তির কারণ নির্ণয় করিতে সমর্থ হইলেন না| এই ভাবির 
মনকে প্রবোধ 'দলেন যে হয়ত রক্তবর্ণ ভক্ম অথব দাহ্য বায়ুর হধো 
জলীয় অংশ অদৃশ্য ভাবে অবস্থান করিতেছিল। প্রীষ্টাল আরও 
দেখিরাছিলেন থে একটা কাচ পাত্রের মধ্যে সাধারণ বাছু ও 'দাহাবাযু? 
মিশ্রিত করিয়া যদ তড়ংস্ফুলিঙ্গ চাণান যায় ওবে ভীষণ 
আওয়াজ হইগ়া। পান্জের নিষ্মল শু গতর কিছু কিছু জলকণ+ও 
দেখা ধার। এই শেষেভুপর্ীক্ষ। করিয়া তিনি অতীব বিন্মিত 
হইয়াছিলেন। কিন্তু তথাপও এই সম্বন্ধে সশ্য নিণয় 
করিতে অসমর্থ হুইয়। পুর্ব অন্ধ থাকলেন। এই সময়ে 
কাবেগিম (08%3018) ) আসিয়া আসরে অবতীর্ণ হইলেন । শ্াীষই- 
লির উপরোক্ত পরীক্ষাগুলির মধো বিশেষ সত্য নিহিত থাকিতে 
পারে ক্যাবেগুসের এই ধারণ হওয়ায় (তান সমধিক আগ্রহের সহত 
এ সন্বন্ধে পুনঃ পরীক্ষ। করিতে প্রবৃত্ত হইলেন, এবং নানারূপ 
পরীক্ষার ফলে দেখিলেন যে 'দাহা' বায়ু ও সাধারণ বাযু বা 
বাতাস মিশ্রিত করিয়া তড়িৎ স্ফুলিঙ্গ প্রয়োগ করিলে সাধারণ 
বায়ুর এক পঞ্চমাংশের ও তাহার দ্বিগুণ মাপ বা আয়তনের 
দাহ্য বাসুর রূপান্তর হইয় সেই অংশ জলরূপে পরিণত 
হয় এবং উহ! পাত্রের গাত্রে শিশির কণারূপে প্রতীয়মান হয়। তিনি 


ও তাহার উৎপত্তি । ২১ 


অবশেষে সাধারণ বায়ুর পরিবর্তে বিশুদ্ধ অয়জান বায়ু লইয়! নিন্ন 
প্রদর্শিত যন্ত্রের বারা এই বিষয়ে বিশেষ রূপ পরীক্ষা করেন। 

ক একটা কাচের গোলক। উহার মুখে একটী কাচের ছিপির 
ভিতর তড়িৎ স্ফুলিক্গ প্রয়োগ করিবার জন্য দুইটা তারের তার 
প এব নিম্েও একটা পিতলের ছিপি (8%070৫০৩] ) খ্‌ 
থাকিবে " 

ঘ আর একটি ঘণ্টাঁকৃতি বড় কাচ পাত্র, উহ1 পারদ পূর্ণ দ্বিতীয় 
পাত্রের উপর ন্তস্ত আছে। ঘ পাত্রের উপরের মুখেও 
একটি পিতলের ছিপি বা 4$০1১০০৫ গ এবং উহার নিম 
মুখ খোল। ও পারদের ভিতর নিমগ্ন থাকিবে। প্রথমে ঘ 
পাত্রটা এক মাপ আনরতনের অস্জান এবং- ছুই মাপ দাহ্য 
বাসুর দ্বার। পূর্ণ করিতে হইবে। এ মিশ্র বাঘু পূর্বোক্ত দাহ্য 
বায়ু সংগ্রহেন ন্যায় ঘ পাত্রে প্রবেশ করিবে। (১৭ পৃঃ দেখুন । ) 

তার পর ক কাচের গোলকের খ ছি্টা খুলি] দিয়! বায়, নিঙ্কা- 
শণ যন্ত্রের সহিত যোগ করিলে উহার আভ্যন্তরীন বাতাস সমস্ত নিষ্কা- 
শিত হইবে । তখন শ্র ছিপি বন্ধ করিয়? উক্ত মিশ্রবায়,পূর্ণ ঘ পাত্রের 


সহিত উহাকে একটি ববারের নল- 
দ্বার' সংযুক্ত করিতে হুইবে। পরে 
উভয় ছিপি (5$0109০90.) খ ওগ 
) খুলিয়া! দিলে মিশ্র বায়ু উর্দগামী 
হই] কাচের গোলকটীর ভিতর 
প্রবেশ করিবে । তখন গোলকের 
থ ছিপিটী পুনর্ধার বন্ধ করিয়! 
উপরিস্থিত প তাত্র তারেন 





হং নব্য বসায়নী বিদায 


দ্বারা তড়িৎস্ফুলিঙ্গ প্রয়োগ করিলে ভীষণ আওয়াজ সহ 
গোলকপুর্ণ মিশ্র বায়র মধ্যে রাপাক্নিক ক্রিয়। সংঘটিত 
হইবে। আরও দেখ যাইবে যে গোলকের নির্মল গুফ গাত্রে শিশির 
বিন্দুবৎ জলীয় পদার্থ আবিভূতি হইয়াছে । তখন খগগছিপিদছুইটি 
খুলিয়া দিলে গোলকটী পুনর্ববার উক্ত মিশ্র বায়ুপূর্ণ হইবে । আবার থ 
ছিপিটী বন্ধ করিয়া তড়িৎ সংযোগ করিলে পূর্ববৎ বৈছ্যাতিক শিখা 
সহ রাসায়নিক ক্রিয়৷ হইবে। এই রূপে বারম্বার এই প্রক্রি্ন1 সাধিত 
হইলেই দেখা! যাইবে যে প্রতিবারেই গোলকের ভিতর মিশ্র বারর মধ্যে 
রাসায়নিক সংযোগ হইতেছে এবং “শেষে স্পষ্ট জল বিন্দু প্রকাশ হইবে । 
মিশ্র বাযুর মধ্যে রাসায়নিক ক্রিয়া! হইয়া উহ্বাদের বায়বীয়ত্ব লুপ্ত ন1 
হইলে অর্থাৎ গোলকের মধ্যে বায়ুর অভাব না৷ হইলে দ্বিতীয় বার 
মিশ্র বার, আপন! হইতে কখনও গোলকেক্ ভিতর গাবেশ করিতে 
পারিত না। 

উপরোক্ত পরীক্ষ। দ্বারা! কাবেগ্ডিন প্রতিপন্ন করিলেন যে বিশুদ্ধ 
দাহ্যবামু ও অন্নজানের রাসায়ানক সংযোগে যে পদার্থ উৎপন্ন হয় 
তাহা আর কিছু নয় কেবল বিশুদ্ধ জগ। এহ ন্সাবিষ্কার নব্য রসা- 
য্নন শান্ত্রের উৎপত্তির একটা প্রধান কারণ। ২৫০০ বৎসর ধরিয়া 
গ্রীক ও হিন্দু দাশনিকগণ যে মত অপ্রতিহত ভাবে প্রচান্জ করিয়। 
আঁসিতেছিলেন তাহা এত দিনে বিধ্বস্ত হইল; উহা অপার ও মুলক 
বলিয়! প্রতিপন্ন হইল | মুতরাং জল যে মৌলিক পদার্থ নয় বরং 
যৌগিক পদার্থ সে বিষয়ে আর কাহারও সন্দেহ রঙ্ধিল না। এবং, 
ছুই ভাগ আয়তনের দাহা বাযু ও এক ভাগ আরনতনের অশ্নজান এই 
হুইটা অদৃশ্য বায়ুর সংযোগে জলের উৎপত্তি তাহা বিশেষরূপে সপ্রমাণ 
হইল । ছুই বা ততোহধিক মৌলিক পদার্থের সংযে!গে ক্কত্রিষ উপায়ে 


ও তাহার উৎপত্তি । ২৩ 


কোন যৌগিক পদার্থের উৎপত্তি ব! জনকে সংশ্লেষণ কছে। আবার 
র!সায়নিক প্রক্রিয়ান্ধার! কোন যৌগিক পদার্থকে ভাঙ্গিয়। মূল পদার্থ 
বাহির করাকে বিশ্লেষণ কহে। যদিও কাবেগডিস পুর্ব্বোক্ত পরীক্ষা 
স্বারা জলের উৎপত্তি বা স্বরূপ নন্বন্ধে বিশেষ প্রমাণ প্রদর্শন 
করিয়] গরিয়াছেন কিন্তু তাহার লেখনি প্রন্ত গ্রন্থাদিপাঠে বোধ 
হয় যে জল অসম্পূর্ণ যৌগিক পদার্থ এ বিষয়ে তাহার স্প্ট ধারণ! এবং 
দু বিশ্বান হয় নাই। সেই বৎসরেই অর্থাৎ ১৭৮৩ খুঃ অন্দে ফরাসী 
দেশে লাবোয়াপিয়ে ও লাপ্লাস নামক বৈজ্ঞানিকঘ্বয় কাবেগ্ডসের 
পরীক্ষার 'অনুসন্নণ করিয়া তাহার সিদ্ধান্ত সত্য বলিয়। প্রতিপন্ন করেন। 
একমাত্র লাবোরাপিয়েই যে এই বিয়ের গুঢ় রহসা উদঘাটন করিয়। 
সত্য নির্ণয় করিতে সমর্থ হ£য়াছিলেন তাহ! মুক্তক্ঠে স্বীকার করিতে 
হইবে। তিনি কাবেগিস ও প্রিষ্টলীর পরীক্ষাগুলি সম্যকরূপে 
আলোচন। করিয়। স্বকীয় পবীক্ষাদ্বারা স্পষ্ট-প্রতিপন্ন করিয়া গিয়াছেন 
মে জল যৌগিকপদার্থ এবং দুষ্ট ভাগ আম্বতনের 'দাহ্যপ্বাযু বা! উদ্‌- 
জান ও একভাগ আয়তনের অন্র্জানের রাদারনিক সংয্ুশ 
ভৎপন্ন। 

জল যে যৌগিকপদার্থ এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত আবিষ্ষ্ভী কে £ 
এই প্রশ্ন লইয়। তুমুল আন্দোলন হইয়া গিয়াছে। ইংরাজ রসাধনবেতা- 
গণ স্বদেশ প্রেমে উত্তেজিত হুইয়। শ্বজাতির গৌরবরক্ষ। করিতে যেমন 
প্রয়াস পাইয়াছিলেন তদ্রপ ফরাসীদেশীয় নহানুভব রসায়নবেত্তাই 
যেএই গৌরব ও সম্মানের একমাত্র অধিকারী তা$। প্রমাণ করিতে 
তদ্দেশবাসীগণ ও বন্ধ পরিকর হইয়াছিগেন। 

পূর্বে দেখান হইয়াছে যে, ধে সমম লাঝোদ্লাসিয়ে রঙ্গভন্ম লইয় 
পরীক্ষ। করিতেছিলেন €১১--১৪পৃঃ) ঠিক সেই সময়েই এমন কি সেই 


২৪ নবা রসায়নী বিদা! 


বৎসরেই প্রিলীও রক্তবর্ণ পারদভন্নম হইতে অন্রজান বারু বাহির 
করেন, কিন্তু প্রিষ্টলী কেবল অগ্নজান আবিষ্কার করিয়াই ক্ষান্ত 
ছিলেন তাহার গুণাগুণ পরীক্ষা বা তৎসন্বন্ধে আর কোন আলোচন। 
করেন নাই। বরং তিনি পুর্বাঁপর প্রচলিত মতের সম্পূর্ণ পক্ষপাতী 
ছিলেন এবং তাহ] হইতে বিচ্ছিন্ন হইতে পারেন নাই। কেবলমাত্র 
লাবোয়াসিয়েই এ বিষয়ের প্রকৃত তত্ব জগতে প্রচার করিতে সঙ্গম 
হইয়াছিলেন। জলের বৌগিকত্ব সম্বন্ধেগ তুমুল বিতগ্ড! তইয়াছিল। 
প্রিষ্টলী ও কাবেগ্ডিস উভয়েই পূর্বসংস্কারাচ্ছন হইয়া অন্ধের ন্যায় 
হ'তড়াইয়! বেড়াইতেছিলেন-__ প্রকৃত মর্ম গ্রহণে সক্ষম হন নাই। 
পাঠক ইহাতে এমন ধুবিবেন ন। যে লাবোয়াসিয়ে কেবল পরেন 
আবিষ্কৃত বিষয়গুলি আত্মসাৎ কারয়! গািয়! জুড়িয়া নব্য 
বসাস়্নের ভিত্তি স্কাপন করিয়াছিল্নে। তিনি অসাধারণ ধীসম্পন্ন উচ্চ 
শ্রেণীর বৈজ্ঞানিক ছিলেন এবং কান বিষয়ে পরীক্ষা করিয়। 
তাহার প্রকৃত তত্ব নির্ণয় করিতে সে সময়ে বিজ্ঞান জগতে তাহার 
স্কক্ষ কেহ ছিলনা। 
১৯. স্্ীয় অদ্ামান্ত প্রতিভাবলে শ্বর্ৃত পরীক্ষাগুলির মনন বিশেষরূপে 
'ুদ্যুঙ্ষম করিয়। তিনিই নব্য রসায়নশান্ত্রের ভিত্তি স্কাপন করিয়া! গিয়া 
১ছেন। কাবেগ্ডস ও প্রিষ্টলী পূর্বোক্ত নানাবিধ নুন নৃতন পরীক্ষা 
সত্বেও কেবল উহাদের প্রকুত মন্দ পরিগ্রহের অভাবে মু?যকাল পর্ষস্ত 
ফ্লিজিষ্টন বাদী ছিলেন। তাহাদের ভ্রম দূব ভয় নাই। আবার নব্য 
রসায়ন মন্দিরের ভিত্তিম্বরূপ 'জড়পদার্থের অনশ্বরত্ব' অর্থাৎ পরমাণুর 
ধ্বংস ব! হ্ব:স বৃদ্ধি নাই এই মত মহাত্মা! লাবোয়াসিয়েই প্রচার করিয়। 
গিক্াছেন। এ স্থলে উল্লেখ করা আবশ্যক যে বহু প্রাচীনকাল হইতে 
হিন্দু দার্শনিকগণের মধ্যেও এই মত অনেকটা প্রচলিত ছিল এবং 


ও তাহার উৎপত্তি ২৫. 


তাহাদের গ্রস্থেও.ইহাব আভাস পাওয়া যায় কিন্ত তাহাদের মধ্যে এই 
সিদ্ধান্তের বিশেষ আলোচন1 বা! বিকাশ হয় নশই। স্ৃতত্নাং 
লাবোফ়াসিয়েকেই এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত প্রচারকর্তা এবং নব্য 
রসায়নের “জন্মদাঁতা'” স্বীকার করিতে হইবে। 

১৭৯৪ খৃঃ অন্দে ফরাসী রাষ্ট্রবিপাবের সময় এই মনস্বী ব্যক্তি 
গিলোটিন নামক বধ্যস্ত্রে প্রাণ হারান। বড়ই ছুঃখের বিষয় যে 
বিপবকাধিগণ নব্য রসায়নের জন্মদ(তা এই মহা পুরুষেরও প্রাণ 
দও ন1করিয়াক্গাস্ত হয় নাই । বিচারপতি কঁফনলের নিকট যখন 
আবেদন *ইল যে অন্তত্তঃ সুপ্রসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক বলিয়া লাবোয়াসিয়ের 
প্রাণ ভিক্ষা দেওয়া হউক তখন তিনি পিশাচের ন্যাম কর্কশতাবে উত্তর 
দিয়াছিলেন যে পণ্ডিত বলিয়া উহার বিচারকালে ন্যায়ের অপলাপ 
হইতে পারে , না। প্রচলিত সাধারণতন্ত্রের জন্য পণ্ডিত বা 
বৈজ্ঞানিকের কোন প্রয়োজন নাই । 


দ্বিতীয় অধ্যায়ের পরিশিষ্ট 


ঙ 
ধাতুর মারণ 'ও পুনজ্জীবিত করণ--১৯ পুঃ দ্রষ্টব্য। 


ধাতু মারিত হইলে ইহার ধাতৰ গুণ__অর্থাৎ ভাঙ্করত, কাঠিনা,, 
নমনীয়তা প্রভৃতি অস্তহিত হয়; মারিত ধাতু সাশন্য হাতুড়ির 
আঘাত পাইলেই গুড়] হইয়া যায়। মারিত ধাতুকে আবার 
পুনজ্জীবিত করিতে হইলে তৈল, ঘ্বৃত, লাক্ষা ও সোহাগার সহিত 
মিশিত করিয়] মুযার মধ্যে পুরিয়্। মুখ বন্ধ করিতে হইবে এবং অগ্রিতে ' 


হ৬ নব্য রসায়নী বিদ্য! 


রাখিয়া ক্রমান্বয়ে উত্তাপ প্রয়োগ করিতে হইবে । শীতল হইলে মুষার 
মুখ খুলিলে দেখ! যাইবে যে মাবিত ধাতু পুনর্বার ধাতু রূপে পরিণত 
অর্থাৎ শ্বধরন্ম প্রাপ্ত হইয়াছে । তৈল, ঘ্বত, লাক্ষ! প্রভৃতি পদার্থের 
প্রধান উপাদান অঙ্গার ; আবদ্ধ অবস্থায় উত্তাপ পাইলে উহার! অঙ্গারে 
পধিণত হয়| পূুর্ববে উক্ত হইয়াছে যে কোন মূল ধাতু অন্লজান 
বায়ুর সহিত মিলিত হইলে যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন হয়, তাহাই মারিত ৰ! 
দগ্ধ ধাতু অর্থাৎ মূল ধাড়+অন্নজ্ঞান-দগ্ধ ধাতু । এখন স্পষ্ট বোঝ৷ 
যাইবে যে উত্তাপ সহকারে অঙ্গার দগ্ধ বা মারিত ধাতু হইতে অন্ন 
জান অপসারিত করিয়া স্বয়ং অঙ্গারাম্ বাধু রূপে ( কার্বনিক 
এসিড গ্যাস) পরিণত হয় এবং ধাতুও পুনর্বার স্বগুণ প্রাপ্ত অর্থাৎ 
পুনজ্জাবিত বা! উত্থাপিত হয় 
দগ্ধ ধাতু (মুল ধাতু 4 অন্নজজান)+ অঙ্গার-- মুল ধাতু 
( পুনজ্জীবত )+ মঙ্গারায্স ( অঙ্গার 4 অল্লজান )। 
এস্থলে ইহাও স্মরণ রাখ! উচিত যে মারিত্য ধাতু এই শব্দ যে 
কেবল দগ্ধ ধাতু ব1 অগ্জানযুক্ত ধাতুর উপর প্রয়োগ হয় তাহ নয় | 
অনেক সময় গন্ধকের সহিত মিশ্রিত করিয়। ধাড়কে উত্তপ্তকর1 হয়। 
তান্ত্রিক মণে প্রস্তুত তাত ও পারদ ঘর্টিত ওঁষধ প্রারই গন্ধকিত 
বা গন্ধক যুক্ত (991]01)10)। এবং উহাতে অন্ঙ্জানের অভাব 
দুষ্ট তয়। 


স্ৃতজ্য পুনরুস্তঁতি প্রক্তোখাপনাখ্যয়া । 
* ইতি রসরত্বসমুচ্চয় । 


তৃতীয় অধ্যায়। 


কণাদমুনি, জন ডালটন ও পরমাণুবাদ । 


অতি প্রাচীনকাল হইতেই ভারতবর্ষে পদাথ অনশ্বর ও 
পরমাণুমষ্টি শ্বারা গঠিত এই মণ চলিয়া আসিতেছে । মহবি 
কপিল বলেন, পনাবস্তনেো! বস্তসিদ্ধি”” অর্থাৎ পূর্বস্থিত বস্ত 
ন] থাকিলে আপন হইতে বা শ্বত্তঃ কোন বস্ত উৎপন্ন হল 
নল] 1 বৈশেষিক দর্শনেও এই মতের পুর্ণ বিকাশ দেখ! 
বায় । কণাদ মুনি বলেন--জল, বায়ু, মৃত্তিকা, তেজঃ এই চারি প্রকার 
জড় পদাথের পরমাণু মাত্রই নিত্য, আর পরমাণুসম্টিন্বরূপ ঘটপটাদি 
সাবয়ব দ্রব্য অনিত্য। আমাদের দেহও প্রকৃত পক্ষে নশ্বর নয়। 
মৃত্যুর পর যে পঞ্চভুতের সমবায়ে ইহার সৃষ্টি হইয়াছিল “সই 
পঞ্চভূতে পুনর্ধার লীন হয় অর্থাৎ পঞ্চত্ব প্রাপ্তি হয়। বৈশেষিক 
দশনের অনেক পূর্বেও এই মতের আভাষ পাওয়। যায়। বৃহদ- 
রণ্যক উপনিষদ্দে জানা ধায় যে মৃত্যুর পর দেতু মৃত্তিকাতে 
লখন হয়। 

কণাদ মতে অদৃ্ই অর্থাৎ অজ্ঞাত কারণ বিশেষ দ্বারা উল্লি- 
খিত পরমাণু সমূহের সংযোগে বিশ্ব সংসার উৎপন্ন হইয়াছে । ছুই পার্থিব 
পরম।ণু সংযুক্ত হইয়। এক দ্ব্যণুক হয়। তিন দ্বাগুকে এক ভ্রসরেণু হয়। 
এইবপ উত্তরোত্তর স্থলতর অবয়ব উৎপন্ন হইয়া অবশেষে সমুদবায় 
পার্থিব পদর্থ গঠিত হয়। গ্রীস দেশীয় পণ্ডিতদিগের মধ্যেও এই' 


২৮ নব্য রপায়নী বিদ্যা] 


প্রকার মত প্রকীর্তিত ভইয়াছিল তবে সময়ের পৌর্ধাপর্য্য বিচার 
করিলে গ্রতীয়মান হয় যে ভারতে এই মত অনেক পুর্বে প্রচলিত 
ছিল। 


“অন্তান্ত দশনকার পক্ষ! কণাদের জড় পদার্থের জ্ঞাননুশীলনে 
সমধিক প্রবৃত্তি জন্মে দেখা যাইতেছে । তিনি পরমাণুবাছ 
সংস্থাপন করিয়া সে বিষয়ের শ্ভ্রপাত করেন। মেঘ, বিদ্যাৎ 
বজাঘাত, ভূমিকম্প, বৃক্ষের রস-সঞ্চরণ। করকা ও হিমশিল', 
চুম্বক ও চৌন্বকাকধণ, জড়ের জংযোগব্ভ'গাদি গণ 
ও গত্যাদি ক্রিয়া প্রভৃতি নান] ব্যাপারে তাহার চিভ্াকর্ষণ 
হয়। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় এই যে, শত্রপাতেই অবশেষ 
হইল। অন্থুত্র রোপিত হইল, কিন্তু বার্ধত, পুম্পিত ও ফলিত হইল 
না। উহা সংস্কৃত, পৰিবার্ধিত ও বছুলীরুত করিয়! ফল-্পুশ্প-শাভাক 
সুশোভিত কর] ভারতভূমির ভাগ্যে ঘটিল না । কালক্রমে সে সৌভগা 
বেকন্‌, কোস্ত ও হম্বোলটের জন্মভূমিতে গিয়া! প্রকাশিত ও প্রাঢভূতি 
হইয়। উঠিল 1৮ ( অক্ষয় কুমার দণ্ড) 


পরমাণু নিত্য আনার অবিভাজ্য। এক টুকরা গন্ধক লইয়া 
শিলার উপর জলে ঘমিলে অতি কোমলচুর্ণে পরিণত হুয়। এই 
চূর্ণ এত হুণ্ম যে শুকাইলে উড়িয়া যায় এবং ছই অস্ুলির মধ্যে 
রাখিয়া মাড়িলে অতি মোলায়েম ঠেকে। একটুকু এই গুড়া 
অনুবীক্ষণ যাস্ত্রর সাহায্যে দেখিলে বড় বড় কণিক] সমষ্টির মত প্রতীয়- 
মান হইবে। তাহার কারণ যে সমস্ত রেণু স্থূল দৃষ্টিতে অত হুল্ধা 
বোধ হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্রে তাহ! অনেক বড় দেখায়। 

এখন কথ! হইতেছে ধর্দি কোন পদার্থকে ক্রমাথয়ে এই প্রকার 
সুস্মাতিহুক্ ভাগে বিভক্ত কর] যায় তব কোথায় তাহার শেষ হইবে ? 


ও তাহার উৎপত্তি । ২৯ 


সুক্মাদপিহুক্ম হইলেও অবশেষে ইহার চরম সীমা পাওয়া! যাইবে । 
পঙ্ডিতের। স্থির করিলেন এমন এক অবস্থায় উপনীত হইতে হইবে 
যখন পদার্থ মাত্রেরই কণিক। অবিভাজ্য হইয়া বায়; এই অবধিভাব্য 
কণিকাই পরমাণু । 
আর একটা কথ। উঠিভেছে। পুব্বে উল্লেখ কর! গিয়াছে রস ও 
গন্ধক সম্ভৃত হিঙ্গ'ল। পারা আর গন্ধক একত্র খলে মাড়িলে প্রথমতঃ 
কুঞ্চবর্ণ ধূলিখৎ এক প্রকার নৃতন পদার্থ উৎপন্ন হয়। আধুর্বেদে ইহা 
কজ্জবলী.নামে অভিহিত । পারুদ তরল প্দাথ আর গন্ধক কঠিন। কিন্তু 
একত্র মিশ্রিত শইলে উভয়ের পরম ণু পরস্পর আকৃষ্ট হইয়া তন্মধ্যে 
রাসায়নিক ত্রিয়া সংঘর্টিত হয়। এই কৃঝ্ঝবর্ণ নূতন পদার্থ পারদও নগ্ন 
গঞ্ধকও নয় । পুর্বে দেখা গিয়াছে এক ভাগ বা আয়তনের অশ্নজান ও 
ছুই ভাগ বা আয়তনের উদজান* এই ছুই অদৃশ্য বায়ু তড়িৎস্ফুলিঙ্গের 
সংযোগে মালতি হইয়। জল উতৎপাধন করে। এখন কথা ভইতেছে গন্ধক 
ও পারা যে কোন ওজনে লইয়া যাগ করিলে বজ্জলী 
হইবেকি? চক্রদত্ত বন্ন ইন্াদিগকে সমান ভাগে লইতে হইবো । 
বাস্তবিক আযুর্ষেদ মতে প্রস্তুত কজ্জলী ব৷ «সপপ্ন' টা পরীক্ষা করিলে 
দেখ। যায় যে ইহাতে অনেক গন্ধক কণ্ি। পারদের সহিত 
ক অথবা ৮ ভাগ ওজনের অগ্নজান এক ভাগ ওজনের উদজান। 
+ -_- শুদ্ধৌ সমানে রসগন্ধকৌ টি 
সম্মর্দয কজ্দলাতন্ত কুলাৎপাজে দৃঢ়াশ্রয়ে । 
ঘা চা খঃ মং ০ 
রসপপটিকণ খ্যাত] নিবদ্ধ! চক্রপাণিনা 
অন্স্থানে চক্রপাণি বলেনঃ 
রসগন্ধকয়ে!ঃ কষে) প্রত্যেকং গ্রাহ্যমেকত: 
তন্মার্দনাচ্ছিলাখলে যত্ততঃ কজ্দলীকুতমু | 


খত নব্য রসায়নী বিদ্যা 


যুক্ত ন! হইয়। অযুজা অবস্থায় বর্তমান থাকে । ভষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে 
এমন কি উনবিংশ শতাব্দীর প্রারস্ পর্য্যস্ত ইউরোপে বৈজ্ঞানিকদিগের 
মধ্যে এই বিষয়ে ঘোর বাদান্ববাদ চলিয়াছিল। এক পক্ষ বলেন যে 
ছুই (মীলিক পদার্থ যেকোন ভাগে পরস্পরের সহিত মিলিত হইয়া 
নুতন যৌগিক পদার্থ উৎপাদন কার অপর পক্ষও ঢূঢ়তার সহিত 
পরীক্ষার দ্বারা সপ্রমাণ ককেন যে তাহার] নিদ্দিষ্ট পরিমাপ মত (আনু- 
পাত অনুসারে) মিলিত হয়। এমন সময়ে জন ডাল টন (ঘ০1)01)21601)) 
আবিভূত হইলেন । লাবোয়াদিয়ের সময় হইতে প্রায় ২৫ বৎসর 
ধরিয়। রাসায়নিকগণ অনেক যৌগিক পদাথের বিশ্লেষণ করিয়াছিজে ন। 
ডালটন স্বয়ংও অনেকগুলি যৌগিক পদার্থ বিশ্লি্ট করিয়া পরীক্ষ 
করেন। 

তিনি মৌলিক পন্দার্থের সংযোগ ও যৌগিক পদার্থের বিয়োগের 
ভিতর একটা সুন্দর নিয়ম নিঠিত দেখিয়। চমতকৃত হইক্নে। দুই একটা 
উদ্ধাহরণ দিলে উচ্ভ৷ পাঠকবর্গের সহজে বোধগম্য হইবে। ইততি- 
পূর্বে রঙস্গভন্মের উল্লেখ কর! গিয়াছে; গ্রস্তত প্রণালী ভেদে ই 
প্রকার রঙ্গভস্ম পাওয়া যায় । পরীক্ষা দ্বার! প্রমানিত হইয়াছে বে 
এক প্রকার ভম্মে ১৫ ভাগ ওজনে রাঙের সহিত ঢুই ভাগ ওজনে অশ্জান 
বাযুসংযুক্ত হয়। আবার ঠিক সেই ১৫ ভাগ ওজনের রাঙের সহিত 
৪ ভাগ ওজনে অগ্লজান বায়ু সংযুক্ত হইয়া দ্বিতীয় প্রকার ভন্ম উৎপন্ন 
হয়। কয়লা খোল] বাতাসে পুড়লে এক রকম বাধু জন্মে, তাহাতে 
অম্নজানের ভাগ অধিক থাকে, উহার নাম অঙ্গারকাম--আর 
কয়ল( অল্প বাতাসে গুড়িলে আর এক রকম বায়ু জন্মে) উহ। বড়ই 
বিনাক্ত, উহাতে অঙ্সরন্জানের ভাগ অপেক্ষাকৃত অল্প থাকে, রাসায়- 
নিক বিশ্লেষণ দ্বার স্থিরীকৃত হইয়াছে যে এই বিষাক্ত 


ও তাহায় উৎপতি। ৩২ 


বাযুতে শ ভাগ ওজনে কয়লার সহিত ৪ ভাগ ওজনে অমজান 
সংযুক্ত হয় এবং পূর্বোক্ত অজারকাম্প বায়ুতে সেই ঠিক ৩ ভাগ 
ওজনের কয়লার সহিত ৮ ভাগ অর্থাৎ দ্বিগুণ ওজনে অন্নজান 
মিলিত হয়। এই সকল বিষস্ব সম্যক আঁলোচন' করিয়। ডাল্টন 
স্ৃদয়ঙ্গম করিলেন যে রাসায়নিক সংযোগ কোন প্রকার “খামখেয়ালি” 
€(817191008 ) নিয়মে সংঘটিত হয় ন1 এবং এই "নির্দিষ্ট নিয়- 
মের পরিপোষণার্থ তিনি নিয়লিখিত শুত্রগুলি নির্দেশ করিয়। 
গিয্াছেন। 

পুর্বে অবিভাজা পরম'ণুর কণা বল! হইয়াছে । যত প্রকার “ভূত” 
ব1 মৌলিক পদার্থ আছে ভাহাদে: গ্রত্যেকের পরমণুর ওক্জন বিভিন। 
এবং যেহেতু ছুই ঝা ততোধিক মৌলক পরম.ণুর পরস্পর মিশ্রণ 
ব। পাশাপাশি অবস্থান বশত্বঃ যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন হই থাকে এবং 
পরমাঁণুও অবিস্ভাজ্য স্থতরাং ওচ্চন ঘটিত একটা নির্দিষ্ট অনুপাত ভিন্ন 
উহাদের সংযোগ হইতে পারে না। 

মনে করুন রাঙের প্রত্যেক পরমাণুর ওদ্ধন ১৫ রতি ও অগন- 
জানের প্রত্যেক পরমাণুর ওজন ২ রতি তাহ) হইলে রাঙর এক পর" 
মাণু ও অনজানের এক পরমাণুর যে:গ ঘটিলে ১৫ রূতি রাঙের সহিত 
২বরতি অল্নঙ্গান মিলিত হ্ইয়। ১৭ রতি রুঙ্গভস্ম উৎপন্ন হইবে ;* 
কিন্ত এই ছুই “ভূতেরঃ” সংযোগে আবার অপর একট? ভন্ম গস্বত 
হয় তাহাতে ১৫ রতি রাঙ্গের সহিত্তিক ৪ রতি অর্থাৎ পুর্কের 
দ্বিগুণ ওজনে অন্নজান মিলিত হুইয়] ১৯ রতি রঙ্গভন্ম (দ্বিতীয় প্রকার) 
উৎপর হুইর1 থাকে। এলে বুঝিতে হইবে রাঙ্গের এক পরমাণুর 


পাতি ওপর রর স্পা আর 





০৮ কিনি সা অর উতর 


* এখানে 'আপেক্ষিক গুরুত্ব” লওয়! হইতেছে । অর্থাৎ সর্বাপেক্ষা লঘূতমা 
একটী পদার্থের ওঙ্গনের সাত তৃদনায় অন্যানা পদার্থে ওজন লয়! হইতেছে। 
বস্ততঃ পদার্থের প্রকৃত ওজন (9501006 %518176) আমর! জানিন]। 


৩২ নব্য রসামনী ধিদাা 


সহিত অগ্লজানের হুইটা পরমাণু যুক্ত হইয়াছে । এই রূপ ১৪ ভাগ 
যবক্ষারজানের সহিত ৮, ১৬১ ২৪, ৩২, অথব1 ৪০ ভাগ ওজনে অগ্ল- 
জান মিলিত হইয়। পঞ্চবিধ ম্ুতন বায়ু উৎপর হইয়। থাকে । অন্ত 
কোনরূপ মাঝামাঝি ভগ্নাংশ ঘটিত অনুপাত অনুসারে সংযোগ হওয়া 
অসস্ভব । পরমাণু ভাঙ্গিতে পাঁরিলে তাহা সম্ভব হইত। মনে করুন 
বিভিন্ন প্রকার পরমাণুকে আমরখ ক, থ, গ. ঘ. ঙ ইত্যাকার 
আংকেতিক চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করিলাম । কিন্তু যেহেতু আমাদের 
পূব স্ত্রানুসারে পরমাণু অবিভাজা তাহ হইলেক ও খ সংযোগে 
ক+খ, ক-+২খ, ক৩খ, ক+9খ, ২কশখ ইত্যাকার 
যৌগিক পদার্থ নির্দিষ্ট গুণান্ুপাত অনুসারে উৎপন্ন হইতে পারে। 
কশ+-₹থ এরূপ উৎপন্ন হওয়া! অপস্তব। আর একটু প্রণিধান 
করিয়! দেখা যাউক। পুরাঞ্চাল £ইতেই পরমাণুধা্ ষড়দর্শনের 
এক অন্গন্বরূপ ধার্ধা হইয়া আসিতেছে । কিন্তু এ» দন ধাঁধয়! ইহা 
বা এই অগ্মান (1১1১9110515) কেবল গুণজ্ঞাপক (00811140150 ) 
ছিল মাত্র অথাৎ ছুই বা ততোহধিক ভূতসমধায়ে যাবতীয় পদার্থ সৃষ্ট 
হয়। ড1প্টন ইহ] মানিয়। লইলেন কিন্তু এই বিষয়কে পরিমাণ- 
জ্ঞাপক (10870611856) নির্দিষ্ট নিয়মভূত্ত করিয়। সুদৃঢ় ভিত্তির 
উপর সংস্থাপন করিয়! আরও পরিপুষ্ট ও পরিবর্ধিত করিলেন! 
সচরাচর আমরা কোন বিষয়ের তত্ব উদঘাটন বা কারণ অন্রসন্ধানে 
' প্রবৃত্ত হইয়া তৎসংক্রাস্ত বিবিধ ঘটনাবলি পর্য)বেক্ষণ করিতে করিতে 
স্বতঃই ন।নাক্ধপ অনুমান করিয়া থাকি। এই অনুমান সাহাযো এ 
সকল বিষয়ের বিশেষরূপে কারণ নির্দেশ হইলে অচ্ুমান ক্রমশঃ সতা 
বলিক। গৃহ্থীত হয়। বিস্তু তপরে আবার নুতন নূন ঘটন পর্য)বেক্ষণ 
কালীন উক্ত অন্থুমন দ্বার সন্তোষজনক মীমাংসা ন। হইলে উহা! 


নব্য বলায়নী বিদা। ৩৩ 


অধুলক প্রতিপন্ন হইয়া! পড়ে তখন আর সত্য বলিয়৷ আদরণীয় হয় না। 
যেমন হৃর্ষ্য ও চন্ত্রগ্রহণ সম্বন্ধে সাধারণতঃ ধারণ! ছিল যে গ্রহণের 
সময় ুর্ধ্য ও চন্দ্রকে রাহ শ্রাস করিতে উদ্যত হয় এবং ভূমি কম্প 
সন্বন্ধেও এ দেশে সাধারণ লোকের বিশ্বাস ছিল যে অনস্তনাগ পুথিবীর 
ভার বহনে ক্লান্ত হইয়! মধ্যে মধ্যে মাথা নাড়। দিলেই ভূমিকম্প উপ- 
স্থিত হয়। কিন্তু বর্তমান সভয জগতে বিজ্ঞান শাস্ত্রের নিত্য নৃতন তত্ব 
আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে এ সকল অমূলক ধারণ! তিরোহিত হইতেছে । 
এখন শিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রেই বেশ জানেন যে চন্দ্র পৃথিবীর চারিদিকে 
স্বুরিতে ঘুরিতে হৃর্ধ্য ও পৃণিবীর ঠিক মধ্যবর্তী হইলে অর্থাৎ চন্দ্রের ছায়া 
সুর্যোর উপর পড়িলে কুর্য্যগরহণ হয় এবং চন্ত্র সরিয়! যাইলেই গ্রহণের 
মোক্ষ হর । এখন আর গ্রহণ কালীন চন্দ্র ও কুর্য্যকে রাহ্গ্রন্ত বলিয়া 
কেহ বিশ্বাস কব্রেন না। রাসায়নিক ক্রয়! সন্বন্ধেও পুর্বোক্ত গবেষণা 
দ্বারা বিশেষকপে প্রতিপন্ন হইয়াছে যে নির্দিষ্টান্ুপাতিক নিয়মটী নব্য 
বসারণের ভিভিমুলে দৃঢ়রূপে নিহিত রহিম্নাছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট'নু- 
পাতিক নিয়মের কদাচ উত্তজ্ঘন হইতে পারে না। কবির বাক্য এই 
স্থলে গ্রয়োগ করা যায়। 


রেখ। মাত্রমপি * * * ন ব্যতীয়ু নি়স্তনে মিবৃত্বয়ঃ। 

এখন আমাদের আঘ্র্কেদ মতে প্রস্তুত কতিপয় “কবিব্তাজী” ওষধ 
পরীক্ষা! করিয়া দেখ। যাক | যথ। কজ্জলী, শবর্ণসিনদুর ও মকরধ্বজ। 
পারদ ও গদ্ধক সংযোগে হিজ,ল প্রস্তত হয়। এই হিজ,ল বিশ্লেষণ 
করিলে দ্বেখ। যায় যে ইহা! ২৫ ভাগ পারদ ও ছুই ভাগগন্ধক এই ছুই 
উপাদান হইতে প্রস্তুত অর্থাৎ ২৭ রতি হিষ্কুলে ২৫ রতি পারদ ও 
২ রতি গন্ধক বিদ্যমান খাকে। এই অনুপাতের কুত্রাপি ব্যতিক্রম হয় 
না| পাঠক এখন ধুঝিবেন যে' কেন চক্রপাণি মতে প্রস্ততি কজ্দ- 


৩৪ ও তাহুণর উৎপত্তি । 


লীতে অতিরিক্ত গন্ধক অসংযুক্ত ভাবে বর্তমান থাকে । এই 
কজ্দলী আবার “পাক” করিলে হিঙ্কুলে পরিণত হয়। কজ্জ্বলী কৃষ্ণবর্ণ 
চর্ণ,কিন্ত হিল “দানাদার” বিশেষ । প্রক্রিয্া) বিশেষে উহ্ছার দানা- 
গুলি বাস্তবিক তালের ঠোচের ন্যায় পাওয়৷ বায় এই জন্য ''তালটোচ” 
হিন্থুল বলিয়া সাধারণত: পরিচিত। এখন একবার স্বর্ণ সিন্দুর ও 
মকরধবঞ্জ প্রস্তত প্রণালী সন্বন্ধে আলোচন। করা যাক । রসেক্্র- 
চিন্তামণি নামক প্রাচীন ও প্রামাণিক তান্ত্রিক গ্রন্থে কথিত আছে 
“শোধিত মহ সোণারপাত ১ পল, শোধিত পারদ ৮ পল একত্র মর্দন 
পূর্বক, তাহার সহিত শোধিত গম্ধক ১৬ পল মিশ্রিত করিয়া কজ্ছশ 
কর। তদনন্তর রক্তকার্পাসপুষ্প ও দ্বতকুমারীর রসে ভাবনা দাও 
এবং শুষ্ক করিয়া দৃঢ় কাচকৃপাঁর মধ্যে ভর । পরে কুপীর মুখ এক খণ্ড 
খড়ীর দ্বারা রুদ্ধ কর এবং সেই কৃপী একটা হাড়ির ভিতর রাখিয়? 
হাঁড়িকে বালুকাদ্বার। এরপ পূর্ণ কর যে, কুপীর গল। পর্যাস্ত পুর্ণ হয়। 
পরে ৩ দিন জাল দাও । জাল দিতে দিতে যখন রক্তবর্ণ ওষধ কুপীর 
গলায় লাগিবে, তখন তাহা বহিষ্কৃত করিয়। লও ।* 


কাচকুপীর পরিবর্তে সচরাচর বোতল ব্যবহৃত হর। বোতলটি 
সর্বাগ্রে পাচবার পুরু কাপড় ও কাদার প্রলেপ দরিয়া শুকা ইয়া 
লওয়া হয় ত্বাহা হইলে আর “ফেটে চোটে” যায় না। এই প্রক্রিয়া 
সম্যকরূপ বুঝিতে হইলে বাহরের ২৪টা দৃষ্টাত্ত লইয়া একটুকু অন্ত 
আলোচন। কর! প্রয়োজন ৷ ছুই ব! ততোহধিক পদার্থ একক্র থাকিলে 





* পল মৃছুন্বর্ণদলং রসেন্দ্রং পলাষ্টকং ঘোড়শ গন্ধকস্য ৷ 
শোগৈঃ সুকাপীাসতবপ্রনুনৈঠ, সর্ধবং বিমদণাথ কুম!রিকাঁস্তিঃ | 
তৎকাচকুত্তে নিহিতং সুগাট়ে মৃৎকর্পটেন্তদ্দিবসত্রয়ধ্চ | 
পচেৎ ক্রমাগ্ নিতকাখ্যযন্ত্রে ততোরজঃ পল্লবরাঁগরম্যম্‌। 
১7০ _রসেক্্রতিস্তামণি ॥ 


নব্য রসায়নী বিদ্যা ৩৫ 


তাহাদিগকে পরস্পর পৃথক করিবার জন্ত প্রকারভেদে (উহাদের প্রক্কৃতি 
ব। গুণান্থুলারে) নান। রকম উপায় অবলম্িত হয় । ধান হইতে চাঁউল 
বাহির করিবার সময় কি উপায়ে তু'ষ পৃথক করা হয় ভাহা! বোধ হয় 
সকলেই জানেন। আবার চাউলের সঙ্কে যদি বেশী গুঁড়া থাকে 
তাহ।ও পৃথক করিবার অতি সহজ উপায় আছে। কলিকাতার 
ঝাস্তায় প্রায়ই দেখ। যায় যেমুদদী পসারিগণ একটী ধাম! মাটিতে 
রাখিয়! অপর একটা ধামার চাউল একটু উচ্চ হইতে উহার ভিতর 
ঢাপিতে থাকে তাহাতে বাতাসে গু ড় উড়িয়। যায় । এ ত গেল সহজ 
উপায়। মনে করুন চিনির সহিত অধিক পাঁরমাণে ধুলা মাটা মিশ্রিত 
আছে। এবার একটু মুষকিল--ধুল1ও ভারি চিনিও ভারি, এবার 
কুলার সাহায্টে চলিবে না । অন্ত “ফিকির' চাই। এই অপরিষ্কার 
চিনি উপযুক্ত পরিমাণে জলে ছাড়িয়া দিতে হইবে এবং একটি কাটি 
সবার ভালরূপ নাড়াচাড়া করিতে হইবে! চিনি জলে সম্পূর্ণরূপ গলিয় 
যাইবে এবং আশু বোধ হইবে যে ধুল। মাটি ও এ সঙ্গে গলিয়! গিয়াছে, 
কিন্ত তাহা] নয়। ধুলার অতি সুম্ধ কণিকাগুপি জলে ভাসমান 
8091992১090 ) থাকিবে । এক দিন পরে যখন এই জল 
“ধি।তগ্লাছে+”, তখন দেখিবেন যে পাঞ্রের নীচে মাটার স্তর 
পড়িয়াছে। আন্তে আন্তে উপরের পরিষ্কার জল অপর একটা পাত্রে 
ঢালিয়া লইতে হইবে।* অনেক স্থলে ব্যবসাক্সিগণ ক্যাথিস কাপড়ের 
ছাকুনী করিয়া ছাকিক্। লয়েন। 
এই পরিষ্কার জল মৃছু তাপে (জালে) শুকাইলে চিনি পুনঙ্কার 


ক পাশ শা শত সত জি জপ শশা পপ 


* বধাকালে যখন গঙ্গান্ন “চল'' নামে-_-গৃহস্থগণ এই অপরিধার ক্জল কলসীতে 
এক দিন যাবৎ একটু ফিটকিরি ব! নিম্ম'ল দিয়া রাখিয়া] দেন। জল এই প্রকারে 
ধিতিলে ময়ল! মাটা পাত্রের নীচে জমে। 


৩৬ ও তাহার উৎপত্তি । 


প্ানার আকারে প্রাপ্ত হওয়া বার । এখন একবার মনে করুন রুশিয়ার 
বড় বড় রণতরী উত্তমাশ! অস্তরীপ (০879 ০৫ 0০০৭ 13019) ঘুরিয়। 
জাপান সাগরাভিমুখে ধাবিত ₹ইতেছে, মধ্যে কোন বন্দরে জাহাজ 
লাগইবার আদেশ নাই ।* উহাদের পানীয় জল শেষ হইয়া গিয়াছে। 
সমুদ্রের জল যেমন লবণাক্ত তেমনি তিক্ত বিশেষতঃ পান করিলে ভেদ 
বমি হয়। এখন এই সহস্র সহশ্র নাবিক ও যোদ্ধাগণ কি জলাভাবে 


ৃ ॥ 00) 
সর 


টি 


| 18৯] ৮৫115185) 





॥ 


* রুষজাপান যুদ্ধের সময় ইহ। লিখিত হুয় ॥ 


নব্য রসায়নী বিদ্য। ৩৭ 


যার যাইবে ? না। সমুদ্র অল হইতে “মিষ্টি” জল গ্রস্তত করিবার 
নুন্দর প্রণালী আছে। এবার ছাকফিয়া লইলে চলিবে না। এই 
প্রক্রিয়ার নাম “তিষ্যক পাতন,?” চলিত ভাষায় ইহাকে «চোলাই? 
করাকছে। অগ্নির উত্তাপে ময়ল। জল প্রথমতঃ বাশ্পাকারে পরি- 
পত হয় । পরে শীতল পাত্রের সংস্পর্শে ঁ জলীয় বাম্প পুনর্বার 
তরল হই! দ্বিতীয় পাত্রে জলরূপে সংগৃহীত হয় ঝা জমিতে থাকে । 
এই জল বিশুদ্ধ। প্রথম পাত্রস্থিত অপরিষ্কার জলে দ্রবীভূত লবণ ও 
অন্তান্ত ধাতব পদার্থ উক্ত পাত্রেই পড়িয়া থাকে। 


প্রথম পাত্রে বা একটা কলসীতে ময়ল! জল রাখিয়া উহার মুখে 
একখানি সরা ঢাকিয়! দেন । এ সরার মধ্যে একটী ছিদ্র করিয়] উহার 
সহিত একটী লগ্থ। বাশের বা রাংএর নল যোগ করিয়া! দেন। কলসী 
ও সরার সন্ধি স্থলে ভালরূপ মাটার প্রলেপ দেওয়! 'আবশ্যক | যেন 
জলীয় বাম্প ফোনরূপে সরার পাশ দিয়' বাছির হইতে না পারে। 
তার পর প্রথম কলসীর নীচে উত্তাপ দিলে ময়ল1 জল উত্তপ্ত হইয় 
বাম্পে পরিণত হইবে এবং নলের ভিতর দিয়] চলিয়! ধাইবে। নলের 
বাহিরের গাত্রে ভিজ। নেকড়। দিয়! সর্বদা শীতল রাখিতে হইবে। 
তাহা! হইলে প্র বাম্প পুনরায় ঘনীভূত হইয়া বিশুদ্ধ জল উৎপর 
হইবে। এবং দ্বিতীয় কলসীতে বা বোতলে এ বিশুদ্ধ জল জমিতে 
থাকিবে । ৩৬ পুঃ প্রতিকৃতি দ্রষ্টবা। নি 


বিগুদ্ধকরণ সম্বন্ধে মোটামুটি হই তিন প্রকার প্রণালী বা প্রক্রিয়া * 
দেখান গেল কিন্তু গন্ধক কর্পুর প্রভৃতি পদার্থের সহিত ময়লা মাটা 
মিশ্রিত থাকিলে কি প্রকারে তাহাদিগকে বিশুদ্ধ করিবেন? এ সকল 
দ্রব্য জলে দ্রবীভূত হয় না, সুতরাং পূর্বোক্ত প্রণালী অবলম্বন করা 
যাইতে পারে না। একখান সরার মধ্যে ভ্রব্য স্থাপন করুন এবং, 


৩৮ ও তাহার উৎপত্তি। 


আর একখানি সর। দিয়] উহ। গাকিয়! দেন। সরার সন্ধিস্থলে মাটী 
৪ কাপড় দ্বার! প্রলেপ দিয়া যন্ত্রটী তপ্ত বালুকীর উপর স্থাপন ককুন 
এবং উর্ঘস্থিত সরার উপর ভিজা নেকড়! রাখিয়] দেন। নেকৃড়া শুক 
হইলে বিনু বিন্দু জল দিয়! পুনর্বার [সিক্ত করিতে হইবে । গম্ধক, 
কর্পুর প্রভৃতি পদার্থ উত্তাপ বশতঃ বাম্পাকারে পরিণত হইয়। উর্ধগামী 
হইবে এবং পুনবর্বার উদ্ধপ্থিত শীতল সরার নিষ্লে জমির়া সংলগ্ন হইয়া 
থাকিবে। মাটি, বালুকণ' গ্রভৃংত অধঃস্থিত সরার মধ্যে পড়িয়া থাকি- 





উত্ধপাতন হবার! পারদ বিশুদ্ধা 
সরার পরিবর্তে হাড়ি ব্যবহার হইয়াছে 


নব্য রসায়নীবিদ্য। নর 


বেক। এইপ্রক্রিয়ার নান উদ্ধপাঞ্ছন। ইহা! দ্বার! গম্ধক, কর্পুরর 
প্রভৃতি পদার্থ অনায়াসে বিশুদ্ধরূপে গগ্রাপ্ত হওয়া যায় । সচরাচর 
বাজারে যে পার! পাওয়া যায় তাহা রাঙ শিস৷ প্রস্ৃতি ধাতুর সহিত 
মিশ্রিত থাকে । পারার শ্বধন্ম এই যে ইহা লৌহ ভিন্ন অপরা- 
পর ধাতুর সংশ্রবে আসিলেই তাহাদের সহিত মিশ্রিত হইয়া 
ঠিক পারার মত তরলাবস্থায় থাকে । এই পার্কে দোষনির্পা 
করিয়। বিশুদ্ধ করিতে হইলে উর্ধপাতিত কর। আবশ্যক । 





উর্ধপাতন দবারা। রসসিন্দ,র প্রস্ততকরণ । 


শপ রা পি ক চল সপ জা 


* মিশ্রিতৌ চেত্রদে নাগবঙ্গৌ বিক্রয়হেতুনা 
তাভ্যাং স্যাৎ কৃত্রিমদোষঃ তগ্যুক্তি পাতনত্রয়াৎ ॥ -_রসেক্জচিস্তামণি | 


৪৩ ডু তাহার উৎপাত |] 


পাঠকগণ এমন মনে করিবেন নাধে এতক্ষণ অনধিকার চর্চা 
কর] হইতেছে । কজ্জলী হইতে কি প্রকারে রসসিন্দুর প্রস্তত হয় তাহা 
এখন সহজেই বোধগম্য হইবেক। এএই প্রক্রিয়াও উর্ধপাতন বই 
আর কিছুই নয়। রসেন্দ্রচিস্তামণিকার একটি বড় আবশাক বিষয় 
বলিতে ভূলিয়] গিয়ান্েন। কিন্তু রসেন্দ্রসারসংগ্রহে সে ক্রটী লক্ষিত 
হয় না। ইহাতে স্পষ্ট উলেখ রহিয়াছে-_ 


“ক্ফোটকরিত্বা তু মুক্তা ভমূর্ধলগ্নং বলিংত্যজেৎ 
অধংস্থং রসসিন্দুর ং সর্বেরোগেযু যোজয়েৎশ। 


বাহার। ম্বহস্তে রসসিন্দুর প্রস্তত করিয়াছেন তাহার! জানেন যে 
রসমিন্দুর ও গন্ধক উভয়েই এই প্রক্রিয়। দ্বার] উর্ধগ হয় (“উপে যায়") 
এই কারণে উর্ধলগ্ন গন্ধক পরিত্যাগ করিয়! জধঃম্থ উজ্জল দানাদার ও 
রক্কাভ রসনিন্দুর গ্রহণ করা হয়। এখন বিবেচনা করিয়া দেখা বাক 
এই গন্ধক কোথা হইতে আসিল? ""অবস্ত হইতে বস্তর উৎ- 
পত্তি হয় না” $ গন্ধক নৃতন স্থষ্ট হইল এমত হইতেঞ্পারে না। একটু 
সামান্ত গ্রণিধান করিলেই ইহা! বেশ হৃদয়ঙগম হইবে । ২৫ পল পারদ 
২ পল যাত্র গন্ধকের সহিত “রাসায়নিক কূপে” সংযুক্ত তইয়া ২৭ পল 
থিঙ্গুল বা রসপিপ্দুর উৎপাদন করে। স্থৃতরাং যদ্দি তুল্য ভাগ 
অর্থাৎ ২৫ ভাগ পারদ ও ২৫ ভাগ গন্ধক মর্দন করিয়া কজ্জবলী 
প্রস্তুত কর! খায় তবে ২৩ ভাগ গন্ধক অযুক্ত ( 07000103111)90 ) 
অবস্থার থাকে। কজ্জগীর কষ্ণরেণুর সহিত হরিদ্রাভ গন্ধকরেণু 
হইতে পৃথক কর! কঠিন হুইয়1পড়ে। যেমন কয়ল। ও গন্ধক একত্র 
মাড়িলে রুফবর্ণ গুড়া হয়, অথচ অণুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা পরীক্ষা করিলে 
স্প্ই দেখা যায় যে করলার কাল কণিকাগুলি হরিদ্রাভ: 
গন্ধকের কণিকার পাশাপাশি রহিয়়াছে। সর্বাগ্রে কজ্জলীর অবুক্ত 


নব্য রসায়ন বিদ্য ৪১, 


গন্ধক, পরে প্রকৃত কজ্জ্লী উর্দগামী হয়। তবে প্রভেদ এই যে কৃষ্ণ- 
বর্ণ ধুলিবৎ কজ্জবলী উর্দগামী হইলে রক্তাভ দানার আকারে পরিণত 
হয়। কিন্তু উভয়ের রাসায়নিক গঠন বাস্বরূপ একট প্রকার-_ 
তাহাতে কোন প্রত্দে নাই*॥ 


এখন ছই একটা কথ! বলিয়] এই প্রস্তাবের উপসংহার কর] যাইবে। 
আমরা বুঝিতেছি পাঠকগণ উতকন্ঠিত হইয়! ভিজ্ঞাসা করিবেন 
হিঙ্ুল, রসঙিন্দূুর চীনের সিন্ুর ও মকরধ্বজে তবে প্রভেদ কি? 
মকরধ্বজ ন1 ম্বর্ণঘটিত? বাস্তবিক মকরধবজ প্রস্তুত করিতে হইলে 
আমাদের কবিরাজ মহাশয়গণ রসেন্দ্রচিস্তামণি লিখিত প্রক্রিয়া অন্গু- 
যারী কজ্জলীর সহিত হুচ্ সোণার পাত “থখাওয়াইয়।'"' থাকেন । 
আমর! রসেন্দ্রচিপ্তামণিকারের মুখ দিয়াই এই প্রশ্নের উত্তর দিব। 
পারার সহিত বাং হউক আ'র সীসা হউক, বা সোনা রূপ? প্রভৃতি যে 
কোন ধাতুই «'খাওয়াওঠ না কেন, উর্ধপাতন করিবার সময় এই 
সকল ধাতু নিয়ে পড়িয়া থাকে ( ৩৮--৩৭ পৃষ্টা ভরষ্টব্য।) তবে যদ্দি 
কেহ জিদ করেন যে যখন একবার সোণার সহিত “ছোয়ান” হুই- 
যাছে তখন দন্বর্ণঘটিত” বলিলে দোষ ক? রাসায়নিক এখন 
“এনাচার |” যদি মকরধবজে সোণ' না থাকিয়াও ফোণার গুণ “শে” 
এপ্রকার কাহারও বিশ্বাস হয়, হউক; তবে তাহাকে সপ্তম অধ্যায় 
অভিনিবেশ পুর্ব্বক পাঠ কগিতে অনুরোধ করি । রর 

* পুর্ববোলিখিত ““নিরদিষ্টানুপাতিক শিয়ম'' অপরিজ্ঞাত থাকায় এই সংস্কার বদ্ধমূল, 
হইয়াছিল যে যতগন্ধক খাওয়ান যাইবে ততই পারদের গণ উত্তরোত্তর বর্ধিত 
হইবে । নিত্যনাথ সিদ্ধকৃত রপরত্বাকরে দেখা যায়: 

জির্ণেগন্ধে গুনদেপ়্ং যড়ভিবারৈঃ সমংসমম্‌ । 
ষড়গুণে গন্ধকং জীর্ণ মুচ্ছিতো! রোগহাতিবেৎ। 


1 রসসিন্দুর জলদিয়া বতই থলে মাড়া যায় ততই লাল হয়। অতি প্রাচীন 
কাল হইতে চীনদেশে এই প্রকারে সি দূর বানাইবার প্রথা চলিত আছে । 


চতুর্থ অধ্যায়। 
জোসেফ রাক ও ক্ষার। 


হিন্দু দার্শনিকগণের মতে যাবতীয় স্থাবর ও জঙ্গম পদার্থ পঞ্চ 
ভূতাত্মক । দেহ নশ্বর অর্থাৎ অনিতা । ইহা তন্মীভূত হইলে যে 
অংশটুকু বাধু (মরুৎ) হইতে উৎপন্ন তাহ বাস্থুসাৎ হয় যাহা জল 
হইতে সম্ভূত তাহ! জলে পুনরায় মিশিয়] যাঁয় ; যাহা নৃত্তক1 (ক্ষিতি) 
হইতে গঠিত তাহ মার্টি হইয়! যায় ইত্যাদি । সাদৃশ্যমূলক অনুমান 
হইতে প্রাচীনের! ভাবিতেন যে, যেমন দেহ ভন্ম হইয়া! গেলে কেবল 
মন্তিকার ভ।গ ( অস্থিভন্ম ) পড়য়। পাকে, আব আর সমস্ত উপকরণ 
অন্তান্য ভূতের সহিত মিলিয়! যায়, তেমনি শুফ কাষ্ঠ ভন্ম হইলে এ 
প্রকার হয়, অর্থাৎ কেবল ভম্ম বাছাই অবশষ্ট থাকে। গাছ পাল৷ 
পোড়াইলে যে ছাই ( বৃক্ষক্ষার ) পড়িয়া! থাকে তাহাও “মাটির” সামিল 
গণ্য হুয়। অতি পুরাকাল হইতে গাছ পাল।র ছাই ব| বুক্ষ 
দার (বিশেষতঃ কলার “বাসনার, ক্ষার) বস্ত্রাদ পরিষ্কার করিবার 
ভ'ন্য ব্যণহ্ৃতণ্হহয়! আসিতেছে । 

«* কিন্তু আর এক প্রকার ক্ষার আমাদের দেশে পাওয়। যায় । সাধা- 
রণতঃ ইন্থাকে সাজিমাটি বলে । চরক ও নুশ্রুতে ও এই ছই প্রকার ক্ষারের 
উল্লেখ আছে, যথা যবক্ষার -যবের শীর্ধ বা শীষ পোড়াইলে যে ভম্ম 
পাওয়। যায় তাহাই ষবক্ষার নামে পরিচিত এবং সর্জিকাক্ষার। সম্তা 
বিলাভী সাবানের উৎপাতে আর এখন কলার “বাননার” ছাই বস্ত্রাছি 


নব্য রসায়নী বিদ ৭ ৪৩ 


পরিষ্কার করিবার জন্য ব্যবহার হয় না। কিন্তু ৪০1 ৫* বংসর বয়স্ক 
পল্লীগ্রামবাসী অনেকের স্বরণ থাকিতে পারে যে দরিত্র লোক পূর্বে 
এইরূপ ফাবানই ব্যবহার করিত এবং এই ক্ষারকে তীব্র করিবার জন্ত 
ইহার জলের সহিত একটু চুণ মিশ্রিত করিয়া লইত। হিচ্গু খবিগণ 
জানিতেন যে যবঙ্ষার ও সঙ্জিকাক্ষার সম্পূর্ণ বিভিপ্ন। কিন্তু গ্রীক 
দ্শনিকগণ এই ছুই এর প্রভেদ বিশেষরূপে না বুঝবিয়া গোলমাল 
করিয়৷! ফেপিতেন। 

স্শ্রুত মতে পলাশ, আকন্দ, আপাং) কদলী প্রভৃতি গাছের ছাই 
জলে আলোড়িত করির। সেই জল একুশবার ছাঁকিয়। লইবে। পরে 
এই জল কটাহে ভালরূপ হাতাদ্বার নণড়িতে নাড়িতে পাক করিবে। 
পাক করিতে করিতে ক্ষার জল স্বচ্ছ, তীক্ষ ও পিচ্ছিল হইয়া! আসিলে 
উহ পুনরায় পুরু কাপড়ে ছাকিয়া লইবে। পরে কিউ ভাগ (গাদ) 
পৃথক করিয়। পুনব্বার ঘন করিবে। ইহাই মুহক্ষার ৷ 


উক্তক্ষারজল আবার ঘুটিউ পৌঁড়ান চুণের সহিত মিশাইয়! জাল 
দিবে, পরে ঘন হইয়! আসিলে ইহা লইয়া লৌহ পাত্রে রাখিবে। পাত্রের 
মুখ ঢাকিয়া বরাথিবে। এই উপায়ে সৃছ্ক্ষারকে তীক্ষ কর! 
হয়। 


প্রাচীন কাল হইতে জান! আছে যে ছাই, সাঁছিমাটা, ঘুটিউ পাথর 
€ অর্থাৎ যাহা পোড়াইলে চুশ হয় ), শ্বেত পাথর (7:15) প্রভৃতির 
উপর লেবুর রদ, কাজি বা আঙ্গ,র প্রভৃতির কোন অন্নরস প্রক্ষেগ 
করিলে ফেণার মত “গেঁজা” উঠিতে থাকে । 9৪৫11) 73190. পরীক্ষা 
দ্বার! প্রমাণ করিলেন যে মৃছক্ষারের এই গুণ আছে কিন্ত তীক্ষ ক্ষারের 
সে গুণনাই। তিনি আরও দেখিক়াছিলেন যে এই 'গেঁঞান' ব 
ফেণার মত পদ্ার্ণ আর কিছুই নয়-- অন্ন সংযোগে পুর্বোল্লিখিত পদার্থ 


৪৪ ও তাহার উৎপত্তি ॥ 


সমূহ হইতে ধীরে ধীরে এক প্রকার "বায়, নির্গত হইতে থাকে । 
বিন্ুক, শুক্তি, মুক্তা গুভূতি গুঁড়া করিয়! তাহার উপর লেবুর রস 
দিলেও এই প্রকার “গেঁজায়'"'। এই সকল কঠিন পদার্থে এই 
নবাবিৃত বায়, “আবদ্ধ” থাকে এই জন্য ব্রাক ইহার নাম “আব্ঘ 
বায়”, রাখিলেন। ব্রাক স্পষ্টর্ূপে দেখিয়াছিলেন যে মৃছ্ক্ষার 
আর কিছুই নয়-__-এই আবদ্ধবাষু সংযুক্ত তীক্ষক্ষার। 


তীক্ষক্ষার + আবদ্ধ বায়ু- স্বৃদুক্ষার | 


যেমন মৃছ্ক্ষার হইতে (উত্তাপ বা! প্রক্রিয়াবিশেষ দ্বার! ) “আবদ্ধ 
বাবু” বাহির করিয়! লইলে উহ? তীক্ষক্ষারে পৰিণত হয় তেমন 
আবার তীক্ষক্ষারের সহিত “আবদ্ধ বাঁযু” সংযুক্ত করিতে পারিলে উ5! 
মৃহক্ষারে পরিণত হয়। এখন দেখ! যাক চুণ কি? সকলেই 
জনেন ঝিম্ক ও ঘুটীঙ বা সাদা পাথন বিশেষ পোড়াইলে চুণ 
হয়। ইহার অর্থ আর কিছুই নয় কেবল পাথর প্রচণ্ডরূপে 
উত্তপ্ত হইলে উহা হইতে আবদ্ধ বায়ু বহিগ্গিত হয়। অবশিষ্ট যে 
পচুণ” থাকে তাহ তীক্ষক্ষার মাত্র। ইহ! এতই তীক্ষ যে পানের সঙ্গে 
একটু অধিক মাত্রায় চুণ সেনন করিলেই গাঁল “পুড়িয়1” যায়। এখন 
একটা সামা পরীক্ষা করা যাউক। 
« (১ম) বাজারের “সোড।” লইয়া! তাহাতে একটু “এসিডের” 
গুড়া মিশ্রিত করুন। ইহাতে জল দিব! নাত্র'“থকৃ-বক্‌?, করিয়! যেন 
ফুটিতে থাকিবে--অর্থাৎ সোড] ও এসিডের সংযোগে আবদ্ধ বায়ু এত 
'শাত্ গ জোরে নির্গত ছয় যে বোধ হইবে ষেন জল যথার্থ 
“ফুটিতেছে” । 


নব্য রসারনী বিদ ৪৫ 


(২য়) একটু পরিষ্কার চুণের জল কাচের গেলাসে লইয়া একটা 
নলে ফু দ্রিপা এ জলের মধ্যে ফুসকুসের বায়ু চালনা করুন। শীঘ্রই 
দেখিবেন যে চুণের জল ছুধের নত সাদা হইতেছে । ছুই চংরি মিনিট 
এইরূপ করিয়৷ এই জল “থিতিতে” দিলে (অর্থাৎ স্থির ভাবে রাখিলে) 
কিছুক্ষণ পরে দেখ! যাইবে যে পাত্রের নীচে খড়ির গু'ড়ার মত সাদ। 
সাদা কণিক। জমিয়াছে। ধীরে ধীরে উপরের পরিষ্কার জপ অন্য 
পাত্রে ঢালিয়। পরে “চেকে” দেখিলে (আস্বাদন করিলে) স্পষ্ট বোঝা 
ব'ইদে বে চুণের জলের তীক্ষক্ষার গুণ বা তীব্রতা চলিয়া! গিয়াছে । 
এক টুকর। কাগজ হৃরিদ্রার রসে সিক্ত করির! তাহাতে ২।৪ ফোটা 
প:রঞ্ার চুণের জল দিলে কাগজে লোহিতব্ণ দাগহয়। ক্ষার পদার্থ 
মাত্রেই এই ধর্মমাক্রান্ত । কিন্ত ক্ষারের তীক্ষুতা বিনষ্ট হইলে হরিদ্রা 
রসের এরূপ বর্ণের পরিবত্তন হয় ন1/। শেষে উক্ত খড়ির মত সাদা 
কণিক!1গুপি সংগ্রহ করিয়! তাঁহার উপর লেখুর রস বা কোন অন্তর 
দিলে আবার ফেণার মত “'গেঁঞজাইতে” থাকিবেক । 


(৩য়) একটী কাচের স্তস্তাকৃতি পাত্রের ভিতর লৌহ তারে 
ংলগ্ল এক টুকর। জলম্ত কয়ল' প্রবিষ্ট করাইয়৷ দেখিবেন যে কয়লা 
ক্ষণকাল মাত্র জলিয়। পরে নিবিয় যাইবে । এই পাত্র পুর্বে অশ্লজান 
বাষুতে পূর্ণ করিয়া যদি রূপ পরীক্ষা করা যায় তবে তোকথাই নাই, 
কয়ল! ধূ ধু করিয়। জণিবে এবং ইহ! হইতে চারি দিকে অগ্রিস্ফুলিজ' 
নির্গত হইবে । এই পাত্রে একটু সামান্য জল ঢালিয়া তাহা বিশেষ 
রূপে নাঁড়িলে দেখ! ষাইবে যে জল অল্নাক্ত হুইয়াছে ( হরিদ্র! কাগজ 
দিয়া পরীক্ষ। করুন ) অর্থাৎ কয়ল1 ও অন্নজানের সংযোগে এঁ জলের 
মধ্যে অন্রসাত্মক বাধু মিশ্রিত হইয়াছে । আম্বাদনেও এ জল সামান্ত 
“অয়।ক্ত বোধ হইবে 1 ' পরে এই পাত্রেপরিষ র পের জল ঢালিয়! 


৪৬ ও তাহার উৎপত্িি। 


একটু নাড়িলেই পূর্বববৎ সাদ। হইয়1 যাইবে । এবং জল থিতিলে সাদ! 
সাদ! কণিক1 শাত্রের নিয়ে পড়িয়! থাকিবে। 

এই উভয় পরীক্ষণ! দ্বার! টাও প্রম।ণ হইল থে ফুসফুস হইতে যে 
বাধু আমরা প্রশ্বাসের সহিত ত্যাগ করি- আর অঙ্গার দগ্ধ হইলে 
যে বায়ু উৎপন্ন ছয়__ইহার! সমগুণ বিশিষ্ট। অর্থাৎ পূর্ব্বোক্ত “আবদ্ধ 
বায়ু” ও অক্জারকায় বয়ু একই পদর্থ। 


অন্ন ও ক্ষার এবং উহাদের গুণাপচয় । 


অগ্ন ওক্ষার এক প্রকার সম্বন্ধ সুত্র আবদ্ধ। প্রাচীন খধিরা 
এই অন্লাত্বক ও ক্ষারাত্মক পদার্থের পার্থক্য লক্ষ্য করিয়াছিল্নে এবং 
উভয়ের বৈষম্য বোধগম্য করাইবার জন্ক মন্তিফষ চালন! কারধাছেন। 
বৈশেধিক দর্শন মতে পৃথিণী ও অগ্নিগুণের আধিক্যে অক্পরস এবং কটু 
ও লবণ রূসাধিকো ক্ষাররস উৎপন্ন হয়। ক্ষার ও অন্ন যে পরম্পব 
বিরুদ্ধ ভাবাপন অর্থাৎ ক্ষারের সহিত অন্ন মিশ্রুত করিলে ক্ষাবেব 
কটু তীক্ষত। ও অন্রের অস্ত। বিনষ্ট হয় তাহা স্ুশ্রতেও আলোচিত 
হইয়াছে ।* 

এখন পাঠকগণ সহদেই বুঝিতে পারিবেন 'য ষাহারা অন্ন রোগে 


* রসেনায়েন তীক্ষেন বীর্ষ্যোঞ্চেন চ যোক্গিত: 
আগ্নের়েনাখ্সিন| তুলাঃ কথং ক্ষারঃ প্রশাম্যতি ৫ 
এবং চেন্সন্সে বৎস প্রোচ্যমানৎ নিবোধ মে। 
অল্নবজ্জখান্‌ রসান্‌ ক্ষারে সর্বানেব বিভাবয়েৎ । 
কট্কম্তত্র ভূয়িগ্গো লবণোহনুরসস্তথ] | 
অয়েন সহ সংযুক্ত; স তীক্ষলবণে! র'ঃ॥ 
মাধুধ্যং ভজতেইত্যথং তীক্ষতাবং বিমুঞ্চতি । 
মাধূধ্যাচ্ছমমাপ্রোতি বহ্ধিরন্তিরিবাপ্ল.তঃ। 
* মুক্ত, ক্ষারপাকবিখি 


নব্য রসায়নী বিদ)] ৪৪ 


ভুগিতেছেন এবং সর্ব] অন্ন উদ্গার করিয়া! থাকেন তাহারা একটু 
চুখের জল ব। সোড। সেবন করিলেই সহজে উপশম পান--ইহার কারণ 
যে বিপরীত গুণ বিশিষ্ট অমন ও ক্ষার সংযোগে উভয়ের তীবগুণ নষ্ট 
হইয়া মাঝামাঝি একটা নুতন (7199/78]) পদার্থ উৎপন্ন হয় উহা 
অগ্নও নয় ক্ষারও নয়। 


পূর্বে দেখান হইয়াছে যে চুণের জল ক্ষারগুণবিশিষ্ট এবং আবদ্ধ 
বায়ু অঙ্প।ত্মক এই উভয়ের মিশ্রণে যে খড়ি চুর্ণবৎ সাদ! সাদ। কণিকা 
উৎপন্ন হয় তাহাও নূতন পদার্থ এবং একেবারে ক্ষার ও অন্নগুণ 
বঙ্ছিত। 


জোসেফ বাকের কথ। পুর্বে বল। হইয়াছে । তাহার আরও বিশে- 
বত্ব এই যে তিনি সর্বপ্রথমে পরিষাণাত্মক ( 00800060155) 
ভিত্তির উপর শ্তাহার পরীক্ষা নিচয় সংস্থাপন করেন। এখন আমরা 
জানি যে বিম্ৃক ও ঘুটিং পোড়াইলে যে চুণ হয় তাহা! ওজনে পাঁতল৷ 
বা অনেক কম। ১০৭ মণ ঘুটাও পৌঁড়াইলে ঠিক ৫৬ মণ চুণ পাওয়। 
ষায়। বাকী ৪৪ মণ অঙ্গারায় ব! "* আবদ্ধবাযুরূপে” চলিয়া যায়। স্ৃত-. 
রাং পরিমাণজ্ঞাপক রসায়নশাস্ত্রের ব্রাক যে পথগ্রদশক ইহ! 
বলিলে অতুযক্তি হয়ন!। 


চতুর্থ অধ্যায়ের পরিশিষ্ট । * 


পরিশ্রুত জল । 
বাঙ্গালা সাহিত্যে “পরিক্রত জল+ 01581150 968 এর অর্থ 
বোধক বলিয্না উহার পরিবর্তে অনেক সময় ব্যবহৃত হইতে দেখা যায়। 
আরুর্বেদ শাস্ত্রে “পরিক্রত” শব্ধ এমত বিশদন্ধপে গ্রয়োগ হইয়াছে যে" 


৪৮ ও ভাহাব উৎপত্তি । 


ভিন্নার্থ বোঁধক হইবার কোন কারণ দেখা যায় না। ক্ষার জলের 
সহিত আলোড়িত করিয়1 বস্ত্রের দ্বার] ছাকিস্বা লওয়াকেই ““পরিশ্রাব” 
কহে । ইংরাজী রাসায়নিক সাহিত্যে এই প্রক্রিয়াকে «11215190001 
91 0) 881)95” বলে । চরক ও সুশ্রতে 01561118007) (চোলাই করা) 
প্রক্রিয়ার অনুরূপ কে'ন বিধি ব্যবস্থা! দৃষ্ট হয় না। সুতরাং তদনুযায়ী 
কে'ন পারিভাষিক শবর্ষের প্রয়োগ আছে বলিয়া বোধ হয় ন1। 
গোবিন্দ ভগবৎপাদ বিরচিত «রসহদয়' নামক প্রাচীন রসগ্রন্থে-_ 
“পাতাযপাতন যন্ত্রে”ঠ ও 'ভিয্যকপাতন বিধাননিপা!তত সকল দোষ 
নিশ্বক্ত” ইত্যাকার প্রক্রিয়ার ভূরি ভূরি উল্লেখ আছে। অতএব 
৪5675 ও 115011100] %813:এর পরিবন্ডে 'পাতন” ও 'পাতিত 
বারি” এই ত্বই শব্ধ ব্যবহার কব যাইতে পারে। 


+ যথাঃ-হুশত-ক্ষারপাক বিধি, ১১ অধ্যায়, ত্র স্থান তঞ্চেতর ক্ষার বদণদ্ধা 
পররস্থীবয়েৎ” । “মহতি বস্ত্রে পরিশ্রীব্য তরং বিভজ্জয চ 1” 
''পলাশভস্ম পরিক্রুতস্যোফোদকস্য" 
স্থঞ্রত ১য় অধ্যায়, চিকিৎলসিত স্থান । 
, “ক্ষার প্রস্ততকরণ-__চরক সংহিতা--২৬ অধ্যায়_“হুত্রস্থান যা বাদি 
স্বর! ন্বীর প্রন্তত কর] ঘায়।” বাঙ্গাল অস্বাদ* ! 


পঞ্চম অধ্যায় । 


ইউরোপে বিজ্ঞান-চর্চা । 
রয়াল ইন্ষ্্রটিউশন-_ইন্ার উৎপত্তি ও কার্যাকারিত।--নব্য 
রসায়ণী বিদার এক অধার।* 


সেপ্টেম্বর মাসের প্রারস্তে (১৯০৪ খুঃ ) এখানে আমিয়। 
পৌছি। তথন এখানে গ্রীষ্মের ছুট; বৈজ্ঞানিকগণ ইতস্ততঃ 
বিক্ষিপ্ত ; কেত সমুদ্রবক্ষে। কেহ বা আনন পর্বতোপরি, আবার 
কেহ ব' আমেরিকা পরিভ্রমণ করিতেছেন। কিন্তু সৌতাগা- 
ক্রমে কেমিকাল গোপাইটিন ( রাসায়নিক সভার) পুস্তকা- 
গার থোলা ছিল। এই স্থানে রমাযনশাস্্বিষয়ক নান। ভাষায় 
লিখিত বছুমূল্য গ্রস্থনিচয় সংগৃহীত আছে; বিশেষতঃ এমন 
অনেক ছুপ্রাপ্য পুস্তক আছে, যাহ। কলিকাতায় পাইবার কোন উপায় 
নাই । সুতরাং চাতকের ন্যায় তৃষ্ণানিবারণ করিতে লাগিলাম ; এবং 
হিন্দুরসায়নশাস্ত্রের ইতিছাসের দ্বিতীয় খণ্ডের অনেক উপকরণ সংকলন 
করিতে সমর্থ হইলাম। এইপ্রকারে একমাস কাটিয়৷ গেপ। কিন্তু 
আমি ৮ঞ্চলচিত্ত হইয়! পড়িলাম। যাহার! সর্বদ। রাসায়নিক গবেষণা- 
গৃহে (18007286015 ) কাজ কর্মে বাস্ত থাকেন, তাহাদের পক্ষে হাত 
প৷ গুটাইয় বসিয়া থাক] বড়ই কষ্টকর বিশেষতঃ এট শীত প্রধান 
দেশে চুপ করি বলিয়া! থাক! যায় না। অক্টোবর মাসের প্রারজে 
একজন প্রসিদ্ধ রাসায়নিক আমার সমক্ষে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। 


লিন 


£তানীনহ্ইতে উদধত। 


পপি শা পি পপ পপ সপ | আজ সপ 


৫৩ | নব্য রসায়নী 'বদা! 


লগ্ডনে আনিয়৷ সর্বাগ্রে ইহার খোজ ক'র, কিন্তু তখন ইনি ফান্সে 
ছিলেন। সর্বপ্রণমে রয়াল ইন্ট্রিটিউশন (1116 1২০0)41 117511- 
(109) ) দেখাইধার নিমিস্ত তিনি আমাকে সঙ্গে লইয়া! গেক্েন। বলা 
বাহুল্য, বিজ্ঞানের পীঠস্থানগুলি দশন ও তত্রস্থ উপাসক ও প্ররোহিত- 
দ্বিগের সহিত আলাপ পরিচয় ৪ চিন্তাখিনিময় করিবার জনা আমি 
ইউরোপে আসিয়াচছি। বালতে কি, রয়াল ইন্ষ্টটিউশনের বাহা ও 
আভ্যন্তরিক দৃশা দেখিয়া পথম্তঃ আমার মনে ঝড় একট। সম্ভ,মের 
উদয় হইল না । আমা'দর প্রেসিডেন্পী কলেজ ইহা! অপেক্ষা! বিশাল, 
এবং জনের মধো শ্রদ্ধার উদ্রেক কক্ে। কিন্তু শান্রহই মনের ভাব পরি- 
বন্তিত হইয়। গেল। অ'মি তীথবাগ্রী--বখন আমার পাণ্ডা অজ,লী- 
নির্দেশ করিয়া! একে একে সমস্ত দেখ'ইতে লাগিলেন, বখন গুদর্শন 
করিয়া বলিলেন; “এই দেখন কাচের আধারের ( 018৯5 ০০৪৫ ) মধ্যে 
যত্বে সংরক্ষিত যে সমস্ত যন্ত্র রহিয়াছে, তার ডেবী ও ফারাডে অনেক- 
গুলি যুগান্তরসংঘটনকারা আবিক্দ্রয়া সম্পাদন করিয়াছিলেন”, ইত)াদি 
- তখন আর ভক্ত প্রকৃন্থিস্থ থাকিতে পারিলেন ন। ভাবে গদগদ ভইয়। 
পড়িলেন। নাস্তবিক যখন তাঁথযাত্রী শ্রাক্ষেত্রে গিয়া জগক্জথের দশন- 
লাভ করেন, তখন কি মুদ্ভি কদাকার বলিয়া [বশ্বকর্মার নিন্দা করিতে 
বমেন, না৷ ভক্তিরসে পিক্ত হইয়া অশ্রধারা বষণ করিতে থাকেন ? 
বিখ্যাত রাসায়!নক ডাক্তার থর্প যথাথ হ বলিয়াছেন £-_ 


“রয়াল ইন্ছিটি টদনের রসায়নাগার চিরদিন বৈজ্ঞানিকের গক্ষে 
পবিভ্রভূমি বলিয়া গণিত হহবে। এখানেই ডেবী সেই সকল 
আব্ষ্ক্রিয়া করেন, যন্্বার! জড়বিজ্ঞানে যুগান্তর সংঘটিত হইয়াছে। 
রসায়ন শাস্ত্রের ভত্তেরা ঝয়াল ইন্ইিটিউশন্‌ অপেক্ষা স্থরম্য ও সুসজ্জিত 
বিজ্ঞানমন্দিরে আজ কাল নিজ নি কার্যে ব্যাপৃত থাকেন। কিন্ত 


ও তাহার উৎপত্তি । ৫১ 


মুসলমানের পক্ষে নক্কাধামে কাবা যেরূপ, রাসায়নিকের পক্ষে এই 
স্কানটী তদ্রপ। ডেবী ও ফারাডের প্রতিজ্ঞা ও কার্ধাপরম্পর৷ ছার! 
পৰিত্রীকৃত এই গৃহে আসিয়া যে বিদ্যার্থীর উৎমাহ বাড়িবে ন|, ব| 
অনুরাগ প্রগাড়তর হবে না, তিনি কাহারও ঈর্ধার পাত্র হইতে 
পারেন না”। 

আপনার পাঠকপাঠিকাবর্গের অবগন্ধির জন্য এই রয়াল ইন্টিটিউ- 
শনেব উৎপত্তির বিষন্ন কিছু বল। বাইতেছে। ইহ1'আদে গবিবলোক- 
দের উপকাধের জন্য স্থাপিত হয়। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে কাউণ্ট 
রমফোর্ড ইহ স্থাপন করেন । তিনি ১৭৯৯ সালের প্রথমাংশে একটা 
পুক্তিক] প্রকাশ করেন । ইহার নাম-_-'7101১052]8 101 10111105 
1) 5111)011)1107) 01 0100 700101)0115 91079 000৭1111702 
&:1১001)]16 10561600108 টি 00095116016 070016026 410 
(:,011)09111)5 00065610611 11000901160107, 01 ০৭619] 170601121702] 
10)৮1)010715 200 111])10৮0]701065) 20৭ 101 66801100020 00 
১৭৯01 1)1)1195000101021 16060105 270 ০1907176105 076 210] 
(30101) 01 35010170010 (1) 0087)01) 1১871১09555 01 1115." ইহা! 
হইতে দেখা যাইতেছে যে, অর্থকর শিল্প ও বিজ্ঞানের পরস্পর ঘনিষ্ঠ 
যোগসাধন, বৈজ্ঞানিক ও শিমীদেত সহযোগিতায় কৃষি, শিল্প, 
বাণিজ্যাদ্দির উন্নতিসাধন এবং জনসাধারণের হ্থখ-ম্বচ্ছন্দ্য-বৃদ্ধি রম্‌- 
ফোডের উদ্দেশা ছিল। প্রস্তাৰিকাতে সভাব ছগি প্রধান উদ্দেশ্য 
এইরূপে বর্ণিত আছেঃ--%/7)0 5১০৫৮ 2710. 86101 01059107০01 


176 10100/16450 01 2111761৪100 056১01 1110197061761165) 277 
(62,01)81)5 01)0 90901169610]. 06 5010100100 015009৮61195 1০ (116 
87010105010] 01 2165 200. 2086609৯200 0০0 
200 60 06 21001085201 001095610 00178107 200 0018৮67- 
8৫00, 


৫২ নবা রসার়নী বিদ্লা 


১৮০২ খুষ্টান্দে রম্ফোডে'র সহিত এই সভার সন্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হয়া 
তাহার পর হইতে, বৈজ্ঞানিক আবিক্ক্রিয়া সকল কিরূপে মন্ুয্যের ধন- 
বৃদ্ধি, বা সুখবৃদ্ধির সহায় হইবে, মন্ষোর কাজে লাগিবে, রয়াল 
ইনৃষ্টিটিউশন সে চিন্তা আর করেন না । এখন খাঁটি বৈজ্ঞানিক 
গবেষণ। ও জ্ঞানবিস্তার ইহার কার্ধয। ডাক্তার গার্ণেট ইহার €খম 
অধ্যাপক বা আচার্ধ্য নিযুক্ত হন । তাহার পর ডেবী এই কারোর 
ভার প্রাপ্ত হন। 


জগতের ইতিহাস আলোচন! করিলে অনেক সময় দেখিতে পাওয়' 
ফায় যে, যখন কোন দেশে ব। যুগে বিশেষ কোনও পরিবর্তনের প্রয়ো- 
জন হয়, তখন মঙ্গলময় বিধাত। যেন তাহার বিধান সংসিদ্ধ করিবার 
জন্য এক একজন মহাপুরুষ আনিয়! উপস্থিত করেন। রাষ্ট্রবিপ্রবে 
ধর্মজগতে, নৈতিক ও বৈজ্ঞানিক জগতে ইনার অনেক উদ্দাহরণ পাওয়' 
বায়! গীতাকারোক্ত “সম্ভবামি যুগে যুগে” বচন সকল জাতির মধ্যে 
ও সকল দেশে প্রযোজ্য । অবশ্য কথাগুলি বিষয়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন 
প্রকাে বুবিরা লইতে হয়। নতুবা ধর্মের, শিল্পের, সাহিতোর; 
বিজ্ঞানের, নানা বিভাগে যুগপ্রবর্তকগণের প্রতোককেই অবতার বলিতে 
হয়। তাহা বলা আমাদের উদ্দেশ্য নহে । আমর! কেঝল ইহাই 
বালিতে চাই, যখন যেমন লোকের প্রয়োজন, সেইরূপ লোকের আবি- 
ডাব হয়্। রয়াল ইন্ষ্টিটিউশনও এইরূপে স্থাপিত হইল; ডাক্তার 
গাণেটের পর উপযুক্ত একজন রাসায়নিকের বিশেষ গ্রয়োজন হইল) 
এমন সময় বিধাত1। যেন ডেবীকে হাতে করিয়! আনিয়! বলিলেন, 
এই লও?” | বাস্তবিক যাহার। নিজের পায়ের উপর দড়াইতে চায়, 
ঈশ্বর তাহাদের সহায় হন। এখন ভারতে স্বগ্গীক্ তাতার গুস্তাবিত 


ও তাহার উৎপভি। ৫৩ 


কাবেষণা-মহাবিদ্যালয়ের মত একটি বিজ্ঞান-মন্দিরের বিশেষ প্রয়োজন 
হইয়াছে । ইহ! স্থাপিত হইবার পর ভয় ত কিছুদিন বাঁচিয় থাকিবার 
জনা, কাজ করিবার জনা, ইনাকে সংগ্রাম করিতে হইবে, কিন্তু যথা” 
কালে বে ইহার উপযুক্ত একজন লোকের আবির্ভাব হইবে, তাহা! 
নিঃসন্দেহে বল। যাইতে পারে । 


পুর্বে বল! গিপ়াছে রমূফোডের একান্তিক যত্বে এই পাঁঠস্থান 
স্থাপিত হয়, কিন্ত ইহার স্থায়িত্ব ও প্রভার যশোভাগী ডেবী। তিনি 
দরিদ্রের সস্তান , বালাকালেই তাহার পিতৃবিয়োগ হয় এবং সংসারের 
ভার তাহার স্কদ্ধে পড়ে। এক ডাক্তারখানায় ভিনি এপ্রেন্টিস নিযুক্ত 
হন। কিন্তু সে সমরকার ডাক্তাঁরখানা! আর এখনকার ওষধালয় সম্পূর্ণ 
বিভিন্ন। এ সময়ে তিনি একটিও রাসায়নিক পরীক্ষা (031১৫72002৮) 
দেখেন নাই) এমন কি, রাসায়নিক যগ্ন সকলের আকুতি কিরূপ 
তাহাও জানিতেন না। তাহার যন্ত্রের মধ্যে ছিল, শিশি, মদের 
'গেলাস, চায়ের পেয়ালা, তামাকের নল, এবং কখন কখন ধাতু গলাই- 
বার মাটির মূচী। আমাদের দেশের যুবকগরণ অনেক সময় কেবল 
গবর্ণমেণ্টের উপর দোষারোপ করিয়া! ক্ষান্ত হন, আর বলেন, রাঁসাক্স- 
শির পরীক্ষা! ও গবেষণ। করিতে হইলে বড় বড় বিজ্ঞানাগার চাই-_ 
অজন্্র টাক! চাই,---আমি ইহার উত্তরে ক্রমান্বয়ে ডেবী, ফারাডে প্রমুখ 
বৈজ্ঞানিকগণের চরিত্র বর্ণন। করিব । তাহা হইতে দেখা” যাইবে যে, 
ইচ্ছা থাকিলেহই উপায় ভয়--৬/1)010 11)616 15 5, ৮1]]) 0616 25 
১ ৮৮29, 

যত কিছু বড় বড় আবিষ্কার, তাহা অনেক সময় “'ক্ষেপা” ব 
“মাথাপাগল।' লোকের খেয়াল হইতে উদ্ভূত । যখন মহামতি প্রিষ্লী, 
গাবোক্সাসিয়ে প্রভৃতি দেখাইলেন যে সচরাচর যাছাকে দাহ (০02)1১0$-, 


৫৪ নবা রসায়ণী বিদ্যা! 


1101) ) ও শ্বাসগ্রহণ (1651ঠ1101 ) বলে, তাহাতে বাধুর উপকরণ 
অয্নজানেরই (০১৪07 ) কাজ বেশী, এবং সেই সময়ে কাবেগ্িস 
গ্রমাণ করিলেন যে, জল মৌলিক পদার্থ নয়_-উদ্জান ও অষ্লজান 
নামক ছুই বিভিন্ন বাযুর ( £৪৯ বায়ু) রাসায়নিক সংযোগে এই যৌগিক 
(০01)1)0001 ) পদার্থ উৎপন্ন, তন এক মহা আন্দোলন উপস্থিত 
হইল | এই সনয়কার দুই সঠম্র বৎসর পুর্বে হিন্দু ও গ্রীক পণ্ডিতগণ 
সিদ্ধাত্ত করিয়াছিলেন যে, ক্ষিতি, অপ্‌, তেজ, মরুৎ, ব্যোম, এই 
পঞ্চভূত সমবায়ে যাবতীয় পদার্থের স্থষ্টি ভয়। হিন্দুগ্ণ 
মৃত্যুকে যে পঞ্চত্বপ্রাপ্তি বলেন ইঞার মুলে এই সিষ্ধান্ত রভিয়াছে ;. 
অর্থাৎ মানুষ যখন মরে, তখন তাহার শরীরের উপাদানগুলি পঞ্চভুতে 
মিশিয়। যায়। কিন্তু যখন কাবেগডিস দেখাইক্েন যে “অপ” (জল' একটা 
ভূত বটে কিন্তু মৌলিক পদার্থ নয়, তখন বৈজ্ঞানিক জগতে এক মহা- 
হুলুস্কুল পড়িয়! গেল। দন দিন নূতন নূতন বাযুর (545) আবার হইতে 
লাগিল-বথা যবক্ষারঞান, ক্লোরিন ইত্যাদি । পুর্ব "ক্ষেপালোকের'” 
কথা বালয়াছি। ডাক্তার বেডোজ (735000৭ ) এই শ্রেণীভূক্ক। 
তাহার এক খেয়াল হইল-- যেমন উদ্ভিজ্জ ও খনিজ নানাবিধ কঠিন ও 
তরল ওঁবধ প্রয়োগ দ্বারা রোগের আরোগ্য হয়, তেমনি এই সকল 
নব-আবিষ্কৃত বায়ু সেবন করাইতে পারিলেও তদ্রপ ফললাভ হইতে 
পারে। এঁই বিশ্বাসের বশবত্ হইয়া (1১716017701 17050696101) ), 
অথাং ধায়বীযর় ইাসপাতাল স্থাপন করিলেন। অনেক রে'গীও এই 
হুজুগে গড়িয়া! এখানে উপস্থিত হইতে লাগিল। রাসায়নিক পণীক্ষাকাধেয 
দক্ষতার ভন্য ডেবী ইতিমধ্যে প্রসিদ্ধিলাভ করিয়াছিলেন । ত্াঞ্চাকেই 
এষ্ট হশ্সপাতালের তত্বাবধায়ক নিয়োগ করা হইল। কিছুকাল পুর্বে 
যবক্ষারজান (111008শো। ) আনজান-সংযোগে এস্তত € 1107095, 


ও তাহার উতপত্তি। ৫৫ 


010০ ) এক বায়ু আবিষ্কৃত হয়। ডেবী পরীক্ষা করিয়া দেখাই- 
লেন যে, এই বায়ু সেবন করিলে হয, কেবল জীবনধারণ কর! যায়, 
তাহ। নয়, ইহাতে নাড়ী দ্রুততর হয়, মাতষক ক্ষিপ্তের মত নাচায় 
এবং চিত গফুলু রাখে । ইনার নাম সেই সময় হইত হাসিবার 
(170£11175 )) ঠিক বপ্লতে গেলে (170217667 0589176 ৪5) 
অর্থাৎ হাস্যোৎপাদক বাযুহউল। চারিদিকে এক “হৈ চৈ” পড়িয়। 
গেল । মদ্িরা (8 110910 ), আফিং (9. 50110) সেবন করিলে মনে 
কত রকম ভাবেব উদয় হয় ; ছুঃ.খর বিষয় তাহার প্রত্যক্ষ প্রমাণ 
দিতে অক্ষম । পাঠকগণ ডিকুইন্প বা] কমলাকাস্তের সাক্ষাগ্রহণ 
করুন। চত্রকর গিগ্রে কর্তৃক আশ্কত যে চিত্রের প্রতিলিপি আমরা 
দিলাম, তাহাতে দেখ! যাইবে রয়াল ইন্ট্িটিউশনের কোষাধাক্ষ সার 
জন হিপসলী হাস্যোদ্বীপক বাযু “সবন কাঁরতেছেন এবং রম্ফোর্ড ও 
অনেক সৌখীন সাহেব ও মেম হা! করিয়া দেখিতেছেন। ডাক্তার 
গাণ্ণেট বাধুপ্রয়োগ করিতেছেন, ডেবী তাহার সহকা|রতা করিতে- 
ছেন, রমফোর্ড দ্বাগ্ের নিকট দীড়াইয়া আছেন । 

ডেবীর খ্যাতি তাহাকে বয়াল ইন্ষ্টিটিউশনের সংন্রবে আনয়ন 
কিল। সে সময় তিনি তরুণবয়স্ক যুবক মাত্র । গাহার বয়স তখন 
তেইশ পুর্ণ হয় নাই । রুমফো' প্রথমতঃ চেহার। €দখিয়া ভাবিলেন, 
এ ছেলে মান্য আবার লেক্চার দিবে কি? এইঞুন্য রমৃফোর্ড 
প্রথমে এক ক্ষুদ্রগৃহে তাহার বক্ত.তা দেখিয়! তাহার ক্ষমতায় অন্ত 
হইয়া পরে তাহাকে সর্বসাধারণের সমক্ষে বস্তুত" দিতে অঙ্ঈমতি 
দেন। 

কিছু দিনের মধ্যে ডেবী রগ্জাল ইন্ট্রিটিউশনের সর্কেসর্ব্বা হই- 
লেন। এই সভা লগুনের ধনী ও নৌধীন লোকদের চাদ! বারা 


৫৬ নবা রসায়নী বিদ্যা 


চলে । ডেখীর অপুর্্স কবিত্ব ও বাগ্সিতায় ইহার খ্যাতি সর্বত্র ছড়া- 
ইয়! পড়িল.) এবং ইঞ্চাব প্রন্টি লোকের অনুরাগ প্রগাঢ় ছুইয়! উঠিল 
ডেবী সর্বঞ্র ধনী ও বিলাসীদের ভবনে নিমন্ত্রিত হইতে লাগিলেন । 


| ৪ দে 


টা এ | 
14 রি রা 


মে ্] 1] ১ 


টি 


রি : 


। ১১:/1৯ 55151851:5218 


২৮ 
ৰ এ ই. 





ও তাহার উৎপত্তি । ৪৭ 


'দিনে বিজ্ঞানান্ধশীলন ও রাত্রিতে সামাজিক আমোদ প্রমোদে তাহার 
'সময় অতিবাহিত হইত । সৌখীন লোকদের বাড়ীতে খাইতে যাই- 
বার সময় তাড়াতাড়ি ময়লা! কামিজ ও মোজ! খুলিতে ভূলিয়! গিয়া 
তিনি তাস্থার উপর আবার পরিষ্কার কামিজ ও মোজা পরিতেন। 
এইরূপে তিনি কখন কথন পাঁচট। কামিজ ও পাচজোড়া মোজা পরিয়া 
'অজ্ঞাতসারে সং সাজিতেন। এই রয়াল ইন্ ইটিউশনের সহিত 
সংস্থষ্ট হইবার কিছু পরেই ডেভী কয়েকটা নূতন আবিষ্কার করিলেন । 
উঠাতে বৈজ্ঞানিক জগতে নবযুগের আবিভ্শাব হইল এবং স্ৰাহার 
যশঃণোৌরভও দিগ দিগন্ত পরিব্যাপ্ হই! এই বিষয়ে কিছু বল৷ 


বাইতেছে। 
পুর্বে যে পঞ্চভৃতাত্মক দেহ ও অন্যান্ত পার্থিব পদার্থের কথা 


উল্লেখ কর! গিয়াছে, ইছার মূলে বৈজ্ঞানিক গুছ তত্ব নি্ধিত রহি- 
যাছে। হিন্দুরা বলেন এই নশ্বর দেহ তন্ম তইয়! «গলে দেহের যে 
অংশটুকু বাসু (মরুৎ) হইতে উৎপন্ন, তাঁহ। বাযুনাৎ হয় )যাহা জল 
হুইতে উদ্ভত, তাহা জলে পুনরার মিশিয়! যায় ) যাহ। মৃত্তিক? (ক্ষিতি) 
হইতে গঠিত, তাহ। মাটি হইয়। যায় : ইত্যাদি | কাবোগুস ও পাবোক়া- 
পিয়ের সময় পধ্যস্ত মোটামুটি বলিতে গেলে এইক্প ধারণাই বদ্ধমূল 
ছিল। সাদৃশ্তমূলক অন্থমান হঈকতে প্রাচীনেরা ভাবিতেন যে, যেমন 
দেহ ভ্রন্নীভূত হইলে কেবল নু্তিকার ভাগ (যখ। অস্থি ভল্ম ইত্যাদি) 
পড়িত্বা থাকে, আর সমস্ত উপকরণ অন্তান্ত ভূতের সহিত মিশিয়!॥ 
যায়, তেমনি শুষ্ককান্ঠ তন্ম হইলেও শ্রপ্রকার হয়। অর্থাৎ কেবল 
ভন্ম (ছাই) অবশিষ্ট থাকে । তেমনি প্রাচীন পঙ্ডিতগণ স্থির করি- 
লেন, ধাতুও পঞ্চভৃতাস্মক* স্ৃতরাং লৌহ, তাত্র প্রতৃতি অস্বিদগ্ধ 


* খা পারদ সম্বদ্ধে রদার্ণব বলেন “পঞ্চভতাত্বকঃ কৃত: ১৩1]. 5০, ৬৫০ 
+110900. 010071509 ৯80910765১1 05৮ পুত 1০. 





৫৮ নব্য রসায়নী বিদা 


করিলে অপরাপর উপাদান (বায়ু, জল ইত্যাদি) চলিয় যায়) কেবল 
মত্তিকার অংশ পড়িয়া থাকে | আমাদের কবিরাজ মহ্াশফেরো আয়ু- 
বেদ ও তক্ত্রোস্ত এই সমস্ত ধাতুভম্ম এখনও ওঁধধার্থ ব্যবহার করিয়। 
থাকেন। গাছ পালা পোড়াইলে যে ছাই পড়িয়। থাকে (বুক্ষক্ষার ) 
তাাও “মাটির” সামিল গণ্য হয়। অতি পুরাকাল হইতেই এই গাছ 
পালার ছাই (বিশেষতঃ কলার “বাসন” ) কাপড় পরিষ্ষ'র করিবার 
ভন্ত ব্যবহৃত হইয়। আসিয়াছে । কিন্তু আর একপ্রকার ক্ষার আমা- 
দের দেশে পাওয়। যায় । সাধারণতঃ ইভা সাভিমাটি নামে পরিচিত। 
চরক ও সুশ্রুতেও এই ছুই ক্ষারের উত্বেখ আছে-_বথ। বৃক্ষক্ষার, শাধা- 
নতঃ যবক্ষাব (৪র্থ আঃ ৪২--৪৩ পৃঃ ভ্রষ্টব্য) ও সর্জিকাক্ষার। 
সন্তা ব্লাতী ষাবানেব উৎপাতে আর কলার বাসনার 
ছাই এখন কাপড় পরিষ্কাব করিবার জন্য ব্যনজত হয় না। 
কিন্তু ধাহারা পাড়াায়ের গ্লোক এবং ৪1৫০ বৎসর বয়স্ক 
তাহার! স্মরণ করিতে পারেন, দরিদ্র লোকে এই দেশী “সাবা 
নই” ব্যবহার করিত এবং এই ক্ষারকে “তীব্র” করিবার জন্য ইহার 
সহিত একটু চুণ মিশাইত। প্রাচীন হিন্দু খবিগণ জানিতেন যে, 
যবক্ষার ও সর্জ্ধিকাক্ষার বিভিন্ন । কিন্তু ইউরোপে গ্রীক দাশনিকগণ 
এই ছুয়ের প্রতেদ বড় একট। বুঝিতেন না; গোলমাল করিয়া ফেলি- 
তেন। ডেবীস্বয়্ং বলিতেছেন ৮106 21703016500 17906 5০62) 
২69 10250: 01501700157160 19615:661) 1106 (৮০ 21121106571 তাহার 
সময় অবধি ধারণ! 1ছল যে পূর্বোক্ত এই ছুই ক্ষারাত্মক মৃত্তিক৷ 
(21159,1176 ০2105 ) (ভৌতিক বা মৌপ্রিক পদার্থ মাত্র (€110061705 )। 
কাবেগিস প্রথমতঃ দেখান যে অন্নজান ও উদ্জান মিশাইর়। তাহার 
মধ্যে তাড়িতস্ফুলিঙ্গ চালাইবামাত্র ভয়ানক “আওয়াজ” হয়__যেন, 


ও তাহার উতৎ্পভি। ৫8 


তোপধবনি__-আর এই ছুই বায়ুর পরস্পর রাসায়নিক সংযোগে জল 
প্রস্তুত হয়। ইচাঁতে প্রতিপন্ন হইল যে, জল ভৌতিক হইলেও 
মৌলিক পদার্থ নহে। এই ছুইপ্রকাঁর বা ততোহধিক মৌলিক 
পদার্থ সংযোগে যৌগিক ( ০001১0810 ) পদার্থ গ্রস্তবত- 
করণকে 50711076515 (সংশ্লষণ ) কহে । কাবেঙিসের পরী- 
ক্ষার প্র/য় ১৫ বংসর পরে (১৮০০ থুঃ অঃ) কালাইল এবং নিকলসন্‌ 
নামক দুই বৈজ্ঞানিক জলের ভিতর ভাড়িতপ্রবাহ চালাইরা জলকে 
অন্রভান ও উদজান নামক বায়তে পৃথক্‌ করিয়! ফেলিলেন। ইহাকে 
বিশ্লেষণ (2721555) কহে । ১৮০৭ খঃ অঃ ডেবী এই প্রকারে 
“তীব্র” ব! “তীক্ষণ' যবক্ষার ও সঞ্জিকাক্ষারের ভিতর এই তাড়িত- 
প্রবাহ চাঁলাইয়! দেখাইলেন যে, ইহ্ণদের প্রত্যেকে মৌলিক পদার্থ 
ন| হইয়] অব্রজান, উদজান ও ছুই নবধাতুর সংযোগে গঠিত। এই 
ছুই ধাতু রৌপ্যের ন্যায় সাদ ও চক্চকে_নাম পোটাসিয়ম্‌ ও 
লোডিঘম্‌। ডেবী যখন প্রথমে এই ছুই ধাতু পৃথক কতিলেন, তখন 


তিনি এই অদ্ভুত আবিষ্কারে “মাতোয়ারা” হইয়া হর্ষে গৃহের মধ 
ইতন্ততঃ নৃতা করিতে লাগিলেন । অনেকক্ষণ পরে প্রক্কৃতিস্ত তইয়? 
তবে আবার গবেষণাকার্যো প্রবৃত্ত হইলেন । রসায়নশান্ত্রে নবযুগের 
ঘআঁবিভ্াব হইল। ডেবী কর্তৃক পো্টাসিয়ম্‌ ও সোড়িঃম্‌ আবিস্তারেন 
পর আর অনেক ভৌতিক পদার্থ আবিষ্কৃত হইতে লাগিল্প । আজ কাল 
প্রান (৭*) সত্তব্টা ভৌতিক পদার্থ জান] গ্রিয়াছে। 

ডেবীর যশঃসৌবভ দিগ দিগন্তে বিকীর্ণ হইয়। পড়িল। দরিদ্রসস্ত'ন 
ডেবীর মাথ! খুরিয়? গেল। ধনী ও বিলাসী সমাজে তাহার আদর 
আমন্ত্রণার্দির বিষয় পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছিল, তদ্বিষায় সন্দেহ নাই। 
জ্ঞানান্বেধীর পক্ষে আর্যযখধিগণের আদর্শই অন্ুকরণীয়। চালচলন 
সাদাসিদে, তপন্বীর মত হইবে, এবং মন উচ্চ চিন্তায় ব্াাপৃত থাকিবে, 
ইভাই আমাদের আদর্শ হওয়া! উচিত। | 


বন্ঠ অধ্যায়। 


নব্যতর রসাযনী বিদ্যা | 


এ পর্ধান্ত যান নবা রসায়নী বিদা। বলিয়। অভিহিত হইয়াছে, বোধ 
কয় পাঠককে পুনরায় বলিয়] দিতে হইবে না যে তাহ। শতাধিক বৎসরের 
ও অধিক পুরাতন হইয়া গিয়াছে । এই একশত বৎসরেন ভিতস 
পৃিবীর নরনারী সকল কি ন1 কাণ্ড দেখিয়াছে ! ক্ষিপ্ত ফরামি-জ্ঞাতি 
কর্তৃক ছুষ্কৃতকারী রাজবংশের সেই অভূতপূর্ব বিনাশ, তাহাদের 
চরম অভ্যখান ও শোচনীয় পন, গ্রাথম নেপোপিয়নের সেই তুব্‌ডি 
বাজির মত বাজদু ও দিগ্থিকয়,এসকল ঘটনা! ত ঘটিয়াছে । আমেরিকায় 
শক্তিশালী যুক্রাজোর অভুদক্। নীতিজ্ঞ বিসমাক কর্তৃক জন্মান 
ভাতি সংগঠন, এবং উদ্দীর়মান কুর্যের রাজো অনীম প্রভাবশালী 
পীত জাতির মভ্যুর্থান,ন এসকল একশত নসর পূর্বে কি 
কেহ স্বপ্নেও বিশ্বাম করিতে পধরিত্ ? পৃরগিবীব সকল বস্তু 
পরিবর্তনশীল ; দুর্বল মানব ছুর্বধবল মস্তি ও ক্ষীণ চক্ষুঃ লইয়| যাহা 
অনুমান করিনে তাহা যে সকলই সত্য হইবে এরূপ ভরল। আমাদের 
নাই। ডালটন ১৮০৪ খৃষ্টাব্দে তাহার পরমাণুবাদ লোকসমাজে 
আবিষ্কার করেন। ইংরাজ বৈজ্ঞানিকের। সবে দুই বৎসর মাত্র এ 
ধটনার শতবারধিক উৎস মাঞ্চেষ্টরে খুব ধূমধামের সহিত সম্পন্ন 
করাঈলেন। কিন্তু ইহার মধ্যে ডালটন্‌ যে পরমাণু লইয়া 
ভাহার অনুমান স্থাপিত করেন, তাহাই লঙ্টয়া! টানাটান পড়িয়াছে। 
ডাঁলটন গ্রীক দার্শনিকদিগের অনুকরণ করিয়! পরমাণুকে (8$070- 
ঞ৮ছ10)00৮ 8130 00109-01515107 ) অবিভাজ্য অণু নামে অভিহিত 


ও তান্থার উতপাত্ত। ৬ 


করিয় গিয়াছেন। বৈজ্ঞানিকগণ এখন যেরূপ প্রমাণ লইয়া উপস্থিত, 
তাহাতে পরমাণুকে আর অবিভাজা অণু বল।চলে ন। প্রত্যেক পরমা ণু. 
কতকগুলি বৈষ্থ্যতিক অণুর (6190%07) সম ইট । এই সকল বৈদ্যুতিক 
অণু পরিমাণে উদজান বায়ুর পরমাণুর একের এক হাজার ভাগ মাত্র 


পা এবং বিয়োগসংজ্ঞক ()928$158) বৈদ্যুতিক শক্তিপূর্ণ। পরমাণু, 
কেহই কখন চর্মচক্ষে ব যস্ত্রসাহাযো দর্শন করিতে পারেন নাই, 
সৃতরাং বৈছাতিক অণু দর্শনের আশা সুদূরপরাহত বা একবারেই 
অসন্তব। কিন্ত যেসব প্রমাণপরম্পর] দ্বারা বৈজ্ঞানিকগণ বৈহ্যতিক 
অণুর সত্তা উপলব্ধি করিয়াছেন, নেগুলি ইউক্লিভপ্রণীত জ্যামিতির 


যুক্তির ন্যায় অথগুনীয়। 
ষাহারা রীতিমত বৈজ্ঞানিক প্রতিভার দীক্ষিত নন, তাহারা 


হয় ত পূর্বোক্ত কথ লইয়। উপহাপ করিতে বসিবেন। তীঙ্ার। 
বিজ্ঞজনোচিত গান্ভীধ্য সহকারে বলিবেন, “এই ত তোমাদের 
বিজ্ঞান; আদ্দ যাহা ঠিক, কাল তাহ! বেঠিক। ও সব লইয়া কেন মিছে 
বকাবকি কর 2” পরমাণুবাদ কিয়দংশে ভ্রমাত্মক হইলেও, ইহ দ্বারা 
কোন উপকার হয় নাই বলা বাতুলত। মাত্র। সভ) সমাজে আজ কাল 
শয়নে, অশনে, নমনে, .রসায়ন্রে সাহায্য ভিন একদও্ড চলে না। 
ডালটনের পরমাণুগুলি থাক বানাই থাক, কুইনাইন্‌্, কোকেন, 
ফেনাসেটিন্‌ প্রভৃতি মহামুল্য ওষধগুলির রোগসংহাঁরক ধর্ম লুপ্ত 
হইবে না; হুন্িৎ, কপিল, পীত, লোহিত প্রভৃতি বিচিত্র কৃত্রিমবর্ণগুলি কন 
জাজল্যমান দেখাইবে না, শর্করার মিষ্টত্ব, লবণের লবণত্ব, লৌহের ভার- 
সহত্ব, স্বর্ণের ওজ্জল্য, মানবমানসক্ষেত্রে পরমাণুর অস্তিত্ব লোপের সহিত, 
অস্তহত হইবে না। পরমাণুবাদ একশত বৎসর পূর্ব স্থাপিত না 
হুইলে, উনবিংশ শতাব্দীতে রসার়নের এগট! উন্নতি যে সম্ভবপর হষ্টভ, 


৬২ নলা রসায়নী বিদ্দা? 


তান! কেচ সাহস ক্করিয়। বলিতে পারিবে না । ভূল বানিভূল হউক, 
একট! না একটা! অনুমান অবলম্বন করিতই শইবে, তাহা না হইলে 
কোন বিজ্ঞানরই কাজ চলে গ1। যেমন কোন নিম্নতর শাখা অব- 
লম্বন করিয়], উচ্চতর শাখাতে আরোহণ করিলে পর, নিয়তর শাখাটা 
ভাঙ্গিলেও কোন ক্ষতি নাই, সইরূপ কোন ভ্রম।তআক জ্নুমান অবন্ম্বন- 
পূর্বক কতকগু'ল নবাবিক্লত পরীক্ষামূলক তথা দ্বারা স্থাপিত অপেক্গী- 
কত নিসুপি অন্থুমানকে সতা বলিয়] স্বীকাব করাতে কোন দে'ব 
নাউ। ফ্রুজিষ্টনবাদেও ত ভূল ছিল, তাই বলিয়! কি ফ্ুজিষ্টনবাদ রসায়- 
নের প্রভৃত উপকার সাধন কবে নাই? পরমাণুবাদ কালে ফ্লুজিষ্টন- 
বাদকে আসনচাত করিয়াছিল, এখন ভাগ্যচক্রের আবর্তনে নিজেই 
স্থানভ্রষ্ট । কিন্তু ডাণ্টন্‌ "ঘ নিপ্দিষ্টান্ুপাতিক নিম লোকসমাজে প্রচার 
করেন, তাহা প্রকৃত পরীক্ষামূলক তথ্যের দৃঢ় ভিত্তির উপ্রর স্থাপিস্ত, 
সুতরাং তাহার কোন নড়চড় সম্ভবপর নন্ে । 

ষংহার। এই পামান্ধ কথাটা বোঝেন না, তাভাদের বোধ ভয়, 
গোড়ায় গলদ মাছে । তাই এ বিষ আর একটু বিশদভাবে বলা 
আবশ্যক। পরীক্ষা এবং পধ্যবেক্ষণমূলক তত্বগুলি ও অনুমান 
লইয়া বিজ্ঞান গঠিচ। আনুনান যদিও তত্বগুশির ভিত্তি, কিন্তু ইহ 
স্থায়ী ভিত্তি ন্টে, নিতানৈমিত্তিক কাজ চালান গোছের € ৮৮01]1)7 
151090)6515) আবশাক হইলে বদলান চলে। শুনিয়াছি বিশ্বকম্মার 
ব্রপৃত্ আডতকন্্া আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ারের বিংশ-ত্রিংশতল অট্টা- 
লিক] অনায়াসে একস্তান হুঈতে স্থানান্তরে সমূলে লইয়া গিয়াছেন। 
ভিত্তিহীন হইয়াও বৃহৎ অদ্টরালিক'র গাত্র হইতে ঢুণটিও পর্যযস্ত খসে 
সাই। বৈজ্ঞানিক জগতে এক অনুমানের স্থানে অন্য অনুমানকে 
ত্য বলিয়। স্বীকার কর! অনেকট] এইরূপ । শতাধিক বৎসর ধরিপ্না 


ও তাহার উৎপত্তি । ৬৩ 


বৈজ্ঞানিক বংশপরম্পর। বৈজ্ঞানিক তব্বশ্বরূপ একখানি ইঞ্টুকের উপর 
যে আর একখানি ইষ্টক স্থাপন করিয়াছিলেন, তাহার প্রায় সমগ্রাভাগ 
অটুট রহিয়াছে । পরীক্ষামূলক তত্বগুলি ভগবন্ধর্্ের নায় বাস্তবিক 
সতোর উপর প্রত্তিষ্ঠিত। অনুমানের পক্ষে অতট1“বল] যায় ন1। 
যেসকল তথাসমূহ দ্বার] ডাল টনের পরমাণুবাদ ভুল বপিয়! 'প্রতি- 
পন্ন হইয়াছে, তাহাদের এখন সংক্ষেপে সময়ানুক্রমিক বিবরণ আব- 
শ্যক। পনর কিকুড়ি বৎসর পূর্বে আলোক ও বৈহাতিক রশ্মি 
ভিন্ন ষে অন্য কোন প্রকার রশ্মি উৎপাদিত হইতে পারে তাহ বৈজ্ঞা- 
নিকের। জানিতেন না| একটা আবদ্ধ কাচনলের ( ৫1089 ৮01) ) 
ছইধারে বমকফক্কৃত যন্ত্র সংলগ্ন দুইটি তারের প্রান্ত সংলগ্ন করিয় 
দিয়া! যদি বৈছাতিক শিখ! (8040) পরিচালিত করিবার চেষ্টা কর! 
বায়, তাহা হইলে একটা উজ্জ্বল সরল বা বক্র রেখা দৃষ্ট হুইবে। 
কিন্ত এই আবদ্ধক'চনগ হইতে পারদচাপিত বাধু-নিফাশন যন্ত্র 
স্বারা যদি প্রায় সমস্ত বাধু অপসারিত করিয়া লওয়া যায়, 
তাহ] হইলে [শথাটি সমগ্র নলমধ্যে ব্যাপ্ত হইয়া পড়িবে এবং 
বিবিধবর্ণে রঞ্জিত হইয়া) শোভা। পাইবে । এই বুশ্িপুঞ্জ বিয়োগসংজ্ঞক 
প্রাস্ত (91০:016 ) হইতে আলোকর.শ্মর মত বেগবান্‌ হইরা সরল- 
ভাবে কাচপাত্রের গান্রে পতিত হয়। কাচের যেহখানটিতে পড়ে 
সেই স্থান উজ্জ্বল হরিত্বর্ণ ধারণ করে। প্রথমে সকলে মনে করিয়া" 
ছিলেন যে, এই রশ্মিগুলির ক'চপান্রের বাহিরে আসবার ক্ষমত$ 
নাই । কিন্তু ১৮৯৬ অব্ে রঞ্জেন লামক জনম্মানদেশীর একজন পণ্ডিত 
'দেখাইলেন যে, রশ্মিগুলি বাহিবে অদৃশ্যভাবে আমে এবং আসি 
বিভিন্নধর্মাক্রাস্ত হয় । এই রঞ্জেন-রশ্মিতে অন্ধকারে ফটো! তোগ। 
বায়, মান্ধষের শরারের হাড় দেখা য'য়, এবং কতকগুপি জিনিষ যেমন 


৬৪ নব্য রসায়নী বিদা] 


সৌরকর-সংস্পর্শে আলোকবিভূষিত হয়, সেইরূপ অনেক বর্ণহীন 
বস্ততেও এই অদ্ভুত রশ্মি বিচিত্রবর্-আলোকতরঙ্জ উৎপাদিত করে । 
আলোকরশ্বির সাহত নুতন র.শ্মর প্রধান গ্রভেদ এই) যে, কোন স্বচ্ছ 
পদার্থে প্রবেশ করিলেও ইহার ফোন বিবর্তন (78?806107 ) 
ঘটে না! । 

রশ্মি সকল এইরূপ আশ্তর্য্যভাবাপন্ন দেখিয়৷ মকল বৈজ্ঞান্দিকই 
এই ব্যাপার লইয়] কিছু কিছু মন্তিষ্ষ চালন। করিয়াছিলেন। অধ্যাপক 
মুসে। হেনরি বেকারেল মনে করিলেন যে, হয় ত কাচপাত্র হরিত্বর্ণে 
আলোচিত হুইয়াছে বলিয়া! এইরূপ ঘটিয়াছে। তিনি এই কারণে যে 
সব জিনিষ শুর্ধ)রশ্মির সন্মখে ধরিলে সবুজবণ দেখায় সেইগুলি লইয়া! 
পরীক্ষা করিতে লাগিলেন । 


ইউরানিয়মের অনেক যৌগিক পদার্থ এইরূপ ধর্মমবিশিষ্ট। ইউরা- 
নিয়ম ধাতু দুপ্রাপ্য পিচব্রেগ্-নামক কৃষ্ণবর্ণের একটা খনিজ পদার্থ 
হইতে প্রস্তত করা যাইতে পাবে । সপ্তগ্রহ ছাড়! ইউরোপীয় জ্যোতি- 
ব্বিদেরা আর ছুইটী নূতন গ্রহ আবিষ্কার করেন। ইহাদের অন্তরের 
নাম ইউরানস | ইংরাজ জ্যোতির্ধ্িৎ হার্সেল কর্তৃক আবিষ্কৃত ইউ- 
রানস, গ্রহের নাম অনুকরণ করিয়া এই ধাতুর নামকরণ হইম্বাছে। 
যদিও দুশ্রাপ্য, ইহার কতকগুলি যৌগিক পদার্থ শিল্প ও কলায় ব্যব- 
হৃত ইয়। পীতবর্ণ কাচ প্রস্তুত করিতে ইউরানিয়মের আবশ্যক 
হয়। ইউরানিয়ম ধাতুর যৌগিক পদাথগুলি প্রতিফলিত (6065৫) 
আলোকে গীতবর্ণ দেখায়। কিন্ত আলোক ও দ্রষ্টার মধ্যে উহাদের. 
জলীয় দ্রাবণ রাখিলে তাহ! ইত্সিৎ-বর্ণবুক্ত দেখায় । জঅধাাঁপক বেকা- 
রেল তাহার পূর্বোক্ত অনুমান সভ্য কি না দেখিবার জন্য এই ইউরা- 
নিয়মের একটা যৌগিক পদার্থ লইয়া পরীক্ষা আরস্ভ করেন। তিনি 


ও তাছার উৎপতি। ৬৫ 


একখানি ফটোগ্রাফের কাচ কাল রঙ্গের কাগজে মুড়িয়৷ তাহার উপরে 
ইউরানিয়মযুক্ত যৌগিকপদার্থ স্থাপিত করিয়! একটা অন্ধকার ঘরে 
রাখিয়। দেশ । কিছু দিন পরে তিনি মোড়কটা খুলিয়া! দেখেন থে 
কাচের উপরিস্থিত দানাগুলির ছবি কাচের উপর বেশ উঠিয়াছে ।* 
এই সকল দেখিয়া! বেকারেল তখন অনুমান করিয়াছিলেন যে ইউরা- 
নিয়ম হইতে নিফাশিত রাশ্বগুলি রঞ্জেন কর্তৃক আবিষ্কৃত রশ্মির সহিত 
অভিন্ন । এই অনুমান এখন ভ্রমমূলক বলিম্প। সপ্রমাণ হুহয়াছে। 
(সই প্রমাণগুলির কথ! ক্রমশঃ বলিতেছি। প্রমাণ যাহারা করেন 
তাহাদের সম্বন্ধে প্রথমে দুই এক কথ। বল। আবশ্যক । 


মাদাম কুরী (কুমারী নাম মেরিস্কাদোবোস্কি) ১৮৬৭ অন্দে পোলাও 
দেশে ওয়ারস্ব নগরে জন্মগ্রহণ করেন। পারিসের উপকথন্থ বার্সোলস 
নগরেব একটা মহল! বিদ্যালয়ের ইন এখন শিক্ষরিত্রী। জন্মস্থান 
ওয়ারস্বনগরে এবং পারিসে শিক্ষাসমাপন করিয়া! ইনি বিজ্ঞানশাস্ত্রের 
সর্বোচ্চ উপাধি লাভ করেন। সম্প্রতি যে অধ্যাপক কুরীর শোচনীয় 
মৃত্াসংবাদ রয়টার আমাদিগকে তারযোগে জানাইয়াছেন, ইনি আট 
দশ বৎসর হুইল তাহাকে বিবাহ করেন। মাদাম কুরী এবং তাহার 
স্বামী ১৮*৮ অব্দে পিচ'ব্ুগ হইতে রাডিয়ম নামক মৌলিক পদার্থ 
আবিফ্ষার করিয়া বৈজ্ঞানিক জগতে প্রনিদ্ধি লাভ করেন। 
মাদাম কুন্নীই প্রথমে এই অতাশ্চর্যয আবিষ্ঠারের সুচন! 
করেন। 
__ *কলিকাতার গ্যাসের আলোর উপর আক্গ কাল যে তায়ের আবরণ দেখা 
যায়। তাহাতে থোরিয়ম নামে একটি 701990৮%9 বা “সক্রিয়” পদার্থ আছে। 
যদি অন্ধকার ঘরে কাগজে মোড়! ফটো গ্রাফিক কাচের উপর এই তারের আবরণ 


রাখ্‌যায় তাহ। হইলে ছুই তিন দিনের ভিতর বেশ ছবি উঠে । 
৫ 





৬৬ নব্য রসারনী বিদ্যা 


বেকারেল ইউরানিক্নম হুইতে উৎপন্ন যে সকল রশ্মি আবিষ্কার 
করেন, তাছ1 তাহার সম্মানার্থ “বেকারেল রশ্মি” নামে অভিছিত হুই- 
যাছে। এই সকল বেকারেল রম ফটে! তোল ছাড়া অনা অনেক 
আশ্চর্যযগুণবিশিষ্ট। জলীয় বাম্পকণাবিহীন বায়ু তড়িতের গতির 
প্রতিরোধ করে, ইহ। তড়িৎপরিচালক নয়। বেকাঁরেল রশ্মি এইরূপ 
বায়ুর ভিতর দিয়! গমন করিলে, অপরিচালক বায়ুকে পরিচালক 
করিয়৷ তোলে । এই গুণ নির্ধারণ করিবার জন্য স্বর্ণপত্রদ্বয়বিশিষ্ট 
একটি তড়িৎপবিমাপক বন্ত্র বাবহাত তয়। এই যন্ত্র অতি সরল। শুধু 
একটি কাচের আববণের ভিতর ছুটি স্বণপত্র ঝোলান আছে। বৈদ্বা- 
তিক শক্ষি নিকটে আসিলে সমভাবসম্পন্ন একই তড়িতের বিকর্ষণশক্তি- 
প্রভাবে পত্র দুইটা বিক্ষারিত হয়। পত্র হইতে তড়িৎ অপসারিত 
হইলে, আবার পর ছুইটী একত্রিত হয় । ইউরানিয়নযুক্ত পদার্থ 
নিকটে আদিলে বিস্ষারিত পত্র দুইটা তৎক্ষণাৎ একান্রত হয়, কেননা 
বেকারেল রশ্মি প্রভাবে কাচ আবরণের মধ্যস্থ বায, পরিচালনগুণশালী 
হইয়। তড়িৎ অপছরণ করে । থে যকদ পদ্দাথ এইরূপ অন্ধকারে ফটো 
তুলিতে এবং অপরিচালক বায়কে পরিচালক করিতে পারে ন্যাহা- 
দ্িগকে 75108061৬6 ব1 সক্রিয় বল! যাইতে পারে । মুতরাং এইরূপ 
ক্ষমতাবিহীন পদার্থের নাম নিক্ক্রির হইবে। 

মাদাম কুরী এইরূপে ইউরানিয়মের কতিপয় বিভিন্ন যৌগিক 
পদার্থের বিকিরণ শক্তির পরিমাণ নিদ্ধারণ করিয়া দেখিলেন যে 
তাহার! প্রায় সমানশক্তিশালী । একথণও্ উউরানিয়ম ধাতু লইয়। 
দেখ। গেল যে তাহারও বিকিরণ শক্তিপরিমাণে বিশেষ বিভিন্ন নয়। 
কিন্ত ইউরানিয়র ধাতু ঘে প্রস্তর হইতে প্রস্তুত হয় সেই পিচবেও, 
ইউরানিয়ম আপেক্ষ! বহুগুণশক্তিশালী নলিয়। পরীক্ষায় সপ্রমাণ হইল। 


ও তার উৎপত্তি। ৬৭ 


ইহা! হইতে এই অনুমান স্বতঃসিদ্ধ যে, পিচব্রেণ্ড প্রন্তরে ইউরানিয়ম 
অপেক্ষা বুগুণশালী একটি সক্কিন্ন পদার্থ আছে। এই সক্রিয় পদার্থ টি 
স্ুসো এবং মাদাম কুরী ইউবানিয়ম প্রস্তর হইতে বিভিন্ন করেন। 
অবিরত তাপরশ্মি ও বৈদ্যুতিক কণা! বিকিরণ করে বলিয়! কুরীদম্পতী 
ইঙ্গর নাম র্যাডিয়ম রাখিয়াছিলেন। 
উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বুন্সেন্‌ এবং কার্কক অভিনব উপায়ে 
দুইটা ধাতু "আবিষ্কার করেন। অনেক ধাতুর উত্তপ্ত খাম্প ত্রিশির 
কাচে (1১750) ) বিশ্লিষ্ট হইলে পর যন্ত্রসাহায্যে উজ্জ্বল স্পষ্ট রেখা- 
বিশিষ্ট পেথ! যায়। প্রত্যেক বিভিন্ন ধাতুর বেখা সম্পূর্ণ বিভিন্ন । বুন্সেন্‌ 
9 কার্কফ ডুর্কহাইমস্থিত গ্রত্রবণের জলে কতিপয় নৃতন রেখা! দেখিতে 
পান এবং এক হাজার মণ জল উত্তাপ দ্বারা বিশোধিত কবিষা! উল্লিখিত 
দুইটা ধাতুর আবিষ্কার করেন। কুরীদম্পতী ইহা! অপেক্ষ। কঠিন কাধ্য 
সাধিত করিয়াছেন। পিচত্রেগের স্তায় তুষ্প্রাপা প্রস্তরের প্রায় ত্রিশ মণ 
বিশ্লেষণ করিয়। তাহারা নূতন ধাতুর একটি যৌগিক পদার্থের মোটে 
বিশ পনর রতি বিশুদ্ধভাবে পাইয়াছিলেন। শুধু রাপায়নিক বিশ্লেষণে 
এ কাধ্য শিবের অপাধা বলিলেও অতুযুক্ত হয় না। ইহারা ইই!- 
দের তড়িৎপরিষাপক যন্ত্র দ্বার] প্রত্যেক বিশ্লিষ্ট ভাগ সক্রিয় কিন! 
এবং কত পরিমাণে সুক্রিয়, ইহা পদে পদে নিদ্ধারণ করিয়াছিলেন 
এবং এই জন্তই কৃতকার্যয হইতে পারিয়াছিলেন। ব্াডিগ্রম ছাড়া 
পিচ'ব্রশড €ইতে পলোনিয়ম এবং এক্টিনিয়ম (বা জ্যোতিঃশালী ) 
মামে ছুইটা বিশেষভারে সক্রিয় পদ্দার্থ পাওয়া গিয়াছে । ইহাদের 
প্রথমোক্তটির নাম মাদাম কুরী তাহার অভাগিনী জন্মভূমির নাম 
অনুসারেই দিয়াছেন। এই ছুইটী পার্থ র্যাডিয়ম অপেক্ষাও অত্ান্প 
পরিমাণে পিচরেণ্েতে পাওয়ান্যাক়্। 


৬ নবা রসায়না বিদা। 


র্যাডিযম যে তাপরশ্মি ও বৈছ্াতিক কণ। বিকিরণ করে তাহা 
পূর্বেই উল্লিখিত হ্ইয়াছে। বিশুদ্ধ র্যাডিয়ম মনুষ্য-চর্ম্ের নিকট 
রাখিলে সেই থানে ক্ষত হয়। শুনা যাইতেছে ছুঃসাধ্য ক্যান্সার (রোগ 
নাকি র্যাডিয়ম রশ্শিঘ্বারা আরাম হইতে পারে। র্যাডিযর়ম তিন- 
প্রকার রশ্মি বিকিরণ করে । হইউরোপীন্ন পণ্ডিতের] গ্রীক বর্ণমালা- 
মুসারে ইহাদের নাম আলকা, বিটা ও গাম। রাখিয়াছেন। ইহা- 
দের মধো আলফ। রশ্মির অণুদকল যোগসংজ্ঞক-তড়িৎশালী এবং 
পরিমাণে গ্রার উদঙ্জান বাম্পের পরমাণুর সমান । বিট! রশ্মি 
৬১ পৃষ্ঠে উক্ত বৈছ্বাতিক অণু হইতে অভিন্ন । এবং গান! রশ্মি 
রঞ্জেন-কিরণ-সদৃশ | প্রথমোক্ত ভইটী রশ্মি থাকার দরুণ অনেক 
পদার্থ রাডিযমের নিকট রাখিলে বিস্ভিন্ন প্রকার বর্ণে রঞ্জিত হয় । 
প্রকৃত হীরক রাভিন্নমের নিকট স্থাপন করিলে সবুজ বর্ণ ধারণ করে, 
কিন্ত কৃত্রিষ হীরকের এপ্রকার শক্তি নাই। কৃত্রিম হীরক চিনিবার 
ইঙ্ত একটা উৎকৃষ্ট উপায়। গন্ধকের সহিত যশদের (51706) 
একটা যৌগিক পদার্থ আছে । এই পদার্থটি একটা কাগজে লাগা- 
ইয়। র্াখডিষ্নমের নিকট ধরিলে অসংখ্য জোনাকি বসানর মতন 
( 50111180005 ) দেখায় । 

এই অদ্ুত পদার্থের অভিনবত্ব ছই এক কথায় সাঙ্গ করা যায় ন1। 
আত্মারাম গরকারের ছাড়ের মত ই যাহ! ইচ্ছা তাহাই করিতে 
পাবে। র্যাডিরমের কোন যৌগিক পদার্থ ছলে দ্রব করিলে ষে 
বামু নিষফষাশিত ভয়, অধাঁপক রামদে দেখাইয়াছেন যে তাহার মধো 
তাহার নব আবিষ্কুত হিলিয়ম বায়ু বিদ্যমান আছে। হিলিয়ম বাধ 
একটি মৌলিক পদার্থ, আমাদের বাধুমগ্ডলের দশ লক্ষ ভাগে এক কি 
ছুই ভাগ এইরূপ অনুপাতে বর্তমান । হুর্ষেযের রশ্রি বিশ্লেষণ করিয়! 


ও তাহার উৎপত্তি । ৬৯ 


'জ্যোতির্বিৎ লকৃইয়ার সাহেব ইহার সুর্ষ্যে স্থিতি প্রথমে প্রমাণ করিয়া- 
ছিলেন বলিয়। ইহার নাম হিলিয়ম। হিলিয়ম যে একটি মৌলিক 
পদার্থ সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। একটা মৌলিক পদার্থ যে 
আর একটা মৌপিক পদার্থে পরিণত হইতে পারে ইহাই তাহার প্রথম 
উদ্দা্রণ। চাই কি,কিছুকাল পরে মধাধুগের রাসায়নিকদিগের স্বপ্ন 
'সফল হইতে পারে; তাহ। হইলে হীনধাতুদ্িগকে স্বর্ণে ও রৌপ্যে পরিণত 
কব অসম্ভব হইবে না। 

এখন কথ! হইতেছে যে, কোথ। হইতে. র্যাভিয়ষ এইবপ অদ্ভুতশক্তি 
সকল বিকিরণ করিতেছে 2 নৈজ্ঞানিকগণ পুঙ্থান্ুু পুঙ্থপূপে অনুসন্ধান 
করিয়া স্থির করিয়াছেন যে, র্যাভিরম স্বীয় পরসাণুস্ত আবদ্ধ শক্তি 
এইনপে বিকিরণ করিতেছে । এইনরূপ বিকিরণশক্তি থোরয়ম 
ও ইউরানিয়ম নামক গুরুভ।র পরমাণুবিশিষ্ট পদার্থছয়ে বিদ্যমান 
আছে! পরমাণু সকল যে আরও ক্ষুদ্রতর বৈদাতিক অণুবিশিষ্ট 
তাহ! প্রায় সর্বসাধারণে আজ কাল স্বীকার করেন। র্যাঁডিয়মের 
পরমাণু পরিমাণে উদজানের পরমাণু অপেক্ষা ২১৫ গুণ এবং 
উদজানের প্রমাণু প্রায় এক হাজার বৈদ্যুতিক অপুর সমষ্টি। গুণ 
করিলে দেখ: যায় থে র্যাডিয়ম পরমাণুতে প্রায় দুই লক্ষ বৈছ্বাত্িক 
অণু বিদ্যমান। অন্ন স্বীনের ভিতর এতগুপি কণ! থাকিতে না৷ পারিস্া 
চারিদিকে ছিটকাইয়া পড়ে এই অগ্ুমান সঙ্গত বলিয়া! বোধ হয়। 
আঅবশা ইহাও স্বীকার কঠিতে হইবে যে অন্ত মৌলিক পদার্থের, 
পরমাথুগুলি এইরূপ বৈদ্যুতিক অণু দ্বার। গঠিত। কিন্তু তাহারা 
“কেন সক্রিয় হয় না তাহ। আজও পধাস্ত কেহ ঠিক করিয়া বলিতে 
পারেন নাই। 

বৈজ্ঞ।নিকের! জলে, স্থলে, পাহাড়ে, পর্বতে, বায়ুমগুলে ও বায়ু" 


থ্* নব্য রলায়নী বিদ্া। 


মণ্ডল হইতে পতিত উক্কাতে সকল স্থানেই অতান্ পরিমাণে সক্রিন্ন 
পদার্থের আভাস পান । কিন্তু কোথাও বেশী পরিমাণে পান নাউ । 
বেশী পরিমাণে৪ও থাকিতে পারে না, কেননা! ব্া।ডিয়মের ভ্তার সকল 
সক্তির পদার্থই বিনাশশীল | বৈজ্ঞানিক গণ অগ্ধ কসিয়া দেখাইয়া ছল 
যে র্যাডিয়নের আধু এক হাজার বৎসর । পুথবীর বয়স অনেক ভাজার 
বৎসর হইয়] গিয়াছে । তাত। হইলে এখন কথা উঠিতে পারে যে 
এখনও কেন র্যাডিয়ম পৃথিবীতে বিদ্যমান আছে। উহার এক 
মাত্র উত্তর এই যে, যেমন রাাভিয়য ভঈতে হিলিয়ম উৎপন্ন হইতেছে, 
সেইরূপ অন্ত কোন মৌলিক ধাতু হইতে র্যাডিয়ম অর্ধ পরিমাণে 
উৎপাদিত হইতেছে এবং উৎপন্ন হইয়াই ক্রমশঃ বিনাশ প্রাপ্ত হই- 
তেছে। বৈজ্ঞানিকগণ দেখাইয়াছেন যে, থে স্থানে র্যাডিয়ম পাওয়। 
গিয়াছে। সেই খানে ইউরাঁনিয়মও বিদ্যমান আছে। বিাভন্ন- 
'্লুকাল উউরানিয়াদর খনি পদাথেও বাডিয়ম ও ইউরানিয়মের 
অনুপাত প্রায় এক রবম। এই সব দেখিয়! শুনা, ইউরানিয়ম্ 
হইতে যে রাড়িয়ম উৎপন্ন হইহাছে তা! খুব সম্ভবপর বলিয়! 
বোধ হয়। 
একজন খাতনাম! ফরাসী বৈজ্ঞানিক তাহার পণীত রাসায়- 
নিক গ্রন্থের, ভুমিকায় নিম্নেক্ত ভাবে লিখিয়! গিয়াছেন £-“রসায়ন- 
শান ফর'পি-দেশীক় বিজ্ঞান এবং অমরকীর্তিশালী ফরাসি- 
দেশীয় বৈজ্ঞানিক লাবোয়ামিরে ইহার স্থাপয়িতা 1” স্বদেশ- 
ভক্ত লোকের নিজের দেশের প্রশংসা হইতে অবশ্য কিছু ৰাদসাদ 
দয়! লইতে হয়। নবা রসায়নী বিদ্যা লাবোয়াসিয়ের নিকট 
কতদূর খণী তাহ পুস্তকের গ্রারস্তেই উল্লিখিত আ'ছ। নব্যতর 
রসায়নী বিদ্যার উৎপত্তিও ফরাসী দেশ হইতে। অধ্যাপক 


ষি 


গু তাহার উৎপত্তি! ৭১ 


বেকারেল, পণ্ডিতবর কুরী এবং তীহার নুযোগা! ও বিছ্যী সহধর্শিণী 
এই নূতন বিজ্ঞানের জনর়িতা তাহা ফরাসি জাতি স্পর্চার সহিত 
বলিতে পারে। 


সপ্তম অধ্যায়। 


জ্ঞানোন্নতি ও ভারতের অধঃপতন । 


ঞ্ঁ 


আমর! ইতিপূর্বে বলিয়াছি ষে চিরপ্রচলিত সংস্কার মানব-হৃদয়ে 
এরূপ প্রবল আধিপতা বিস্তার করিয়া থাকে বে কোনরূপ 
নূতন স্বাধীন চিস্তা সহজে উষ্ঠার মধ্যে স্কুর্তি পায় না। বংশপরস্পরাগচ 
সংস্কারে আবদ্ধ হইয়। মানবাস্ম! এক রূপ জড়বৎ হইয়া পড়ে। পুরাকালের 
খ্যাতনাম! মনন্বিগণের বাকোর উপর সাধারণ লোকের ভক্তি ও 
বিশ্বাস এমন বদ্ধমূল যে, সহজে কেহ তাহার শ্রতিকূলে কাধ্য করিতে 
সাহসী হয় না। শত সহজ বৎসর পূর্বে ঘে সব ব্যবস্থা ও মণ প্রচারিত 
হইয়াছিল, অদ্যাপি মন্ত্রমুগ্ধের স্তায় সকলে তাহার অনুসরণ করিতেছে । 
অবশা মধ্যে মধ্যে কোন কোন স্বাধীনচেতা মহাত্মা এ সকল 
আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করিতে চেষ্ট। করিলেও পুরাতন 
মতের প্রতিপোষক (গোড়া) দ্রিগের ভীষণ আন্দোলনে 
তাহাদের সেই ক্ষীণ প্রণ্তবাদ সমাজে প্রচাগিত হইতে পায় 
নাই। 
সমন্ে সময়ে জগতে এক এক জন মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়। 
তাহার! অজ্ঞান-তিনিরে জন্মগ্রহণ করিয়াও স্বীয় অলোকসামান্ত 
প্রতিভাবলে প্রকৃষ্ট পথ দেখিতে পান। প্ৃনাথবী স্য্টির কেন্দ্রস্থল, আর 
চন্্রনু্ধ্যাদি গ্রহমগ্লট নিতা ইহার চতুর্দিকে পরিভ্রমণ করিতেছে 
ইত্যার্দি মত টলেমি ও পিগাগোরসের সময় হইতে ইউরোপে প্রচলিত 
ও স্বীকৃত হইয়া আমিতেছিল। কোপারনিকাম এই মতের গ্রতিবাদ 


ও তাহার উৎপত্তি । ৭৩ 


করিয়া এক পুস্তক লিখিয়াছিলেন ; কিন্তু ছত্রিশ বৎসর পধ্যস্ত তিনি 
তাহা জনসমাজে প্রচার করিতে সাহসী হন নাই। ইহার কারণ 
তখন থ্ষ্টজগরতে বাইবেল অত্রান্ত বলির! গৃহীত ছিল) কোপারনিকাসের 
মত বাইবেল-বিরুদ্ধ7; এবং বহার কান নুন মত প্রচার করিতে চেষ্ট। 
করিতেন তাহাদের জীবন অনেক সময় বিপৎসন্কল হইয়া উঠিত। সে 
সময়ে 0০9৮. ০1 17611516101) নামক ধন্ম-আদালতের সশ্থথে নব 
মতের প্রচারকগণকে নানার্প প্রশ্ন কর ₹ইত। তথায় তাহার! স্বকীয় 
নূতন মত প্রত্যাহার করিতে অস্বীকার করিলে তাহাদিগকে অমানুষিক 
ভীষণ ন্ত্রণ! দিয়া অবশেষে জীবন্ত দগ্ধ করা কইত। এই সকল কারণে 
কোপারপশ্িকাস সভয়ে লিখিয়াছিলেন ষে আমি এমন কথ! বলিতেছ্বি ন1 
যে আমার মত বথার্থঃ তবে পৃথিবীর আহক গতি ইত্যাদি আলোচন। 
কৰিয়া বোধ হয় সৌরজগতে4 গতিবিধি সম্বন্ধে প্রাচীন মত অপেক্ষা 
আর৪ সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাইতে পারে। 
ছার পরিণাম তিনি যাহা আশঙ্কা করিয়াছিলেন তাহাই হহয়াছিল) 
অর্থাৎ আদালতের বিচাগে তাহার মত স্পূর্ণ ধর্মবিগহিত ও শান্ত 
বিরুদ্ধ বলিয়। অগ্রাহ্য হইয়াছিল। যা] হউক, কোপানকাস প্রাণে 
প্রাণে বাচিয়। গেলেন | ইহার ৯* বৎসর পরে অর্থাৎ ১৬৩২ খুঃ অন্দে 
গালিলেও কোপারনিকাসের মত সমর্থন করিয়া আর একখানি 
পুস্তক প্রচার করেন। তাহার শোচনীয় পরিণাম সর্ধজন- 
বিদিত। 

মহান্থভাব রজার বেকন (খুঃ ১২১৪---১২৮৪) নানা-প্রকার 
রাদায়নিক পরীক্ষা! করিয়াছিলেন। সে সময়ের তুলনায় তাহাকে 
অসামান্ত লোক বলিয়। শ্বীকার করিতে ভয়। সাধারণতঃ তিনি 
৪1280 বা প্রন্্রজাপিক আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। কারণ তখন 


ণ$ নবা রসায়নী বিদা] 


ধাহার! এই বিদ্যার চর্চ। করিক্েন লোকে তীছাদ্দিগকে“ষাহুকর” বালত ।' 
এই গ্রন্দরক্জালিক ব! পৈশাচিক বিদ্যা 'মালোচনা করার জন্ত তখন 
বেকনকে অক্াফোর্ডের একটা নিভৃত কক্ষে চতৃুদ্দশ বৎসর কারারুদ্ধ 
থাকিতে হইয়াছিল | যাহার! তখন প্রাককৃততন্ব বা পদার্থবিদ্যা 
আলোচনা! করিয়া জ্ঞানান্বেষণে ব্যাপুত থাকিতেন, তাহাদিগকে 
এই প্রকারে পাপের প্রায়শ্চিন্ত করিতে হইত। 


পূর্বে উল্লিথিত হইয়াছে যে, জল অতি পুরাকাল হইতে 
মৌলিক পদার্থ এবং পঞ্চভুতেব মধ্যে অন্ততম বলিয়া সাধা- 
রণ্ে ধারণা ছিল। পরে কাবেগ্স প্রভৃতি প্রসিদ্ধ র'সায়নিক 
পণ্ডিতগণের পর্ীীক্ষ। দ্বার! 'প্রমাণ হুইয়াছে যে, জল মৌণিক পদার্থ 
নঞ্জ, সম্পূর্ণ যৌগিক পদার্থ এবং ছুইটা অদৃশ্য বায়বীয় পদার্থের 
রাসায়নিক সংযোগে উৎপন্ন । আধুনিক সমূদয় মৌলিক পদার্থ 
সন্মদ্ধেও সকলের এইবধপ ধারণা থাক] আবশ্যক । আমর! 
যে সকল পদার্থকে এখন মৌলিক পদার্থ বলিয়া গণ্য 
করিতেছি, তাছাদের মৌ'লিকতু জন্বন্ধেও এইরূপ সংশয় সহজেই 
আসিরা থাকে। অর্থাৎ ফোন [মীলক পদার্থ হইতে যদ্দি 
কোনরূপ অভিনব প্রক্রিয়া খারা ভনিষ্যতে আরও নূতন পদার্থ 
আবিষ্কৃত হয়, তখন তাহার মৌলিকত্বলুপ্ত হুইয় তাহাকে যৌগিক 
পদার্থ বলিয়] গণা করিতে হইবে। রবার্ট বসল তাহার “সংশযবাদী 
'রাসায়নিক* নামক পুস্তকে জিখিয়াছেন যে সমস্ত মৌলিক পদার্থের 
পূর্ণ সংখ্যা নির্ণয় করা অসস্তব, অর্থাৎ যে, সকল পদার্থকে অগ্যাপি কোন- 
রূপ প্রক্রিয়! দ্বার বিশ্লিষ্ট করিতে পার! যায় নাই, তাহাদিগকে 
আপাততঃ মৌলিক পদার্থ বপিয়া স্বীকার করিতে হইবে। 
তিনি কোনও শান্ত্রকে অভ্রাস্ত বলিয়া! ম।নেন নাই এবং চিরপ্রচলিত 


ও তাহার উৎপত্তি । ৭৫" 


অনেক মতের বিরুদ্ধে খড়া উত্তোলন করিয়! ভাবি জ্ঞানোন্নতির পথ 
পরিষ্কার করিয়াছেন। 

আমাদের ভারতবর্ষ ষে ব্রাহ্মণশাসিত এবং জাতিভেদ ও শান্ত্রবাদ- 
গ্রস্ত হুইয়া চিরকাল কুসংক্কারাচ্ছন্ন ছিল, 'এমন নহে। প্রাচীন 
ভারতেও অন্ুসন্ধিৎস! বৃত্তি যথেষ্ট বলবতী হিল এবং স্থাধীন চিন্তা 
জোত অপ্রতিহতভাবে প্রবাহিত হইয়াছিল। এমন কি, মহষি 
কপিল ঈশ্বরের অস্তিত্ব পর্যাস্ত স্বীকার করেন নাট | কেননা ইহ! 
সহজে সপ্রমাথ হয় না। কপিল তথাপি বেদের দোহাই দিয়াছেন। যাহ। 
হউক ষড়দর্শন ও উপনিষদে বেদ অভ্রান্ত ও অপৌরুষের বলিয়! স্বীকৃত 
হইয়াছে, গ্ুতরাং সমগ্র হিন্দুজাত্র মুখ বদ্ধ হইয়াছে। কিন্তু চার্বাক' 
মুনি এ্রুতিও অগ্রাহ্য করিয়া ঘোষণা! করিলেন ১-- 

“কতিপর প্রতারক ধূর্থেরা বেদ স্ষ্টি করিয়া, তাহাতে স্বর্থ নরকাদি 
নানা প্রকার অলৌকিক পদার্থ প্রদর্শন করত, সকলকে অন্ধ করিয়!, 
রাখিয়'ছে এনং তাহারা স্বয়ং উর সকল বেঙগবিধির অনুষ্ঠান করত জন- 
মমাছের প্রবৃত্তি জন্মাইয়াছে এবং ব্রাজাদিগকে যাগাদিতে প্রবৃত্ত, 
করাইয়। তাহাদিগের নিকট হইতে বিপুল অর্থলাভ করিয়! শ্বীয় শ্পীয় 
পরিহ্গন প্রতিপালন করিয়াছে । তাহাদিগের অভিসন্ধি বুঝিতে ন! 
পারিয়ণ, উত্তরকালীন লোক সকল এঁ সমস্ত বেদোক্ত কার্য্ের অনুষ্ঠান 
করাতে, বহু কাল অবধি এই প্রথা গ্রচঞ্তি হইয়া আসিতেছে । 
বৃহস্পতি কঠিয়াছেন অগ্রিহোত্র, বেদোধ্যয়ন, দণ্ডধারণ, ভম্মগুঙ্ঠন এই” 
সমস্ত বুদ্ধিপৌরুষহীন ব্যাভিদিগের উপজীবিকা মাত্র। বেদে লিখিত 
আছে, পুত্রেষ্টিযাগ করিলে পুত্র জন্মে, কারীরীযাগ করিলে বৃষ্টি হয়, 
শোনযাগ করিলে শক্রনাশ হয়। তন্থুসারে অনেকেই এ সকল 
কর্মের অনুষ্ঠান করিতেছেন, কিন্ত কোন ফলই দৃষ্ট হইতেছে না।* 


“শু নব্য রলায়নী বিদা! 


এক স্থানে বিধি আছে হৃর্য্যোদর় হইলে 'অপ্লিচোত্র ধাগ করিবে, অন্ত 
স্থানে কহিতেছে, সবষ্যোদয়ে হোম করিবেক না, যে ঝক্কি হুর্যোদয়ে 
'ছোম করে, তাহার গরদত্ত আছাত রাক্ষমের ভোগ্য হয়। এইরূপে 
বেদে অনেক বাকোর গ্রস্পর বিরোধ দুই হইয়া থাকে এবং উন্মদ্- 
প্রলাপের ন্যায় এক কথার পুনঃপুনঃ উল্লেখও দিতে পাওয়। বায়। 
যখন এই সমস্ত দোষ দেখ। বাইতেছে, তখন কি প্রকারে বেদের 
প্রামাণ্য স্বাকার করা যাইতে পারে? অতএব, স্বগ্ণ, আপব্গ্গ ও 
পারলোৌকিক আত্ম! সমস্তই মিথ্যা এবং ব্রাঙ্গণ ক্ষত্তিয়'দির ত্রহ্মচধ্যাদ 
ডারি আশ্রমের কর্তব্য কম্ম সবলওনিক্ষল। ফলতঃ অগ্নিহোত্ 
প্রভৃতি কর্ম সকল অবোধ ও অক্ষম বাক্তিদিগের জীবনোপায় 
মাত্র । 
ধূর্তেরা ইনাও কহিয়। থাকে 'ঘ, জ্যোতিয্টামাদি বজ্ে যে জীবের 
ছেদন হইয়া থাকে সে স্বর্গলোকে গমন করে। বাদ এ ধূর্তদিগের 
ইহান্তে সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকে, তবে তাহ।রা বজ্ধেত আপন আপন পিতা 
মাতা প্রভৃতির মন্তকচ্ছেদন না করে কেন? তাহা হইলে অনায়াসে 
পিশ। মাত। প্রভৃতির স্বর্গলাভ হইতে পারে, এবং গাহাদিগকে আর 
'পিত' মাতার শ্বর্গের নিমিত্ত শ্রান্ধাদি কারয়। বৃথা কষ্ট তভে'গ করিতে 
হয় না! । আর শ্রাদ্ধ করিলে যদ্দ নৃত ব্যক্তির তৃপ্ত হয়, তবে কোন 
বাক্তি বিদেশৈ গমন করিলে তাহাকে পাথেয় দিবার প্রয়োজন কি? 
. বাটাতে তাহার উদ্দেশে কোন ব্রা্ধণকে ভোজন করাইলেই তাহার 
হেপ্তি জম্মিতে পারে । অপিচ, এই স্থানে শ্রাদ্ধ করিলে য'দ স্বগগাম্থত 
বাক্তির তৃপ্তি 5য় তবে অঙ্গনে শ্রাদ্ধ করিলে প্রাসাদেপরি্বিত ব্যক্তর 
সৃপ্তি ন1 হয় কেন ? যাহাতে কিঞ্চিছুচ্চস্থিতের তৃপ্তি না হয় তবে তদ্দ রা 
“অতুযুঙ্চ স্বর্গস্থিত ব্যক্তির তৃপ্তি কিপ্রকারে সম্ভব হইতে পারে 2? অত- 


ও ভাহার উৎপত্তি । এ 


এব মৃত বাক্তির উদ্দেশে যে সমস্ত প্রেতরুত্য অনুষ্ঠিত হইয়া] থাকে, 
তাহ। ত্রাঙ্মণদিগের উপজীবিক। মাত্র, বস্তুতঃ কোন ফলোপধায়ক 
নহে ।” (সর্বদর্শনসংগ্রহ--জয়নারায়ণ তর্কপঞ্চাননকৃত অনুবাদ)। 


নেই সময়ে স্বাধীন চিন্তা কতদূব উচ্চ শিখরে আরোহণ করিয়াছিল 
তাহ চার্বাক দর্শন আলোচন! করিলেই বুঝা যায়। তাতার পর 
বৌদ্ধ ধর্মের প্রাহভাবে সাম্য, মৈত্রী ও বিশ্বজনীন ভ্রাতৃভাব ভারতের 
সর্বত্র ঘোষিত হইল । তাহার ফলে জ্ঞানোন্নতির পথ সর্বসাধারণের 

ক্ষে উন্মস্ত হওয়ায় সব্ব পান্ত্রের সম্যক আলোচনা আরম্ভ 
হইয়াছিল । বিশেষতঃ বৌদ্ধগণ রষাঁয়ন ও চিকিৎস। শাস্ত্রের যথেঃ 
উন্নতি সাধন করিয়াছিলেন। একা নাগার্জ নের নাম করিলেই, 
যথেষ্ট হইবে। ইনি স্ুশ্রুত তত্ত্ব পরিবর্ধিত ও নূতন আকাবে 
প্রণয়ন করিয়াছিলেন বগিয় প্রবাদ আছে। বাস্তবিক স্ুশ্রতে বৌদ্ধ 
মতেয় ভূরি ভূরি প্রমাণ পাওর়। বান়। ইহাতে শব-ব্যবচ্ছেদের 
সুন্দর নিয়মাবলী এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণ বাতীত কিছুই গ্রহণ' 
করিবে না৷ এমন উপদেশ দৃষ্ট হয়। অগ্টাঙ্গৃদয়-প্রণেতা বাগ ভটও, 
বৌদ্ধ ছিলেন; পাছে হিন্দুরা তাহার মত অগ্রাহা করেন এই 
বুঝিয়া স্কানে স্থানে শ্লেষ ব1 বাঙ্গচ্ছলে বলিয়াছেন, 

“যদি খধিপ্রণীত বলিয়াই গ্রন্থবিশেষ শ্রদ্ধেয় হয়, তবে কেবল 
চরক ও হুক্রত অধীত হয় কেন? ভেল প্রভৃতি আুর্কেদীর তন্ত্র এক- 
প্রকার বর্জিত হইপ্লাছে কেন £ অতএব, কেবল গ্রস্থনিবিষ্ট বিষয়- 
গুলির প্রতি লক্ষ্য রািয়] সেই গ্রন্থের নারত্ব সম্বন্ধে বিচার কর] উচিত” 
পরবর্তী স্থলে আবার বলিতেছেন £--“ওষধের গুণ লইয়াই যখন কথা, 
ব্রহ্থা স্বপ্নং প্রয়োগ করুন বা অপর কেহ গ্রয়োগ করুন তাহাতে ক্ষতি, 
নাই'”। 


*৮ নৰা রসায়নী বিদাা 


মহাত্ব। নাগাক্,ন কর্ভৃক এতদ্দেশে রসায়নীবিদ্যার যে গ্রভূত উন্নতি 
সাধিত হইয়াছিল 'তদ্বিষয়ে নন্দেচ নাই । চক্রপাণি বলেন, তিনি যে 
লৌহ-রসায়ন ব্যবস্থা করিতেছেন তা নাগার্জ,ন কর্তৃক প্রথম বিবৃত। 
রসেন্দ্রচিস্তামণিকার মতে তিনিই রাসাম্মনিক তিধ্যকৃপান্তন প্রক্রিয়ার 
'আবিষ্ব্ত। | 

প্রাচীন ভারতে কেবল যে দর্শন ও সাহিত্য উন্নতির পরা কাষ্ঠ। 
প্রাপ্ত হইয়াছিল এমন নগ্ে। আমুর্ধেদ, জ্যোতিষ, গণিত ও *সায়ন 
শাস্ত্রেরও বিশেষ আলোচন। হইয়াছিল। এখন প্রশ্্ হইতেছে--এ সমস্ত 
'বিদা। কি প্রকারে লোপ পাল? কেহ কেহ খলেন, মুসলমান 
আখিপতো রাজন্তগণ শ্রীন্রষ্ট ও বিধ্বস্ত হওয়াই ইহার প্রধান 
কারণ। কিন্তু তৎপাময়িক ইত্িহাস-পাঠে এই যুক্তি সারগর্ভ বলিয়া 
বোধ হয় না। মুদলনানদিগের আর্ধাবর্ত জয়ের অনেক পুর্ব 
হইতেই হিনুদিগের এই অনুন্ধিৎস! বৃত্তির হাস হইতে আরম্ত হইয়া- 
ছিল। আর তাহাই যদ হইত, তবে পুর্ববোক্ত সন্দয় বিদ্যার আলো- 
চন! দাক্ষিণাত্যে আশ্রয় গ্রহণ কারত। কারণ তথায় মুসলমান- 
আধিপতা কখনও স্থায়িরূপে প্রতিষ্ঠিত হয় নাই । যুজজমানদিগের 
শাসনকালে বাঙ্গাল। দেশে বিশেষতঃ নবদ্বীপ ওবিক্রমপুরে হিন্দুশাস্ত্রের 
যথেষ্ট চচ্চ1 ছিল। এই উভয় স্থানই নবাবের রাজধানীর সন্গিকট 
ছিল। স্ৃ্ভাবে বলতে গেলে, উপনিষদ রচনাকাল হইতে আরস্ত 
করিয়! বৌদ্দধন্মের প্রৌঢ়াবস্থা পর্য্যন্ত সমর মধ্যে হিন্দুর মন্তিকচালনা বা 
মীনপিক চিন্তার দ্বার। যাহা কিছু গৌরব করিবার বিষয় তাহ! সাধিত 
হইয়াছিল | গুত্ুতত্বাবংগণণ এই সময়কে অর্থাৎ শুষ্টক্বন্মের ৩০০ 
বৎসর পূর্ব হষ্টতে ৭০০ খৃঃমবদ পর্যযস্ত ভারতের জ্ঞানে'ম্নতি বা স্বাধীন 
চিন্তার যুগ আধ্য। গ্রদান করিয়াছেন। এই সময়ের নধ্যে পাঁণিনি 


পি 


ও তাহার উৎপত্তি 


সাহিতাজগতে অতুলনীয় ব্যাকরণ প্রণয়ন করেন) অসামান্য 
ধীশত্তিসম্পন্ন মহাতৈজ্জ। খধিগণ যড়দর্শন রচনা করেন এবং বুদ্ধদেব 
“অহিংস পরমো ধন» ধ্বজা উত্তোলন করিয়া সাম্য) মৈজী এবং সর্ধ- 
জীবে ভ্রাতৃভাব জগতে ঘোষণা করিয়। সমগ্র মানব-হ্বদয়ে উচ্চাকাজ্ষার 
আদর্শ উপস্থিত করেন। আধ্্যভট্ট, ব্রহ্মগতপ্ত এবং বরাহমিহির 
প্রভ্‌ তি মনন্থিগণ জ্যোঙ্ডিৰ ও গণিতশাস্ত্রের উন্নতি ও পু্টসাধন করিয়া, 
ছিলেন। কিস্ত হার! চির দিন কথনও সমন যায় না) উন্নতি 'ও 
অধোগতির চক্রবৎ পরিবর্তন হইতেছে | কি প্রকারে স্বাধীন চিন্ত। 
ও জ্ঞানচ্চ| ক্রমশঃ বিলুপ্ত হইয়াছে তাহ! চিন্তাশীল তারতবাসী 
মাত্রেই বিবেচনার বিষয়। 


সমাপ্ত